সহজেই বিকাশ থেকে লোন নিন - বিকাশ লোন ফরম ২০২৬

 

আমাদের জীবনে অনেক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে লোনের প্রয়োজন হয়। খুশির বিষয় হচ্ছে সহজেই বিকাশ থেকে লোন নিতে পারবেন, বিকাশ থেকে লোন নিলে কোনো ব্যাংক একাউন্ট, জামানত এবং কোনো কাগজপত্র লাগবে না। 

বিকাশ লোন ফরম

চলুন জেনে নেই ২০২৬ সালে বিকাশ থেকে কীভাবে লোন নিবেন, লোন ফরম, আবেদনের নিয়ম এবং কারা এই সুবিধা পাবেন।

পেজ সূচিপত্রঃ সহজেই বিকাশ থেকে লোন নিন - বিকাশ লোন ফরম ২০২৬

বিকাশ লোন নেওয়ার নিয়ম 

আমরা অনেকেই জানি যে ব্যাংক থেকে লোন নিতে গেলে আমাদের কতটা কষ্ট করতে হয় দৌড়া দৌড়ি করতে হয়। তবে এখন কোথাও না গিয়ে বাসায় বসেই বিকাশে সহজে লোন নিতে পারবেন। বিকাশ থেকে যে লোন নেওয়া যায় এই বিষয়টা অনেকেই জানেন আবার অনেকেই জানেন না। যারা জানেন না তাদের জন্য কিভাবে বিকাশ থেকে লোন নেওয়া যায়, লোন নেওয়ার ‍নিয়ম বিস্তারিত সর্ম্পকে আলোচনা করা হয়েছে। 

বর্তমানে বিকাশ অ্যাপে ৫০০ টাকা থেকে ৫০০০০ টাকা পর্যন্ত ৩ থেকে ৬ মাস মেয়াদী  কোনো ব্যাংক একাউন্ট ছাড়া, জামানত ছাড়া এবং কোনো কাগজপত্র ছাড়াই সরাসরি লোন নিতে পারবেন কোনো কষ্ট ছাড়া। বিকাশ লোনের জন্য গ্রাহকরা ১ম বার ৫০০ টাকা বা তার চেয়ে বেশি লোন নিলে ৩৭ টাকা ক্যাশ আউট কুপন, ৫০ টাকা পেমেন্ট কুপন এবং সাথে প্রসেসিং ফি ক্যাশব্যাক পাবেন।  এই অফার সর্বোচ্চ ১ বার।
বর্তমানে বাংলাদেশের জনপ্রিয় মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস বিকাশ এবং দেশের অন্যতম বেসরকারি ব্যাংক সিটি ব্যাংক পিএলসি যৌথভাবে বিকাশ ডিজিটাল লোন এই নিয়ম ও সুবিধা চালু করেছেন। এই সুবিধার মাধ্যমে যোগ্য বিকাশ গ্রাহকরা ব্যাংকে সরাসরি না গিয়েই বিকাশ অ্যাপ থেকে সহজে ডিজিটাল লোনের জন্য আবেদন করতে পারেন। পুরো আবেদন, অনুমোদন এবং টাকা গ্রহণের প্রক্রিয়া অনলাইনে করা হয়, যার কারণে সময় ও ঝামেলা দুটোই কমে যায়।

বিকাশ লোন ফরম ও আবেদনের ‍নিয়ম

বিকাশ লোন ফরম পূরণ করার জন্য আলাদা কোনো কাগজের ফরম সংগ্রহ করতে হয় না। যদি আপনার ফোনে অ্যাপ খোলা থাকে এবং বিকাশ অ্যাকাউন্টে (লোন) সুবিধা চালু থাকে, তাহলে বিকাশ অ্যাপ থেকেই ডিজিটালভাবে আবেদন সরাসরি করা যায়। আবেদন করার নিয়ম সহজ এবং মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ করা সম্ভব। বিকাশ লোন ফরম আবেদন করার ধাপঃ

