২ মিনিটে অ্যাপ ছাড়া বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম - ২০২৬

প্রিয় পাঠক আপনি যদি ২ মিনিটে অ্যাপ ছাড়া বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম সর্ম্পকে জানতে চান, যাতে খুব সহজেই নিজের হাতের থাকা বাটন মোবাই বা স্মার্টফোন দিয়ে বিকাশ একাউন্ট খোলতে পারেন। তাহলে নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে অ্যাপ ছাড়া বিকাশ একাউন্ট খোলার যাবতীয় তথ্য সর্ম্পকে।

অ্যাপ-ছাড়া-বিকাশ-একাউন্ট-খোলার-নিয়ম

চলুন জেনে নেই, কিভাবে সহজে ২ মিনিটে অ্যাপ ছাড়া বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম, বিকাশ একাউন্ট চেক, বিকাশ একাউন্ট খোললে কি বোনাস পাওয়া যায় ইত্যাদি সর্ম্পকে বিস্তারিত মনোযোগ দিয়ে পড়বেন যাতে বুঝতে আপনার সুবিধা হয়।

পেজ সূচিপত্রঃ ২ মিনিটে অ্যাপ ছাড়া বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম - ২০২৬

অ্যাপ ছাড়া বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম

বর্তমানে বিকাশ হচ্ছে আমাদের টাকা লেনদেন করার একটা সহজ মাধ্যম। বিকাশ দিয়ে আমরা খুব সহজেই বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে কোনো ঝামেলা ছাড়াই কম সময়ের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে পারি। তাই এখন প্রায় সবার বাটন ও স্মার্টফোনে বিকাশ একাউন্ট খোলা থাকে। অ্যাপ ছাড়া বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম খুব সহজ চলুন ধাপে ধাপে জেনে নেওয়া যাকঃ

  • প্রথমে আপনাকে বাসার কাছের কোনো বিকাশ এজেন্ট পয়েন্টে বা দোকানে যেতে হবে। সাথে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ, যদি বয়স কম হয়, পাসপোর্ট সাইজের ছবি এবং যে সিমে অ্যাকাউন্ট খুলবেন সেই মোবাইল ফোনটা নিয়ে যেতে হবে।
  • মোবাইল থেকে *247# ডায়াল করলে একটি মেনু দেখাবে। সেখান থেকে Registration বা রেজিস্ট্রেশন অপশন বেছে নিন।
  • বিকাশ এজেন্টকে আপনার NID কার্ড দিন তার মেশিনে স্ক্যান বা এন্ট্রি করবেন এবং আপনার আঙুলের ছাপ ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেবেন যাচাইয়ের জন্য।
  • তথ্য যাচাই হয়ে গেলে মোবাইলে একটি নির্দেশনা আসবে, যেখানে ৫ সংখ্যার একটি গোপন পিন সেট করতে বলা হবে। পিনটি নিজে টাইপ করুন, এজেন্টকে কখনোই বলবেন না।
  • পিন সেট হয়ে গেলে সাধারণত কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি কনফার্মেশন মেসেজ আসবে, যার মানে আপনার বিকাশ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় হয়ে গেছে।

সাধারণত এইভাবেই কাছের এজেন্টের মাধ্যমে অ্যাপ ছাড়া বিকাশ একাউন্ট খোলতে হয়। মূলত এই পদ্ধতিতেই অ্যাপ ছাড়া বিকাশ একাউন্ট খোলা যায় USSD কোড দিয়ে তবে এই পদ্ধতিতে আপনাকে অবশ্যই এজেন্টের দোকানে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র বা NID ভেরিফিকেশন করাতে হবে।

অনলাইনে বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম

আপনি যদি অ্যাপ ছাড়া বিকাশ একাউন্ট খোলতে দোকানে যেতে হবে তা ঝামেলার মনে হয় তাহলে ঘরে বসে অ্যাপ দিয়ে অনলাইনে বিকাশ একাউন্ট খোলতে পারবেন। অ্যাপের মাধ্যমে একাউন্ট খুলতে চাইলে স্মার্টফোন, জাতীয় পরিচয়পত্র আর ইন্টারনেট সংযোগ লাগবে। চলুন জেনে নেই কিভাবে অ্যাপের মাধ্যমে বিকাশ একাউন্ট খোলা যায় ধাপে ধাপেঃ

