২ মিনিটে অনলাইনে বিদ্যুৎ বিল চেক ও পরিশোধ করার নিয়ম

আপনি কি ঘরে বসে ২ মিনিটে অনলাইনে বিদ্যুৎ বিল চেক ও পরিশোধ করার নিয়ম সর্ম্পকে জানতে চাচ্ছেন। ডিজিটাল যুগে এখন ঘরে বসে প্রায় সব কাজ করা সম্ভব এমনকি বিদ্যুৎ বিল চেক, পরিশোধ, বিদ্যুৎ বিল চার্জ কত কাটে এবং বিল দেখার নিয়ম সব কিছুই করা যায়।

অনলাইনে-বিদ্যুৎ-বিল-চেক

বিস্তারিত তথ্য জানতে চলুন জেনে নেই, কিভাবে ঘরে বসে ২ মিনিটে অনলাইনে বিদ্যুৎ বিল চেক ও পরিশোধ করার নিয়ম এমনকি বিদ্যুৎ বিল সর্ম্পকিত সকল তথ্য।

পেজ সূচিপত্রঃ ২ মিনিটে অনলাইনে বিদ্যুৎ বিল চেক ও পরিশোধ করার নিয়ম

অনলাইনে বিদ্যুৎ বিল চেক করার নিয়ম

আজকাল বিদ্যুৎ বিল দেখার জন্য অফিসে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর দরকার নেই। ঘরে বসেই অনলাইনে দুই মিনিটেই বিদ্যুৎ বিল চেক করা যায়। অনলাইনে বিদ্যুৎ বিল দুটি মাধ্যমে চেক করা যায় একটি বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে আরেকটি বিদ্যুৎ অফিসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। চলুন দুটি মাধ্যমেই কিভানে অনলাইনে বিদ্যুৎ বিল চেক করতে হয় তা জেনে নেই।

বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল চেকঃ
  • প্রথমে আপনার মোবাইলে ইন্টারনেট থাকেতে হবে,
  • তারপর বিকাশ অ্যাপটি ওপেন করতে হবে,
  • তারপর হোম স্ক্রিনে থেকে পে বিল অপশনে ক্লিক করতে হবে,
  • তারপর বিদ্যুৎ অপশনটি বেছে নিতে হবে,
  • আপনার এলাকার বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠান বেছে নিন যেমন পল্লী বিদ্যুৎ, DESCO, NESCO ইত্যাদি।
  • তারপর আপনার মিটার নাম্বার বা অ্যাকাউন্ট নাম্বারটা বসিয়ে দিন,
  • নাম্বার বসানোর পর কনফার্ম বাটনে চাপ দিলেই স্ক্রিনে আপনার বিলের সব তথ্য চলে আসবে কত টাকা বিল হয়েছে, কত ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়েছে, সব দেখতে পাবেন।
এভাবে বিকাশ অ্যাপ দিয়েই ঘরে বসে সহজে বিদ্যুৎ বিল চেক করে ফেলতে পারবেন, কোনো ঝামেলা ছাড়াই।
বিদ্যুৎ অফিসের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল চেকঃ
  • প্রথমে আপনার মোবাইল ইন্টারনেট কানেকশন অন করতে হবে,
  • ব্রাউজারে গিয়ে আপনার বিদ্যুৎ অফিসের ওয়েবসাইটে ঢুকবেন যেমন পল্লী বিদ্যুৎ হলে পল্লী বিদ্যুতের ওয়েবসাইট, DESCO হলে DESCO-র ওয়েবসাইট,
  • ওয়েবসাইটে বিল চেক নামে একটা অপশন পাবেন, সেখানে ক্লিক করতে হবে,
  • এবার আপনার মিটার নাম্বার বা কাস্টমার নাম্বারটা বসিয়ে দিতে হবে,
  • তারপর সাবমিট বাটনে চাপ দিলেই আপনার সামনে বিলের সব তথ্য চলে আসবে।