লোন চেক করুনঃ
  • প্রথমে ‍বিকাশ অ্যাপ খুলে Loan (লোন) অপশনে ক্লিক করতে হবে।
  • Apply Now (আবেদন করুন) অপশনে ট্যাপ করতে হবে।
  • আপনার জন্য থাকা লোন অফার, সর্বোচ্চ লোনের পরিমাণ, মেয়াদ ও চার্জ দেখে পাবেন।
  • আপনার বিকাশের (Transition) লেনদেনর ওপর ভিত্তি করে বিকাশ নিদির্ষ্ট পরিমান লোন দেয়।
লোনে নির্বাচন করুনঃ লোন অর্পশনে আপনার জন্য থাকা লোন অফার, লোনের পরিমাণ,  কয় মাস লোন দেয় মেয়াদ ও চার্জ দেখাবে।

লোনের শর্তাবলী ঃ
  • আপনার বর্তমান লোন ‍লিমিট দেখাবে তারপর লোন নিন অপশনে ক্লিক করতে হবে। 
  • লোনের লিমিট দেওয়া থাকবে তবে আপনি লোন লিমিট থেকে কম বেশি করে ‍নিতে পারবেন। যেমন ধরুন ‍বিকাশ আপনাকে ১০০০০ টাকা লোন দিচ্ছে এখন আপনি চাইলে ১০০০০ টাকা বা তার কম ও ‍নিতে পারবেন।
  • প্রাপ্ত টাকার পরিমান সিলেক্ট করার পর এগিয়ে যান অপশনে ক্লিক করতে হবে।
  • লোনো অ্যামাউন্ট প্রসেসিং ‍ফি, মোট ইন্টারেস্ট তারিখ ‍বিস্তারিত লোনের শর্তাবলী দেওয়া থাকবে।
পিন নাম্বান নিশ্চিতঃ 
  • আপনার বিকাশের Trans and Condition ভালোভাবে দেখে নিবেন। 
  • তারপর আপনার বিকাশের  পিন নাম্বার দিয়ে কনফার্ম করতে হবে।
  • লোন করেতে ট্যাপ করে ধরে রাখুন অপশনে কিছুক্ষণ চাপ ‍দিয়ে ধরে রাখলে প্রাপ্ত লোন আপনার একাউন্টে জমা হয়ে যাবে।

কারা বিকাশ লোন সুবিধা পাবেন আর কারা পাবেন না?

কারা বিকাশ লোন সুবিধা পাবেন?  সিটি ব্যাংক গ্রাহকের বিকাশ একাউন্টের ব্যবহার, লেনদেনের ভিত্তি এবং অন্যান্য যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট গ্রাহকদের জন্য এই সুবিধা চালু করে। তাই আপনার একাউন্টে লোন অপশন দেখা গেলেই কেবল আবেদন করা সম্ভব। যারা সাধারণত বিকাশ লোন সুবিধা পেতে পারেন:
  • যারা নিয়মিত বিকাশ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে ভেরিফাই করা বিকাশ একাউন্ট আছে যাদের।
  • বিকাশ অ্যাপে (লোন) অপশন বা লোন অফার চালু আছে।
  • বিকাশ ও সিটি ব্যাংকের নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেন যারা।
  • (Transition) লেনদেনের ভিত্তি ও একাউন্ট ব্যবহারের রেকর্ড ভালো থাকে।
কারা বিকাশ লোন সুবিধা পাবেন না? সবাই বিকাশে লোনের জন্য সুবিধা পায় না। যে বিষয়ের কারণে আপনি বিকাশ লোন সুবিধা না হতে পারে। আপনার (Transition) লেনদেনের ভিত্তি ও একাউন্ট ব্যবহারের রেকর্ড যদি ভালো না থাকে। আপনার বিকাশ অ্যাপে (লোন) অপশন না থাকলে। বিকাশ একাউন্ট নিয়মিত ব্যবহার না করলে। NID দিয়ে অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করা না থাকলে। বিকাশ ও সিটি ব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত পূরণ না করলে। সিটি ব্যাংক আপনার লোন আবেদন অনুমোদন না করলে।

বিকাশ অ্যাপ থেকে লোন নেওয়া কেন ভালো?