১. প্রথমে আপনাকে মোবাইলের Google Play Store অ্যান্ড্রয়েডের জন্য বা App Store আইফোনের জন্য থেকে bKash লিখে সার্চ করে অফিসিয়াল অ্যাপটি ডাউনলোড করে ইনস্টল করে নিতে হবে।

২. অ্যাপ খোলার পর Register বা নতুন অ্যাকাউন্ট খুলুন অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর আপনার মোবাইল নম্বর দিবেন, যেটি দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে চান। মনে রাখবেন, এই নম্বরটি অবশ্যই আপনার নিজের নামে রেজিস্টার করা সিম হতে হবে।

৩. নম্বর দেওয়ার পর আপনার মোবাইলে একটি OTP (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) কোড আসবে। কোডটি সঠিকভাবে বসিয়ে Confirm বা Allow বা নিশ্চিত করুন বাটনে চাপতে হবে।

৪. এরপর বিকাশ একাউন্ট খোলার শর্তাবলি একটা চার্ট আসবে এগুলো পড়ে নিবেন তারপর সম্মতি আছে অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর আবার চার্ট আসবে এখানে তথ্য দেওয়ার জন্য পরবর্তী অপশনে ক্লিক করতে হবে। আপনার জন্ম নিবন্ধনের ছবি দিতে হবে, বাবা-মা এর তথ্য দিতে হবে, নিজের ছবি তুলে দিতে হবে।

৫. এবার আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের NID কার্ডের সামনের ও পেছনের অংশের ছবি তুলে দিতে হবে। ছবি তোলার সময় খেয়াল রাখবেন

  • আলো যেন যথেষ্ট থাকে, যাতে লেখা স্পষ্ট বোঝা যায়,
  • কার্ডের চারপাশ যেন ফ্রেমের মধ্যে পুরোপুরি আসে,
  • কার্ডে কোনো ঝাপসা বা প্রতিফলন যেন না থাকে,
  • অ্যাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্ড থেকে তথ্য পড়ে নেবে।

৬. এখন আপনাকে নিজের তথ্য দিতে হবে। NID বা আইডি কার্ড থেকে সংগ্রহ করা নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানার মতো তথ্যগুলো স্ক্রিনে দেখানো হবে। এগুলো ভালোভাবে মিলিয়ে দেখে নিশ্চিত করুন সব ঠিক আছে কি না তারপর পরবর্তী অপশনে ক্লিক করতে হবে।

৭. তারপর আপনাকে লিঙ্গ নির্ধারণ, আয়ের উৎস, মাসিক আয় ও পেশা নির্বাচন করে পরবর্তী অপশনে ক্লিক করতে হবে।

আরো পড়ুনঃসহজেই বিকাশ থেকে লোন নিন

৮. এরপর অ্যাপ আপনাকে একটি লাইভ সেলফি তুলতে বলবে, যাতে বোঝা যায় আইডি কার্ডের ছবির সাথে আপনার চেহারা মিলছে কি না। মুখ ক্যামেরার সামনে সোজা রেখে, নির্দেশনা অনুযায়ী মাথা নাড়িয়ে বা চোখ পলক ফেলে ছবি তুলতে হবে। এরপর নিশ্চিত করুন বাটনে ক্লিক করতে হবে।

৯. সবকিছু ঠিক থাকলে এবার একটি ৫ সংখ্যার গোপন পিন বা PIN সেট করতে বলা হবে। এই পিনটি দিয়ে সবসময় লগইন ও লেনদেনের জন্য ব্যবহার হবে, তাই এমন একটি পিন দিবেন যা মনে রাখা সহজ কিন্তু অন্য কেউ সহজে অনুমান করতে পারবে না। ০০০০০, ১২৩৪৫ বা জন্ম সাল জাতীয় সহজ পিন এগুলো দিবেন না ।