অনলাইনে বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার নিয়ম

আমরা অনেকেই বিদ্যুৎ বিল দিতে লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলাতে যেতে চাই না, তাই ঘরে বসে কিভাবে বিদ্যুৎ বিল দিতে হয় এই নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন? আবার এখনও অনেকে এইটাও জানে না যে আসলেই ঘরে বসে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা সম্ভব। চলুন জেনে নেই ধাপে ধাপে কিভাবে বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে বিদ্যুৎ বিল দেওয়ার নিয়মঃ

১. প্রথমে আপনার মোবাইলে বিকাশ অ্যাপটা ওপেন করে নিতে হবে,
২. এরপর বিকাশ অ্যাপের হোম স্ক্রিনে পে বিল অপশনে ক্লিক করতে হবে,
৩. এরপর বিদ্যুৎ অপশনটিতে ক্লিক করতে হবে,
৪. এরপর আরেকটি অপশন আসবে আপনার এলাকার বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠান বেছে নিতে হবে,
৫. এরপর যেই মাসের বিল দিচ্ছেন এইটি বেচে নিতে হবে,
৬. তারপর আপনার মিটার নাম্বার বা একাউন্ট নাম্বারটা দিতে হবে,
৭. বিল অ্যামাউন্ট স্ক্রিনে চলে আসবে, সেটা ভালো করে দেখে নিতে হবে,
৮. এরপর আপনার পিন নাম্বার দিয়ে টেপ করে ধরে রাখতে হবে কনফার্ম করতে,
৯. কনফার্ম করার সাথে সাথে আপনার বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ হয়ে যাবে এবং মোবাইলে একটা কনফার্মেশন মেসেজ চলে আসবে।
এভাবেই মূলত বিকাশের মাধ্যমে অনলাইনে বিদ্যুৎ বিল দেওয়া হয়।

বর্তমানে বিদ্যুৎ বিল প্রতি ইউনিট কত টাকা

আপনি যদি বিদ্যুৎ বিল কত টাকা ইউনিট এইটা জানতে চান তাহলে মনে রাখবেন, বিদ্যুতের দাম সবার জন্য এক রকম হয় না, আপনি কতটুকু বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন তার উপর নির্ভর করে দাম বাড়ে বা কমে। ২০২৬ সালের জুন মাস থেকে বিইআরসি যে নতুন দাম কার্যকর করেছে, অনুযায়ী বিদ্যুৎ বিল কত টাকা ইউনিট জেনে নেওয়া যাক।

আবাসিক গ্রাহকদের জন্য নতুন ইউনিট রেটঃ
  • ০ থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহার করলে প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ৩২ পয়সা,
  • ৫১ থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহার করলে প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ১৮ পয়সা,
আরও বেশি ব্যবহার করলে ধাপে ধাপে দাম বাড়তে থাকেঃ
  • ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট ব্যবহার করলে প্রতি ইউনিট ১৫ টাকা ১ পয়সা ,
  • ৬০০ ইউনিটের বেশি ব্যবহার করলে প্রতি ইউনিট ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা পর্যন্ত হতে পারে।
তাই আপনি যত বেশি বিদ্যুৎ খরচ করবেন, ইউনিট প্রতি দামও তত বাড়তে থাকবে। এলাকাভেদে দামে সামান্য পার্থক্য থাকতে পারে, তাই সঠিক দাম জানতে নিজের বিদ্যুৎ অফিসের ওয়েবসাইট চেক করে নিতে পারেন।

বিদ্যুৎ বিল কত ধরনের হয়

আমরা অনেকেই জানি না বিদ্যুৎ বিল কয় ধরনের হয়ে থাকে? বিদ্যুৎ বিল মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে একটা প্রিপেইড আর আরেকটা পোস্টপেইড। চলুন জেনে নেই দুইটার মধ্যে পার্থক্য কীঃ