আপনি ভাবছেন কেন বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে লোন নিবেন। বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে লোন নিলে আপনাকে ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ সময় দাড়িঁয়ে থেকে অপেক্ষা করতে হবে না। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঘরে বসে আবেদন করা যায়। এছাড়া পুরোটা প্রক্রিয়া অনলাইনে হওয়ায় সময় ও ঝামেলা দুটোই কমে হয়। বিকাশ অ্যাপ থেকে লোন নেওয়ার সুবিধাঃ
  • ঘরে বসেই কয়েক মিনিটে আবেদন করা যায়।
  • ব্যাংকে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হয় না।
  • আবেদন অনুমোদিত হলে টাকা সরাসরি বিকাশ একাউন্টে জমা হয়।
  • লোনের পরিমাণ, চার্জ ও পরিশোধের তারিখ অ্যাপেই দেখা যায়।
  • যেকোনো সময় অ্যাপ থেকে লোনের তথ্য দেখা ও পরিচালনা করা যায়।
  • পুরো প্রক্রিয়াটি নিরাপদ এবং ডিজিটাল হওয়ায় কাগজপত্রের ঝামেলা কম।
মনে রাখবেন, বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করা সহজ হলেও, লোন অনুমোদনের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ সিটি ব্যাংকের ওপর নির্ভর করে।

বিকাশ লোন না পেলে কি করণীয়

আপনি যখন ‍বিকাশ অ্যাপে গিয়ে দেখেন লোন অপশনটা নেই, বিকাশ আপনাকে লোন দিচ্ছে না তখন করণীয় কি? সবাই বিকাশে লোনের জন্য সুবিধা পায় না। লেনদেনের ভিত্তি ও একাউন্ট ব্যবহারের রেকর্ড যদি ভালো না থাকে সম্ভবত লোন না পেতে পারেন। আপনার একাউন্টে কিছু ‍বিষয় ঠিক করতে পারলে আপনিও বিকাশে সহজেই লোন পাবেন। 
  • আপনার বিকাশ একাউন্টে পর্যাপ্ত লেনদেনের হিস্টি নেই। (যেমনঃ সেন্ড মানি, ক্যাশ ইন, ক্যাশ আউট, ফোন রিচার্জ।) যার কারনে বিকাশ আপনাকে লোন দিচ্ছে না। এই অপশন গুলো চালু রাখতে হবে।
  • বিকাশে আপনি রেগুলার নেই। আপনার একাউন্ট পুরোনো বা আপনি রেগুলার লেনদেন করেন না। অর্থাৎ দেখা গেল আপনি ২ মাস, ৩ মাস এ লগইন করেছেন যার জন্য বিকাশ লোন দিচ্ছে না। এগুলো সবসময় ঠিক রাখতে হবে।
  • আপনার (KYC) অর্থাৎ NID দিয়ে ভেরিফিকেশন করা নেই। আপনার লোন পেতে হলে NID দিয়ে ভেরিফিকেশন করতে হবে।
  • আপনি হয়তো আগে বিকাশে লোন নিয়েছেন কিন্তু পরিশোধ করেন নাই, যে কারণে নতুন করে লোন ‍দিচ্ছে না। লোন পরিশোধ করলে নতুন করে লোন নিতে পারবেন।
বিকাশ-লোন-ফরম

বিকাশ লোনর টাকা কিভাবে পরিশোধ করবেন

বিকাশ থেকে লোন নেওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টাকা পরিশোধ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো লোন পরিশোধ করলে ভবিষ্যতে আবার লোন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে আপনার জন্য। আর দেরি করলে অতিরিক্ত চার্জ বা অন্যান্য সমস্যা হতে পারে। বিকাশ লোন কীভাবে পরিশোধ করবেন?