১০. সব ধাপ শেষ হলে বিকাশ থেকে আপনার তথ্য যাচাই করা হবে। সাধারণত কিছুক্ষণের মধ্যেই একাউন্ট সক্রিয় হয়ে যায়, তবে কখনো কখনো এতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

অ্যাপ ছাড়া বিকাশ একাউন্ট খোলতে কি কি লাগে

অনেকেই আছেন যা যা ভাবেন যে অ্যাপ ছাড়া বিকাশ একাউন্ট খোলব কি কি লাগবে তা জানি না, চলুন জেনে নেওয়া যাক অ্যাপ ছাড়া বিকাশ একাউন্ট খোলতে সাধারণত আগে যা যা লাগেঃ

  • একটি বাটন মোবাইল বা স্মার্টফোন,
  • একটি সচল সিম কার্ড, যেটি নিজের নামে রেজিস্টার করা এবং সবসময় খোলা রাখেন,
  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা আইডি কার্ড/NID জন্মনিবন্ধন সনদও কাজে লাগতে পারে যদি বয়স ১৮ এর কম হয় আপনার বয়স।
  • আপনার পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
অ্যাপ ছাড়া বিকাশ একাউন্ট খোলতে বেশি কিছু লাগে না উপরোক্ত জিনিস সাথে নিয়ে বিকাশ এজেন্ট দোকানে গেলেই আপনাকে সহজে একাউন্ট খোলে দিবে।

অ্যাপ ছাড়া ও অ্যাপ দিয়ে বিকাশ একাউন্ট চেক করার নিয়ম

আপনি যদি অ্যাপ ছাড়া বিকাশ একাউন্ট চেক করতে চান যে, বিকাশ একাউন্টে কত টাকা আছে, শেষ লেনদেন কী হয়েছে বা একাউন্টটা আসলে সক্রিয় আছে কি না এসব জানার দরকার প্রায় সবারই মাঝে মাঝে হয়। এই কাজটা আপনি দুইভাবেই করতে পারেন স্মার্টফোনে অ্যাপ দিয়ে অথবা যেকোনো মোবাইল থেকে USSD কোড দিয়ে। নিচে দুইটা পদ্ধতিই দেখানো হলো।

  • অ্যাপ ছাড়া USSD কোড দিয়ে বিকাশ চেক করাঃ
  • প্রথমে আপনাকে *247# ডায়াল করতে হবে,
  • মোবাইল থেকে *247# ডায়াল করার কিছুক্ষণের মধ্যেই একটা মেনু চলে আসবে,
  • My bKash অপশন বেছে নিতে হবে,
  • মেনু থেকে My bKash বা এই ধরনের একটা অপশন সিলেক্ট করার পর Balance বা ব্যালেন্স অপশনে যেতে হবে,
  • আপনার ৫ সংখ্যার গোপন পিন চাওয়া হবে। সঠিকভাবে পিন দিলে স্ক্রিনে বা মেসেজ আকারে ব্যালেন্স দেখতে পাবেন।
যদি লেনদেন বিবরণী দেখতে চান তাহলে একই মেনু থেকে Transaction বা Mini Statement অপশনে গেলে শেষ কয়েকটা লেনদেনের হিসাবও দেখতে পারবেন।

বিকাশ অ্যাপ দিয়ে অ্যাকাউন্ট চেক করাঃ
  • মোবাইলে বিকাশ অ্যাপ ওপেন করুন। যদি আগে থেকে লগইন করা না থাকে, তাহলে মোবাইল নম্বর আর পিন দিয়ে লগইন করে নিন।
  • অ্যাপের হোম স্ক্রিনে Tap for Balance"বা ব্যালেন্স দেখুন লেখা একটা অপশন থাকে। সেখানে ক্লিক করলেই সাথে সাথে আপনার একাউন্টের বর্তমান ব্যালেন্স দেখতে পাবেন।
ব্যালেন্স ছাড়াও শেষ কয়েকটা লেনদেনের বিস্তারিত জানতে চাইলে Statement বা লেনদেন বিবরণী অপশনে যান। এখানে তারিখ, সময় ও পরিমাণসহ প্রতিটা লেনদেনের তথ্য পাওয়া যাবে।