১. প্রিপেইড বিদ্যুৎ বিলঃ এই সিস্টেমে আপনাকে আগে টাকা রিচার্জ করতে হয়, তারপর সেই টাকা অনুযায়ী বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারবেন। অনেকটা মোবাইলের রিচার্জের মতো যত টাকা রিচার্জ করবেন, তত ইউনিট বিদ্যুৎ পাবেন। টাকা শেষ হয়ে গেলে বিদ্যুৎ সংযোগ নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে, তাই আবার রিচার্জ করতে হয়। এখন অনেক এলাকায় স্মার্ট প্রিপেইড মিটার আছে, যেখানে বিকাশ বা নগদ দিয়েও সহজে রিচার্জ করা যায়।

২. পোস্টপেইড বিদ্যুৎ বিলঃ এই সিস্টেমে আগে বিদ্যুৎ ব্যবহার করবেন, তারপর মাস শেষে যত ইউনিট খরচ হয়েছে তার হিসাব করে বিল আসবে। এটাই সাধারণ পুরনো নিয়ম, যেটা বেশিরভাগ বাসাবাড়িতে এখনও চালু আছে। মিটার রিডিং দেখে প্রতি মাসে বিল তৈরি হয়, আর সেই বিল নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়।
অনলাইনে-বিদ্যুৎ-বিল-চেক

বাটন ফোনে বিদ্যুৎ বিল চেক করার নিয়ম

অনেকের স্মার্টফোন নেই তাই বলে কি বিদ্যুৎ বিল চেক করা যাবে না? অবশ্যই স্মার্টফোন না থাকলেও বাটন ফোন দিয়েও USSD কোড ডায়াল করে সহজে বিদ্যুৎ বিল চেক করা যায়। বিকাশের USSD কোড ব্যবহার করে কীভাবে করবেন, তা ধাপে ধাপে জেনে নেওয়া যাকঃ
  • প্রথমে আপনার বাটন ফোনে *247# ডায়াল করতে হবে,
  • এরপর মেনু থেকে বিল পে অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে,
  • এরপর ইলেকট্রিসিটি অপশনটি বেছে নিতে হবে,
  • এবার আপনার বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠান বেছে নিন, যেমন পল্লী বিদ্যুৎ হলে পল্লী বিদ্যুৎ সিলেক্ট করতে হবে,
  • এরপর চেক বিল অপশনটি সিলেক্ট করতে হবে,
  • আপনার বিলের কাগজে দেওয়া এসএমএস বিল একাউন্ট নাম্বারটি লিখতে হবে,
  • এবার বিলের মাস ও বছর ফরম্যাটে লিখতে হবে, যেমন ২০২৬ সালের আগস্ট মাসের বিল দেখতে চাইলে লিখবেন 082026।
  • সাবমিট করলেই স্ক্রিনে আপনার বিলের পরিমাণ দেখতে পাবেন।
এভাবে ইন্টারনেট বা অ্যাপ ছাড়াই বাটন ফোন দিয়ে বিদ্যুৎ বিল চেক করে ফেলতে পারবেন।

বিকাশে প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করার নিয়ম

অপনাদের যাদের বাসায় প্রিপেইড মিটার লাগানো আছে, তারা এখন বিকাশ অ্যাপ দিয়েই ঘরে বসে সহজে মিটার রিচার্জ করতে পারেন। মোবাইলের রিচার্জ যেভাবে করেন, অনেকটা সেভাবেই মিটার রিচার্জ করা যায়। চলুন জেনে নেই কীভাবে করবেনঃ

১. প্রথমে আপনার মোবাইলে বিকাশ অ্যাপটি ওপেন করতে হবে,
২. হোম স্ক্রিন থেকে পে বিল অপশনে ক্লিক করতে হবে,
৩. এবার আপনার এলাকার বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠান বেছে নিন, যেমন পল্লী বিদ্যুৎ হলে পল্লী বিদ্যুৎ প্রিপেইড,
৪. এবার আপনার মিটারের একাউন্ট নাম্বার এবং কন্ট্যাক্ট নাম্বার দিবেন,
৫. কত টাকা রিচার্জ করতে চান, সেই টাকার পরিমাণ দিতে হবে,
৬. এবার সব তথ্য একবার ভালো করে চেক করে নিন মিটার নাম্বার আর টাকার অ্যামাউন্ট ঠিক আছে কিনা দেখে নিন,
৭. আপনার বিকাশের পিন নাম্বার দিয়ে কনফার্ম করুন। কনফার্ম হওয়ার সাথে সাথে আপনার মিটারে টাকা যোগ হয়ে যাবে এবং মোবাইলে একটা মেসেজ চলে আসবে।