  • বিকাশ অ্যাপে লগইন করুন।
  • প্রথমে বিকাশ অ্যাপ খুলে আপনার PIN দিয়ে লগইন করুন।
  • (লোন) অপশনে যান।
  • হোমপেজ থেকে (লোন) অপশনে ট্যাপ করুন। এখানে আপনার বাকি লোনের পরিমাণ, পরিশোধের শেষ তারিখ এবং মোট কত টাকা দিতে হবে তা দেখতে পারবেন।
  •  টাকা প্রস্তুত রাখুন
  • লোন পরিশোধের আগে আপনার বিকাশ একাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স রাখুন, যাতে সহজেই টাকা কেটে নেওয়া যায় বা আপনি পরিশোধ করতে পারেন।
  • লোন পরিশোধ করুন
  • অ্যাপে থাকা Repay বা Pay Now অপশনে ট্যাপ করে নির্দেশনা অনুযায়ী লোন পরিশোধ করুন।
  • পরিশোধ নিশ্চিত করুন
  • পেমেন্ট সফল হলে আপনি একটি বার্তা পাবেন। এরপর অ্যাপ থেকে দেখে নিতে পারবেন যে লোনটি সম্পূর্ণ পরিশোধ হয়েছে।

লোন পরিশোধের সময় যেসব বিষয় মনে রাখবেনঃ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই লোন পরিশোধ করার চেষ্টা করুন। পরিশোধের আগে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স রাখুন। লোন পরিশোধের রসিদ বা SMS সংরক্ষণ করে রাখুন।কোনো সমস্যা হলে বিকাশ বা সিটি ব্যাংকের গ্রাহকসেবায় যোগাযোগ করুন।

বিকাশ থেকে সর্বোচ্চ কত টাকা লোন পাওয়া যায়?

বিকাশ লোনে সবাই একই পরিমাণ টাকা লোন পান না। একজন গ্রাহক কত টাকা পর্যন্ত লোন পাবেন, তা নির্ভর করে তার বিকাশ একাউন্টের ব্যবহার, লেনদেনের হিস্টি এবং সিটি ব্যাংকের মূল্যায়নের ওপর। তাই একজন গ্রাহক যে পরিমাণ লোন পান, অন্যজনের ক্ষেত্রে সেই পরিমাণ নাও হতে পারে।বর্তমানে গ্রাহকরা ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত লোনের অফার পেতে পারেন। 

তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট বা স্থায়ী সীমা নয় যে সবসময় একই এমাউন্টে লোন পাবেন। আপনার একাউন্টে যে পরিমাণ লোন দেখাবে, আপনি সর্বোচ্চ সেই পরিমাণের মধ্যেই আবেদন করতে পারবেন। কারো ক্ষেত্রে ১০০০ টাকা থেকে ১০০০০ টাকা আবার কারো ২০০০০টাকা থেকে ৫০০০০টাকা ও পেতে পারেন, এটা নির্ধারণ করা হয় একাউন্টের ওপর। লোনের পরিমাণ কীভাবে নির্ধারণ করা হয়?

  • আপনি বিকাশ একাউন্ট কতদিন ধরে ব্যবহার করছেন।
  • আপনি নিয়মিত লেনদেন করেন কি না।
  • আগের কোনো লোন নিয়ে থাকলে সময়মতো পরিশোধ করেছেন কি না।
  • সিটি ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন ও যোগ্যতার ভিত্তিতে।

বিকাশ লোনের সুদের হার, মেয়াদ ও চার্জসমূহ

বিকাশ লোন নেওয়ার আগে সুদের হার, লোনের মেয়াদ এবং চার্জ সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত। কারণ আপনি কত টাকা পরিশোধ করবেন, তা এসব বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে। লোন নেওয়ার আগে বিকাশ অ্যাপে সব তথ্য ভালোভাবে দেখানো হয়, তাই আবেদন করার আগে অবশ্যই সেগুলো পড়ে নিন।

বিকাশ লোনের সুদের হারঃ বিকাশ লোনের সুদের হার সিটি ব্যাংক নির্ধারণ করে। তাই সব গ্রাহকের জন্য একই সুদের হার প্রযোজ্য নাও হতে পারে। সাধারণত বছরে ১৬% থেকে ১৮% সুদ প্রায় প্রযোজ্য থাকে তবে এটা নির্ভর করে গ্রাহকের লোনদেন ও লোন অনুযায়ী। আপনার জন্য যে সুদের হার প্রযোজ্য হবে, সেটি লোন অফারের সময় বিকাশ অ্যাপেই দেখতে পারবেন।

