মোবাইলে একাউন্ট খুলে টাকা আয় ২০২৬ - সেরা ৮টি বিশ্বস্ত উপায়

আপনার হাতে যদি একটা স্মার্টফোন থাকে তাহলে খুব সহজেই টাকা ইনকাম করতে পারবেন। মোবাইলে একাউন্ট খুলে টাকা ইনকাম করা কি সম্ভব অনেকের মনে একটা প্রশ্ন থেকে যায়।

একাউন্ট-খুলে-টাকা-আয়

তাহলে চলুন আমরা বিস্তারিত জেনে নেই কিভাবে মোবাইলে একাউন্ট খুলে টাকা ইনকাম করা যায়  সেরা ১০টি বিশ্বস্ত উপায়।

পেজ সূচিপত্রঃ মোবাইলে একাউন্ট খুলে টাকা আয় ২০২৬ - সেরা ১০টি বিশ্বস্ত উপায়

একাউন্ট খুলে টাকা আয় কীভাবে সম্ভব?

অনেকেই ভাবেন, অ্যাকাউন্ট খুলে টাকা আয় করা কি সত্যিই সম্ভব? উত্তর হলো - হ্যাঁ, তবে সব ক্ষেত্রে না। বর্তমানে অনেক অ্যাপ, ওয়েবসাইট, ‍বিভিন্ন অনলাইন প্লাটফর্ম এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নতুন ব্যবহারকারীকে আকর্ষণ করতে সাইন আপ বোনাস, রেফারেল বোনাস, বিভিন্ন ধরনের বোনাস বা রিওয়ার্ড দিয়ে থাকে। তবে শুধু অ্যাকাউন্ট খুললেই টাকা হাতে চলে আসে না। 

বেশিরভাগ সময় তাদের কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়, যেমন পরিচয় যাচাই, প্রথম লেনদেন করা বা বন্ধুদের রেফার করা। তাই কোথাও অ্যাকাউন্ট খোলার আগে তাদের নিয়ম ও শর্ত ভালোভাবে পড়ে নিন। বিশ্বস্ত প্ল্যাটফর্ম বেছে নিলে নিরাপদভাবে আয়ের সুযোগ পাওয়া যায়, কিন্তু অবাস্তব লোভ দেখানো অচেনা সাইট বা অ্যাপ থেকে দূরে থাকাই ভালো।

বিকাশ একাউন্ট খুলে টাকা ইনকাম

বিকাশ নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য বিভিন্ন সময়ে বিশেষ অফার নিয়ে আসে। আবার অনেক সময় রেফারেল প্রোগ্রাম চালু করে। আপনি নতুন বিকাশ অ্যাপ রেফার করে মাসে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন। যেখানে আপনি  আপনার আত্নীয় কাউকে বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করতে রেফার পাঠালেন সে আপনার রেফার লিংক থেকে বিকাশ অ্যাপ ডাউনলোড করে একাউন্ট খুলে লগ ইন করল।

আপনার পাঠানো রেফার ‍দিয়ে লগ ইন করলেই পাবেন ‍নিশ্চিত বোনাস ৫০টাকা। তবে কাউকে বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করতে রেফার পাঠানোর আগে একটি বিষয় মনে রাখবেন সব সময় একই অফার থাকে না। বিকাশ প্রয়োজন অনুযায়ী অফার পরিবর্তন করে বা বন্ধও করে দিতে পারে। তাই অ্যাকাউন্ট খোলার আগে বা কাউকে রেফার করার আগে বিকাশের সর্বশেষ অফার দেখে নেওয়া উচিত।

যদি কোনো রেফারেল অফার চালু থাকে, তাহলে সাধারণত যে ধাপগুলো মেনে কাজ করতে হয়:
  • প্রথমে একটি বিকাশ একাউন্ট খুলুন।
  • বিকাশ অ্যাপে লগইন করে রেফারেল অপশন থাকলে সেটি চালু করুন।
  • আপনার রেফারেল লিংক বা কোড বন্ধু বা আত্নীয়দের সাথে শেয়ার করুন।
  • বন্ধু আপনার লিংক দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে অফারের শর্ত পূরণ করলে আপনি বোনাস পেতে পারেন।
তবে মনে রাখবেন, শুধু একাউন্ট খুললেই টাকা পাওয়া যায় না। অফারের শর্ত অনুযায়ী পরিচয় যাচাই, প্রথম লেনদেন বা অন্য কোনো কাজ করতে হতে পারে। তাই অফারের নিয়মগুলো অবশ্যই আগে পড়ে নিন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ইউটিউবে অনেক পুরোনো বিকাশ অফারের পোস্ট দেখা যায়। তাই পুরোনো অফার দেখে কাজ শুরু না করে, বিকাশের বর্তমান অফার আছে কি না তা আগে যাচাই করুন।