এভাবে বিকাশ দিয়েই ঘরে বসে সহজে প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করে ফেলতে পারবেন, দোকানে গিয়ে কার্ড রিচার্জের ঝামেলা ছাড়াই।

বিকাশে বিদ্যুৎ বিল দিলে চার্জ কত কাটে

নিশ্চই জানতে চান যে, বিকাশে বিদ্যুৎ বিল দিলে বিল চার্জ কত কাটবে। বিকাশে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করলে সবসময় চার্জ কাটে না, বরং কিছু নিয়ম মেনে চললে একদম ফ্রিতেই বিল দিতে পারবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক আসল নিয়মটা কীঃ

১. প্রতি মাসের প্রথম বিল সবসময় ফ্রিঃ আপনি বিকাশ অ্যাপ থেকে অথবা *247# ডায়াল করে প্রতি মাসের প্রথম বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বা টেলিফোন বিল একদম চার্জ ছাড়াই দিতে পারবেন।

২. দিনে একটার বেশি বিল দিলেঃ তবে দিনে সর্বোচ্চ ১টি বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি বা টেলিফোন বিলই চার্জ ফ্রি করা যায়। একই দিনে যদি আরও বিল দিতে চান, তাহলে সেক্ষেত্রে চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে, আর সেই চার্জের পরিমাণ বিলার ভেদে ভিন্ন হতে পারে।

৩. ক্যাশব্যাকের সুবিধাও আছেঃ মজার ব্যাপার হলো, বিল দিলে চার্জ কাটলেও অনেক সময় সেই চার্জের সমপরিমাণ টাকা ইনস্ট্যান্ট ক্যাশব্যাক হিসেবে ফেরত পাওয়া যায়, প্রতি বিলে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা পর্যন্ত।

মনে রাখবেন, অফার ও চার্জের নিয়ম সময়ের সাথে পরিবর্তন হতে পারে, তাই বিল দেওয়ার আগে বিকাশ অ্যাপে বা তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে সর্বশেষ তথ্য একবার দেখে নেওয়া ভালো হবে আপনার জন্য।

বিকাশের মাধ্যমে বকেয়া বিল পরিশোধের নিয়ম

আমরা অনেক সময় টাকার সমস্যার কারণে আবার মাঝে মাঝে ব্যস্ততায় বা ভুলে বিল দিতে দেরি করে ফেলি, আর তখন বিলটা বকেয়া হয়ে যায়। তবে, বকেয়া বিলও বিকাশ দিয়ে খুব সহজে দেওয়া যায়। কীভাবে করবেন চলুন জেনে নেইঃ

১. প্রথমে আপনার মোবাইলে বিকাশ অ্যাপটা অপেন করবেন,
২. তারপর হোম স্ক্রিনে পে বিল লেখা অপশনটা পাবেন, সেখানে ক্লিক করবেন,
৩. এবার আপনার বিদ্যুৎ অফিসটা বেছে নিন, মানে পল্লী বিদ্যুৎ হলে পল্লী বিদ্যুৎ।
৪. এরপর আপনার মিটার নাম্বার বা একাউন্ট নাম্বারটা লিখে দিবেন ঠিক যেভাবে বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়,
৫. নাম্বার দেওয়ার পর স্ক্রিনে আপনার সব বিল চলে আসবে,
৬. শুধু এই মাসেরটা না, আগের যে মাসগুলোর বিল বাকি ছিল সেগুলোও দেখাবে।
৭. একেবারে সব বকেয়া বিল একসাথে দেখতে পাবেন কত টাকা মোট বাকি আছে।
৮. এবার নিচে পে বাটনে চাপ দিলে টাকার পরিমাণটা আরেকবার দেখে নিতে পারবেন, ঠিক আছে কিনা।
৯. তারপর আপনার বিকাশ পিন নাম্বারটা দিয়ে দিন।
১০.পিন দেওয়ার পর স্ক্রিনের নিচে চেপে ধরে রাখতে হবে কয়েক সেকেন্ড, তাহলেই আপনার বকেয়া বিল পরিশোধ হয়ে যাবে।
১১. সাথে সাথে মোবাইলে একটা মেসেজ আসবে, যেখানে লেখা থাকবে আপনার বিল সফলভাবে জমা হয়েছে।
অনলাইনে-বিদ্যুৎ-বিল-চেক