বিকাশ লোন নেওয়ার সময় বিকাশ লোন প্রসেসিং ফি সাধারণত (৫৮%) ক্যাশব্যাক হিসেবে ফেরত পাবেন। লোনের মেয়াদ, লোনের টাকা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। সাধারণত লোনের মেয়াদ কতদিন হবে, তা আপনার লোন অফারের ওপর নির্ভর করে। আবেদন করার সময় অ্যাপে পরিশোধের শেষ তারিখ ভালোভাবে দেখানো হয়।

লোনের চার্জঃ লোনের টাকার পাশাপাশি প্রযোজ্য সুদ ও অন্যান্য চার্জও পরিশোধ করতে হয়। এসব চার্জ লোনের পরিমাণ, মেয়াদ এবং সিটি ব্যাংকের নীতিমালার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়। তাই আপনি আবেদন করার আগে মোট কত টাকা পরিশোধ করতে হবে, তা ভালোভাবে দেখে নিবেন।

মনে রাখবেন, আবেদন করার আগে সুদের হার ও চার্জ ভালোভাবে পড়ে নিন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লোন পরিশোধ করুন। কোনো বিষয় বুঝতে সমস্যা হলে বিকাশ অ্যাপের তথ্য বা সিটি ব্যাংকের গ্রাহকসেবার সহায়তা নিতে পারেন। সময়মতো লোন পরিশোধ করলে ভবিষ্যতে আবার লোন পাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে।
বিকাশ-লোন-ফরম

বিকাশ লোন নেওয়ার আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি

আপনি বিকাশ লোনের জন্য আবেদন করার আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে রাখা ভালো হবে। এতে আবেদন করার সময় কোনো ধরনের ভুল হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায় এবং লোন পাওয়ার পরও যাতে অপ্রয়োজনীয় সমস্যায় পড়তে হয় না। তাই আবেদন করার আগে যে বিষয়গুলো অবশ্যই দেখে নিবেন যা যাচাই করবেনঃ
  • আপনার বিকাশ অ্যাপে (লোন) অপশন রয়েছে কি না।
  • লোনের পরিমাণ, মেয়াদ, সুদের হার ও চার্জ ভালোভাবে পড়ে নিবেন।
  • নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লোন পরিশোধ করতে পারবেন কি না, তা আগে থেকেই চিন্তা করে রাখবেন।
  • আবেদন করার সময় কোনো ভুল তথ্য দিবেন না।
  • বিকাশ একাউন্টে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর সবসময় চালু রাখবেন।
  • লোন সংক্রান্ত OTP, PIN বা ব্যক্তিগত তথ্য কারও সাথে শেয়ার করবেন না।
  • কোনো সমস্যায় পড়লে শুধু বিকাশ বা সিটি ব্যাংকের অফিসিয়াল গ্রাহকসেবার সহায়তা নিন।
মনে রাখবেন, বিকাশ লোন একটি আর্থিক সুবিধা। তাই প্রয়োজন ছাড়া লোন নেওয়া উচিত না। যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই লোন নিবেন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করবেন। এতে ভবিষ্যতে আবার লোন পাওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে এবং আপনার আর্থিক রেকর্ডও ভালো থাকবে।

বিকাশ লোন ফরম সর্ম্পকে কিছু প্রশ্ন 

 প্রশ্নঃ বিকাশ লোন কীভাবে পাওয়া যাবে?

উত্তরঃ বিকাশ লোন পেতে হলে আপনার বিকাশ অ্যাপে (লোন) অপশন থাকতে হবে। এরপর অ্যাপ থেকে লোনের পরিমাণ, মেয়াদ ও চার্জ দেখে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন অনুমোদন হলে লোনের টাকা সরাসরি আপনার বিকাশ একাউন্টে জমা হবে।

 প্রশ্নঃ বিকাশ থেকে লোন নিলে কত টাকা সুদ দিতে হবে?