বিকাশ একাউন্ট খুললে কত টাকা বোনাস পাওয় যায়

নতুন বিকাশ একাউন্ট খোলার সময় সবার মনেই একটা প্রশ্ন থাকে একাউন্ট খুললে কি কোনো বোনাস বা অফার পাওয়া যায়? উত্তর হলো, হ্যাঁ। বিকাশ নতুন গ্রাহকদের জন্য মাঝে মাঝেই বিভিন্ন ওয়েলকাম অফার চালু রাখে, যেখানে একাউন্ট খোলা আর প্রথম কিছু লেনদেন করলেই ক্যাশব্যাক বা বোনাস পাওয়া যায়। চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
বর্তমান ওয়েলকাম অফার সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্তঃ বিকাশের অফিসিয়াল অ্যাপ পেজ অনুযায়ী, নতুন একাউন্ট খুলে অ্যাপ ব্যবহার করলে ১০০ টাকার একটি ওয়েলকাম অফার পাওয়া যায়। এই ১০০ টাকা একবারে দেওয়া হয় না, বরং কয়েকটা ধাপে ভাগ করা থাকে, যাতে গ্রাহক ধীরে ধীরে অ্যাপের বিভিন্ন সেবা ব্যবহার করতে উৎসাহিত হয়। ধাপগুলো মোটামুটি এরকমঃ
  • একাউন্ট খোলা মাত্রই ২৫ টাকা বোনাসঃ শুধু একাউন্ট খুলে, পিন সেট করে লগইন করলেই সাথে সাথে আপনাকে ২৫ টাকা বোনাস দিয়ে দিবে। এর জন্য আলাদা কোনো লেনদেন করতে হয় না।
  • প্রথম মোবাইল রিচার্জে ২৫ টাকা ক্যাশব্যাকঃ এরপর যেকোনো সময় মোবাইল রিচার্জ করলে আরও ২৫ টাকা ক্যাশব্যাক যোগ হয়। একাউন্ট খোলার পর প্রথম রিচার্জেই এই সুবিধা পাওয়া যায়।
  • প্রথম মাসে সেন্ড মানি বা কার্ড থেকে বিকাশে টাকা আনায় ২০ টাকাঃ প্রথম মাসের মধ্যে সেন্ড মানি করলে বা কার্ড থেকে বিকাশ একাউন্ট টাকা আনলে ২০ টাকা ক্যাশব্যাক পাওয়া যায়।
  • দ্বিতীয় মাসে সেন্ড মানি, পেমেন্ট বা বিল পে করলে ৩০ টাকাঃ আর দ্বিতীয় মাসে সেন্ড মানি, মেক পেমেন্ট বা পে বিলের মধ্যে যেকোনো একটা লেনদেন করলে শেষ ধাপে ৩০ টাকা ক্যাশব্যাক যোগ হয় এভাবে মোট ১০০ টাকা আপনাকে দিবে।
অফার সম্পর্কে যা মনে রাখা দরকারঃ এই ধরনের অফার সময়ে সময়ে বদলাতে পারে, তাই একাউন্ট খোলার আগে বিকাশ অ্যাপে বা তাদের ওয়েবসাইটে bkash.com গিয়ে সবশেষ অফার কী চলছে সেটা দেখে নিবেন। তাই নতুন একাউন্ট খুলছেন যারা, তারা একাউন্ট খোলার পর এই ছোট ছোট কাজগুলো করলেই বাড়তি কিছু টাকা বোনাস হিসেবে পেয়ে যেতে পারেন।
অ্যাপ-ছাড়া-বিকাশ-একাউন্ট-খোলার-নিয়ম