নগদ দিয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের নিয়ম

আমরা অনেকেই আছি যারা নগদ ব্যবহার করি, তারা চাইলে বিকাশের মতোই নগদ দিয়েও ঘরে বসে সহজে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে পারবেন। যাদের নগদ অ্যাকাউন্ট আছে তারা কীভাবে করবেন চলুন জেনে নেইঃ

ঠিক বিকাশ অ্যাপের মতোই প্রথমে আপনার আপনাকে মোবাইলে নগদ অ্যাপটা খুলতে হবে। বিল পে লেখা অপশনটা ক্লিক করতে হবে, তারপর ইলেকট্রিসিটি অপশনটা সিলেক্ট করতে হবে। এরপর আপনার বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠান বেছে নিন, যেমন পল্লী বিদ্যুৎ হলে বিআরইবি সিলেক্ট করবেন ঠিক সব বিকাশ অ্যাপের মতোই শুধু বিকাশ এর জায়গায় নগদ অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে।

তারপর ঠিক আগের মতো আপনার মিটার নাম্বারটা দিয়ে বিলের পরিমাণটা লিখে, অথবা সিস্টেম নিজে থেকেই বিলের অ্যামাউন্ট দেখিয়ে দেবে। তারপর আপনার নগদের পিন নাম্বারটা দিয়ে স্ক্রিনের নিচে চেপে ধরে রাখলে কয়েক সেকেন্ড বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ হয়ে যাবে। চাইলে অ্যাপ ছাড়াও *167# ডায়াল করে একইভাবে বিল দিতে পারবেন, বাটন ফোন থেকেও এই কোড কাজ করে।

বিদ্যুৎ বিল সময়মতো না দিলে কী হয়

আমরা অনেকেই অনেক সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ বিল সময়মতো দিতে পারি না। কিন্তু এটা যদি অনেদিন চলতে থাকে, তাহলে বেশ কিছু ঝামেলায় পড়তে হতে পারে। চলুন জেনে নেই কী কী সমস্যা হতে পারেঃ

১. নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিল না দিলে বিলের সাথে অতিরিক্ত চার্জ ফি যোগ হয়ে যায়। তাই যত দেরি করবেন, তত বেশি টাকা গুনতে হবে।

২. আইন অনুযায়ী, কোনো গ্রাহক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ নির্ধারিত পদ্ধতি মেনে সেই গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। মানে বিল বাকি রাখলে হুট করে বিদ্যুৎ চলে যেতে পারে।

৩. একবার বিল বাকি রাখলে সেটা এমনি এমনি মাফ হয় না, বরং পরের মাসের বিলের সাথে যোগ হতে থাকে। এভাবে বকেয়ার পরিমাণ ক্রমাগত বাড়তেই থাকে।

৪. সংযোগ একবার বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে, বকেয়া বিল আর প্রয়োজনীয় ফি দিয়ে আবার সংযোগ চালু করাতে হয়, যেটা অনেক সময়ের ব্যপার ও ঝামেলার।

করণীয় কী? তাই মাস শেষে বিল চেক করে সময়মতো পরিশোধ করা ভালো। বিকাশ, নগদ বা অ্যাপের মাধ্যমে রিমাইন্ডার সেট করে রাখলে বিল দিতে ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।

অনলাইনে বিদ্যুৎ বিল চেক সর্ম্পকে প্রশ্ন FAQ

প্রশ্নঃ বিদ্যুৎ বিল দেখব কী ভাবে?
উত্তরঃ নিজের বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে গিয়ে মিটার নাম্বার বা অ্যাকাউন্ট নাম্বার দিলেই বিল দেখা যায়। এছাড়া বিকাশ, নগদ অ্যাপ দিয়েও সহজে বিল দেখা যায়।