উত্তরঃ লোনের সুদ ও চার্জ সিটি ব্যাংক নির্ধারণ করে। তাই সবার জন্য একই হার প্রযোজ্য হয় না। আবেদন করার আগে বিকাশ অ্যাপে আপনার জন্য প্রযোজ্য সুদ, চার্জ ও মোট পরিশোধের পরিমাণ দেখতে পারবেন।

 প্রশ্নঃ অনলাইনে কি বিকাশ লোন পাওয়া যায়?

উত্তরঃ হ্যাঁ। যদি আপনার একাউন্টে লোন সুবিধা চালু থাকে, তাহলে ব্যাংকে না গিয়েই বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে সম্পূর্ণ অনলাইনে লোনের আবেদন করা যায়।

 প্রশ্নঃ বিকাশে সর্বোচ্চ কত টাকা লোন পাওয়া যায়?

উত্তরঃ বর্তমানে যোগ্য গ্রাহকরা সর্বোচ্চ ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত  লোনের অফার পেতে পারেন। তবে সবার লোনের সীমা এক নয়। এটি গ্রাহকের যোগ্যতা ও সিটি ব্যাংকের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে।

 প্রশ্নঃ  বিকাশ লোনের টাকা কত দিনের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়?

উত্তরঃ লোনের মেয়াদ নির্ভর করে আপনার অফারের ওপর। আবেদন করার সময় বিকাশ অ্যাপেই পরিশোধের শেষ তারিখ  দেখানো হয়।

 প্রশ্নঃ বিকাশ লোন কি সব গ্রাহক নিতে পারবেন?

উত্তরঃ না। বিকাশ লোন শুধুমাত্র নির্বাচিত ও যোগ্য গ্রাহকদের জন্য। আপনার অ্যাপে (লোন) অপশন দেখা গেলে তবেই আবেদন করতে পারবেন।

 প্রশ্নঃ বিকাশ লোনের আবেদন বাতিল হলে কী করবেন?

উত্তরঃ আবেদন বাতিল হলে নিয়মিত বিকাশ একাউন্ট ব্যবহার করুন, নিয়মিত লেনদের রাখুন এবং পরে আবার অ্যাপে লোন অফার এসেছে কি না তা দেখে আবেদন করুন।

 প্রশ্নঃ  বিকাশ লোনের টাকা কি আগে থেকেই বিকাশ একাউন্টে থাকতে হবে?

উত্তরঃ না। লোন অনুমোদন হওয়ার পর সিটি ব্যাংক সরাসরি আপনার বিকাশ একাউন্টে লোনের টাকা পাঠিয়ে দেয়। এরপর আপনি সেই টাকা ব্যবহার করতে পারবেন।

বিকাশ লোন ফরম সর্ম্পকে লেখকের পরামর্শ

বিকাশ লোন জরুরি  টাকা পাওয়ার একটি সহজ ডিজিটাল সেবা। তবে এই সুবিধা সব গ্রাহকের জন্য নয়, শুধুমাত্র যোগ্য গ্রাহকরাই সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে বিকাশ অ্যাপ থেকে লোনের জন্য আবেদন করতে পারেন। তাই আবেদন করার আগে লোনের পরিমাণ, সুদের হার, চার্জ, পরিশোধের সময়সীমা এবং অন্যান্য শর্ত ভালোভাবে পড়ে নেওয়া উচিত। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রয়োজন অনুযায়ী লোন নিন এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিশোধ করুন। এতে ভবিষ্যতে আবার লোন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।

এতক্ষন আমরা বর্তমানে বিকাশ অ্যাপে ৫০০ টাকা থেকে ৫০০০০ টাকা পর্যন্ত ৩ থেকে ৬ মাস মেয়াদী  কোনো ব্যাংক একাউন্ট ছাড়া, জামানত ছাড়া এবং কোনো কাগজপত্র ছাড়াই সরাসরি কিভাবে লোন নিতে পারবেন বিস্তারিত আলোচনা করেছি। বিস্তারিত আলোচনার পর নিশ্চই আপনার ধারণা হয়েছে বিকাশ লোন সর্ম্পকে। আরো বিস্তারেত জানতে বিকাশ লোন অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করতে পারেন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টিপস পয়েন্ট আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url