বাটন ফোনে বিকাশে টাকা দেখার নিয়ম

আপনার স্মার্টফোন না থাকলেও চিন্তার কিছু নেই, সাধারণ বাটন ফোন দিয়েও খুব সহজে বিকাশ একাউন্ট ব্যালেন্স দেখা যায়। এর জন্য কোনো অ্যাপ বা ইন্টারনেটের দরকার হয় না, শুধু একটা কোড ডায়াল করলেই হয়।
  • মোবাইল থেকে *247# লিখে কল বাটনে চাপুন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটা মেনু স্ক্রিনে চলে আসবে
  • মেনুতে বিভিন্ন অপশনের মধ্যে My bKash বা 7 লেখা অপশনটা তার পাশের নম্বরটা লিখে পাঠান।
  • My bKashএর ভেতরে ঢুকলে Balance নামে একটা অপশন দেখতে পাবেন। সেটা সিলেক্ট করতে হবে।
  • এবার আপনার ৫ সংখ্যার গোপন পিন চাওয়া হবে। পিনটা সঠিকভাবে লিখে সেন্ড করতে হবে।
  • পিন ঠিক থাকলে স্ক্রিনে সাথে সাথে আপনার একাউন্ট বর্তমান ব্যালেন্স দেখানো হবে।

পার্সোনাল বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম

আমরা অনেকেই আছি যে বিকাশ একাউন্ট ও পার্সোনাল বিকাশ একাউন্ট অন্যরকম ভাবি। আসলে সাধারণ যে বিকাশ একাউন্ট ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য খোলা হয়, সেটাই মূলত পার্সোনাল বিকাশ একাউন্ট। এটা খোলার নিয়মও আগে বলা অ্যাপ দিয়ে একাউন্ট খোলার নিয়মের মতোই আলাদা কিছু না।
  • বিকাশ অ্যাপ ডাউনলোড করে Register এ ক্লিক করুন,
  • নিজের মোবাইল নম্বর দিয়ে OTP যাচাই করুন,
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের সামনে-পেছনের ছবি তুলুন,
  • তথ্যগুলো ঠিক আছে কি না দেখে নিশ্চিত করুন,
  • লাইভ সেলফি তুলুন,
  • ৫ সংখ্যার একটা গোপন পিন সেট করুন,
  • সব ঠিক থাকলে একাউন্ট সক্রিয় হয়ে যাবে।
এই নিয়মটাই ব্যক্তিগত বিকাশ একাউন্ট খোলার পুরো প্রক্রিয়া। শুধু মনে রাখবেন, একটা NID দিয়ে একটাই পার্সোনাল একাউন্ট খোলা যায়, আর সিমটা অবশ্যই নিজের নামে রেজিস্টার করা হতে হবে।

একাধিক বিকাশ একউন্ট খোলার নিয়ম

অনেকেই ভাবেন, একটা বিকাশ একাউন্ট থাকতেই আরেকটা খুলে ফেলা যায় কি না। এই প্রশ্নটা খুবই কমন, তাই আজকে পরিষ্কার করে জেনে নেওয়া যাক, একাধিক বিকাশ একাউন্ট আসলে খোলা যায় কি না, আর গেলে কীভাবে।

এক আইডি দিয়ে একাধিক পার্সোনাল একাউন্ট খোলা যায় নাঃ বিকাশের নিয়ম অনুযায়ী, একটা আইডি কার্ড দিয়ে শুধু একটাই পার্সোনাল বিকাশ একাউন্ট খোলা যায়। কেউ যদি একই NID দিয়ে দ্বিতীয় একটা একাউন্ট খোলার চেষ্টা করেন, সিস্টেম সেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে ফেলে এবং পরের একাউন্টটা বন্ধ বা বাতিল হয়ে যায়। তাই এক ব্যক্তির নামে দুইটা আলাদা পার্সোনাল একাউন্ট রাখার কোনো সুযোগ নেই।