প্রশ্নঃ বর্তমানে বিদ্যুৎ বিল কত?
উত্তরঃ এলাকা ও ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে বিল ভিন্ন হয়। ২০২৬ সালের নতুন রেট অনুযায়ী প্রথম ৫০ ইউনিট পর্যন্ত প্রতি ইউনিট ৫ টাকা ৩২ পয়সা, আর বেশি ব্যবহার করলে ধাপে ধাপে দাম বাড়ে।

প্রশ্নঃ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের হেল্পলাইন নাম্বার কত?
উত্তরঃ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের হটলাইন নাম্বার ১৬২০০। এছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগের হটলাইন ১৬৯৯৯।

প্রশ্নঃ DESCO পোস্টপেইড বিল চেক করার নাম্বার কী?
উত্তরঃ DESCO র হটলাইন নাম্বার ১৬১২০। এই নাম্বারে কল করে বিল এর যেকোনো সাহায্য নেওয়া যায়।

প্রশ্নঃ DESCO প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিল কত?
উত্তরঃ DESCO-এর ইউনিট রেটও আবাসিক গ্রাহকদের ধাপভিত্তিক হারেই নির্ধারিত হয়, যা BERC-এর নির্ধারিত জাতীয় রেটের সাথে মিলে যায় ০-৫০ ইউনিটে সর্বনিম্ন রেট থেকে শুরু করে বেশি ব্যবহারে বাড়তে থাকে।

প্রশ্নঃ প্রিপেইড আর পোস্টপেইড মিটারের মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তরঃ প্রিপেইডে আগে টাকা রিচার্জ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়, পোস্টপেইডে আগে ব্যবহার করে মাস শেষে বিল দিতে হয়।

প্রশ্নঃ বিকাশ বা নগদ দিয়ে বিল দিতে কি চার্জ লাগে?
উত্তরঃ প্রতি মাসের প্রথম বিল সাধারণত ফ্রি হয়, পরবর্তী বিলে বিলারভেদে সামান্য চার্জ প্রযোজ্য হতে পারে।

প্রশ্নঃ বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকলে কি সংযোগ কেটে দেওয়া হয়?
উত্তরঃ হ্যাঁ, দীর্ঘদিন বিল বকেয়া থাকলে কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে।

প্রশ্নঃ মিটার নাম্বার না জানলে বিল চেক করা যাবে কি?
উত্তরঃ সরাসরি যাবে না, তবে বিদ্যুৎ অফিসে বা তাদের ওয়েবসাইটে ঠিকানা দিয়ে মিটার নাম্বার বের করে নেওয়া যায়।

প্রশ্নঃ প্রিপেইড মিটারে ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে কী করব?
উত্তরঃ বেশিরভাগ প্রিপেইড মিটারে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স বা লোন নেওয়ার সুবিধা থাকে, নির্দিষ্ট বাটন চেপে সেটা চালু করা যায়।

অনলাইনে বিদ্যুৎ বিল চেক সর্ম্পকে শেষ কথা

এতক্ষণ আপনারা ২ মিনিটে অনলাইনে বিদ্যুৎ বিল চেক, বাটন ফোনে বিল চেক, বিল পরিশোধ, বিকাশের মাধ্যমে বিল পরিশোধ ইত্যাদি সম্পর্কে জেনেছেন। আশা করছি আমার এই পোস্টটি পড়ে আপনাদের উপকারে আসবে। নিজের কাজের দায়িত্ব নিজে নিন ঝামেলাই পড়তে না চাইলে নিয়মিত নিজের বিল নিজেই ঘরে বসে পরিশোধ করুন।

আরও এমন আপডেট তথ্যপূর্ণ পোস্ট পেতে নোটিফিকেশন অন করে রাখুন এবং কমেন্টে অবশ্যই জানাবেন কোনো রকম প্রশ্ন থাকলে। ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টিপস পয়েন্ট আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url