তাহলে একাধিক অ্যাকাউন্ট কীভাবে সম্ভব? একাধিক বিকাশ অ্যাকাউন্ট রাখার বাস্তবসম্মত উপায়গুলো হলোঃ
  • নিজের একাউন্ট ছাড়াও পরিবারের অন্য সদস্য (বাবা-মা, ভাই-বোন, স্ত্রী) যদি নিজের NID দিয়ে আলাদা একাউন্ট খোলেন, তাহলে একই পরিবারে একাধিক বিকাশ একাউন্ট থাকতে পারে। তবে প্রতিটা একাউন্ট তার নিজের মালিকের নামেই খোলা থাকতে হবে।
  • একই ব্যক্তির নামে পার্সোনাল একাউন্টের পাশাপাশি চাইলে এজেন্ট বা মার্চেন্ট একাউন্টও থাকতে পারে, কারণ এগুলো ভিন্ন ক্যাটাগরির একাউন্ট এবং ব্যবসায়িক প্রয়োজনে খোলা হয়। এক্ষেত্রে বিকাশের সাথে ব্যবসায়িক নিবন্ধন করে আলাদাভাবে আবেদন করতে হয়।
  • পরিবারে যদি ১৪-১৮ বছর বয়সী কেউ থাকে, তার জন্য জন্ম সনদ দিয়ে আলাদা একটা স্টুডেন্ট একাউন্ট খোলা যায়, যেটা মূল পার্সোনাল একাউন্ট থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
মনে রাখার মতো বিষয় হচ্ছে একই মোবাইল নম্বর দিয়েও একাধিক একাউন্ট খোলা যায় না, প্রতিটা একাউন্টের জন্য আলাদা সিম নম্বর লাগে। একই NID দিয়ে দ্বিতীয় একাউন্ট খোলার চেষ্টা করলে একাউন্ট ব্লক বা বাতিল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

বিকাশ একাউন্ট ডিলিট করার সহজ উপায়

আপনি যদি কোনো কারণে বিকাশ একাউন্ট আর ব্যবহার করতে না চান তাহলে কীভাবে সেটা স্থায়ীভাবে বন্ধ বা ডিলিট করা যায়। মজার বিষয় হলো, বিকাশ অ্যাপ থেকে নিজে নিজে এক ক্লিকে একাউন্ট ডিলিট করার কোনো অপশন নেই। একাউন্ট পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে বিকাশের কাস্টমার কেয়ারের সাহায্য নিতে হয়। নিচে পুরো নিয়মটা সহজ করে বলা হলো যাতে বুঝতে পারেনঃ

১. সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ উপায় হলো বিকাশের কাস্টমার কেয়ার নম্বরে 16247 কল করবেন। এছাড়া বিকাশ অ্যাপের লাইভ চ্যাট অপশন থেকেও অনুরোধ জানাতে পারবেন।

২. কল করার পর প্রতিনিধিকে জানাবেন যে আপনি একাউন্টটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে চান। প্রতিনিধি সংক্ষেপে জিজ্ঞেস করতে পারেন কেন একাউন্টটি বন্ধ করতে চাচ্ছেন।

৩. নিরাপত্তার জন্য আপনার পরিচয় যাচাই করা হবে সাধারণত আপনার নাম, জন্ম তারিখ, আইডি নম্বর বা অন্য কিছু তথ্য জিজ্ঞেস করতে পারে যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় একাউন্টটি আসলেই আপনার।

৪. একাউন্টে যদি কোনো টাকা থাকে, সেটা বন্ধ করার আগে ক্যাশ আউট বা অন্য কোনো একাউন্টে ট্রান্সফার করে নেওয়া ভালো। বিকাশ প্রতিনিধি এ বিষয়েও পরামর্শ দিতে পারেন।

৫. কিছু ক্ষেত্রে ফোনে সম্ভব না হলে নিকটস্থ বিকাশ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে সরাসরি গিয়ে NID কার্ড সাথে নিয়ে আবেদন করলে একাউন্ট বন্ধ করা যায়।

একাউন্ট একবার স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণত সেটা আবার চালু করা যায় না। যদি একই আইডি দিয়ে ভবিষ্যতে নতুন একাউন্ট খুলতে চান তাহলে আগের একাউন্ট পুরোপুরি বন্ধ থাকতে হবে।
অ্যাপ-ছাড়া-বিকাশ-একাউন্ট-খোলার-নিয়ম

বিকাশ পিন ভুলে গেলে করণীয়

আমরা অনেকেই বিকাশের পিন, পিন কোড ভুলে যাই। এতে চিন্তা করার কিছু নেই। বিকাশ সেন্টারে না গিয়েও আপনি নিজের মোবাইল থেকেই কয়েক মিনিটে ভুলে যাওয়া পিন রিসেট করে নিতে পারেন।

পিন রিসেট করার আগে যা যা সাথে রাখবেন: যার আইুড কার্ড দিয়ে বিকাশ একাউন্ট খোলা হয়েছে, তার আইডি নম্বর। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তাঁর জন্ম সাল। শেষ ৯০ দিনের মধ্যে করা যেকোনো একটি লেনদেনের তথ্য (যেমন: ক্যাশ আউট, সেন্ড মানি, মোবাইল রিচার্জ বা পেমেন্টের বিবরণ ও পরিমাণ)।

*247# ডায়াল করে পিন রিসেট করার নিয়ম:
  • প্রথমে ফোনে *247# ডায়াল করুন,
  • মেনু থেকে Reset PIN অপশনটি বেছে নিন সাধারণত ১০ নম্বর অপশনে থাকে।
  • আপনার বিকাশ একাউন্টে ব্যবহৃত NID নম্বরটি লিখুন।
  • আপনার জন্ম সাল (YYYY) চার ডিজিটে লিখুন (যেমন: 1995)।
  • গত ৯০ দিনের মধ্যে করা শেষ লেনদেনের ধরণ সিলেক্ট করুন। (যদি কোনো লেনদেন না করে থাকেন, তবে 'No Transaction' সিলেক্ট করুন)।
  • লেনদেনের সঠিক পরিমাণটি লিখুন।
  • তথ্য সঠিক হলে বিকাশ থেকে এসএমএসের মাধ্যমে আপনাকে একটি অস্থায়ী পিন পাঠানো হবে।
অস্থায়ী পিন পাওয়ার পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে আপনাকে নতুন পিন সেট করতে হবে:
  • পুনরায় *247# ডায়াল করুন।
  • My bKash থেকে Change Mobile Menu PIN সিলেক্ট করুন।
  • এসএমএসে পাওয়া অস্থায়ী পিনটি দিবেন।
  • এবার আপনার পছন্দমতো ৫ ডিজিটের নতুন পিন টাইপ করুন।
  • নিশ্চিত করতে পুনরায় নতুন পিনটি লিখুন।
তবে মনে রাখবেন, নতুন পিন দেওয়ার সময় পরপর একই সংখ্যা যেমন 11111 বা ক্রমানুসারে 12345 দেওয়া যাবে না এবং পিনের শুরুতে '0' ব্যবহার করা যাবে না।
অ্যাপ থেকে বা হেল্পলাইনের সাহায্য:
  • বিকাশ অ্যাপ: অ্যাপের লগইন স্ক্রিনে থাকা Forgot PIN অপশনে ট্যাপ করেও অ্যাপ থেকে ফেস ভেরিফিকেশন বা এনআইডি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে পিন রিসেট করতে পারেন।
  • হেল্পলাইন: কোনো ধাপে সমস্যা হলে সরাসরি বিকাশের হেল্পলাইন 16247 নম্বরে কল করে প্রতিনিধির সাহায্য নিতে পারেন।

বিকাশ মোবাইল হেল্পলাইন নম্বর

বিকাশের অফিশিয়াল হেল্পলাইন নম্বর, ইমেইল, ওয়েবসাইট এবং অন্যান্য যোগাযোগের সঠিক তথ্য দেওয়া হলো:
যোগাযোগের মাধ্যম বিস্তারিত তথ্য
হেল্পলাইন নম্বর 16247 (২৪/৭ খোলা) 02-55663001 (বিকল্প নম্বর)
ইমেইল ঠিকানা support@bkash.com
অফিশিয়াল ওয়েবসাইট www.bkash.com
ওয়েবসাইট লাইভ চ্যাট bkash.com/help/livechat
অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ facebook.com/bkashlimited
প্রধান কার্যালয় স্বাধীনতা টাওয়ার, ১ বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ জাহাঙ্গীর গেট, ঢাকা সেনানিবাস, ঢাকা-১২০৬।

বিকাশ একাউন্ট নিরাপদ রাখার উপায়

আপনি যদি আপনার বিকাশে একাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে চান তাহলে এই বিষয়গুলো মেনে চলতে পারেন:
  • আপনার বিকাশ পিন নম্বর সম্পূর্ণ গোপন রাখবেন। বিকাশ কর্মকর্তা বা কোনো প্রতিনিধি পরিচয় দিলেও পিন বলবেন না।
  • লেনদেনের সময় মোবাইলে আসা ওটিপি বা ভেরিফিকেশন কোড কাউকে দেবেন না।
  • সহজ পিন ব্যবহার করবেন না: পিন দেওয়ার সময় সহজ নম্বর যেমন: 12345 বা 11111 ব্যবহার না করে একটু কঠিন ও গোপন পিন দিবেন।
  • ভুল করে টাকা গেছে বা লটারি জিতেছেন বললে সত্যিটা না জেনে কোনো টাকা পাঠাবেন না বা পিন দেবেন না।
  • পরিচিত বা অপরিচিত কারো ফোনে নিজের বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করবেন না।
  • একাউন্ট বেশি নিরাপদ রাখতে কিছুদিন পর পর পিন নম্বর পরিবর্তন করে নিবেন।

অ্যাপ ছাড়া বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম সর্ম্পকে প্রশ্ন FAQ

প্রশ্নঃ বিকাশ পিন ভুলে গেলে কী করব?
উত্তরঃ নম্বর থেকে *247# ডায়াল করে 'Reset PIN' অপশন নির্বাচন করুন অথবা বিকাশ অ্যাপ/হেল্পলাইনে 16247 যোগাযোগ করুন।

প্রশ্নঃ বিকাশের হেল্পলাইন নম্বর কত?
উত্তরঃ বিকাশের অফিশিয়াল হেল্পলাইন নম্বর হলো 16247 (২৪ ঘণ্টা চালু)।

প্রশ্নঃ বিকাশ পিন কয় ডিজিটের হয়?
উত্তরঃ বিকাশের পিন নম্বর ৫ ডিজিটের হয়ে থাকে।

প্রশ্নঃ সেন্ড মানি বা ক্যাশ আউট ভুল নম্বরে হলে করণীয় কী?
উত্তরঃ দ্রুত 16247-এ কল করে বা লাইভ চ্যাটে যোগাযোগ করে অভিযোগ জানান এবং নিকটস্থ থানায় জিডি করুন।

প্রশ্নঃ বিকাশ অ্যাপে পিন কয়বার ভুল দিলে অ্যাকাউন্ট ব্লক হয়?
উত্তরঃ পরপর ৩ বার ভুল পিন দিলে নিরাপত্তাজনিত কারণে একাউন্ট সাময়িকভাবে ব্লক হয়ে যায়।

প্রশ্নঃ বিকাশ পিন কীভাবে পরিবর্তন করব?
উত্তরঃ *247# ডায়াল করে My bKash থেকে Change PIN অপশনে গিয়ে বর্তমান পিন দিয়ে নতুন পিন সেট করুন।

প্রশ্নঃ বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলতে কী কী লাগে?
উত্তরঃ আপনার আইডি কার্ড এবং একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর লাগে।

প্রশ্নঃ বিকাশের অফিশিয়াল ইমেইল ঠিকানা কোনটি?
উত্তরঃ বিকাশের অফিশিয়াল সাপোর্ট ইমেইল হলো support@bkash.com।

অ্যাপ ছাড়া বিকাশ একাউন্ট খোলার নিয়ম সর্ম্পকে শেষকথা

আশা করছি এতক্ষণ বাটন মোবাইল, স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট ছাড়াই বিকাশ একাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে অ্যাপ এর মাধ্যমে এমনকি বিকাশ সর্ম্পকে সকল বিষয় বিস্তারিত আলোচনার পর আপনাদের বিকাশ জনিত সকল সমস্যার সমাধান পেয়ে যাবেন।

এই রকম আরো নিত্যনতুন তথ্য পেতে হলে আমাদের এই ওয়েবসাইটির নোটিফিকেশন অন করে রাখতে পারেন, হতে পারে পরবর্তী পোষ্টগুলো আপনার কাজে লাগবে ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
2 জন কমেন্ট করেছেন ইতোমধ্যে
  • Kk
    Kk ৪ আগস্ট, ২০২৬ এ ১০:৩৫ PM

    ধন্যবাদ সঠিক তথ্য দেওয়ার জন্য

    • Tips Point IT✅
      Tips Point IT✅ ৬ আগস্ট, ২০২৬ এ ১২:৫২ PM

      welcome

মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টিপস পয়েন্ট আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url