মুক্যাশ থেকে টাকা আয়

মুক্যাশ এমন একটি  (GPT) প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ছোট ছোট অনলাইন কাজ করে টাকা বা রিওয়ার্ড অর্জন করা যায়। যারা মোবাইল দিয়ে অনলাইনে আয় করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি পরিচিত নাম। তবে মনে রাখবেন, সব দেশের জন্য একই ধরনের কাজ বা অফার পাওয়া যায় না।

মুক্যাশ-এ একাউন্ট কীভাবে খুলবেন? প্রথমে মুক্যাশ-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান। এরপর সাইন আপ এ ক্লিক করে আপনার ইমেইল ঠিকানা বা গুগুল অ্যাকাউন্ট দিয়ে সাইন আপ করুন। সাইন আপের পর ইমেইলে পাঠানো লিংকে ক্লিক করে একাউন্টটি যাচাই করুন। এরপর প্রোফাইলের প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করলেই কাজ শুরু করতে পারবেন।

মুক্যাশ থেকে কীভাবে টাকা আয় করবেন? মুক্যাশ-এ বিভিন্ন ধরনের কাজ থাকে। যেমন:
  • নতুন অ্যাপ ডাউনলোড ও ব্যবহার করা।
  • ছোট ছোট মতামত সম্পন্ন করা।
  • বিভিন্ন অফার সম্পন্ন করা।
  • ভিডিও দেখা বা নির্দিষ্ট কাজ শেষ করা।
  • বন্ধুদের রেফার করে অতিরিক্ত আয় করা।
প্রতিটি কাজ সম্পন্ন করলে আপনার একাউন্টে পয়েন্ট বা অর্থ যোগ হবে। নির্দিষ্ট পরিমাণ জমে গেলে প্ল্যাটফর্মের নিয়ম অনুযায়ী টাকা তুলার জন্য আবেদন করতে পারবেন। মুক্যাশ ব্যবহার করার সময় যা মনে রাখবেন, সব অফার সবসময় পাওয়া যায় না এবং দেশের ভিত্তিতে কাজের সংখ্যা কম বা বেশি হতে পারে। তাই প্রতিদিন লগইন করে নতুন অফার আছে কি না নিন। এছাড়া কোনো কাজ সম্পন্ন করার সময় ভুল তথ্য দিলে রিওয়ার্ড নাও পেতে পারেন, তাই সব তথ্য সঠিকভাবে প্রদান করুন।
একাউন্ট-খুলে-টাকা-আয়

ফ্রিক্যাশ  অ্যাকাউন্ট খুলে আয়ের উপায়

ফ্রিক্যাশ থেকে কীভাবে টাকা আয় করবেন? ফ্রিক্যাশ এমন একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ছোট ছোট কাজ করে আয়ের সুযোগ রয়েছে। যাদের হাতে প্রতিদিন অল্প সময় থাকে, তারা ফাঁকা সময়ে এইসব কাজ করে কিছু টাকা আয় করতে পারেন। তবে আয়ের পরিমাণ আপনার করা কাজের উপর এবং আপনার দেশের জন্য কী কী কাজ আছে, তার ওপর নির্ভর করে।
ফ্রিক্যাশে অ্যাকাউন্ট কীভাবে খুলবেন? প্রথমে ফ্রিক্যাশের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান। এরপর একাউন্ট খুলুন অপশনে চাপ দিয়ে আপনার ইমেইল ঠিকানা অথবা গুগল একাউন্ট দিয়ে নতুন অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। এরপর ইমেইলে  একাউন্ট চালু হয়েছে কি না নিশ্চিত করুন। ফ্রিক্যাশে আয়ের জন্য অনেক ধরনের কাজ থাকে। যেমনঃ
  • বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করা।
  • মতামত ভিত্তিক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া।
  • গেম খেলে নির্দিষ্ট ধাপ শেষ করা।
  • বিশেষ অফার সম্পন্ন করা।
  • বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানিয়ে অতিরিক্ত আয় করা।
প্রতিটি কাজ শেষ হলে আপনার একাউন্ট এ পয়েন্ট জমা হবে। নির্দিষ্ট পরিমাণ পয়েন্ট জমলে সেগুলো প্ল্যাটফর্মের নিয়ম অনুযায়ী টাকায় রূপান্তর করে তুলতে পারবেন। মনে রাখবেন সব কাজ সবার জন্য এক রকম থাকে না। অনেক সময় বাংলাদেশে কিছু কাজ দেখা যায়, আবার কিছু কাজ দেখা যায় না। তাই প্রতিদিন নতুন কাজ এসেছে কি না দেখা ভালো। তাড়াতাড়ি বেশি আয়ের লোভে ভুল তথ্য দিবেন না। সঠিকভাবে কাজ করলে আয় পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

পনস অ্যাপ থেকে কীভাবে আয় করবেন?

পনস অ্যাপ এ শুধু একাউন্ট খুলেই বসে থাকলে টাকা পাওয়া যায় না। এখানে কিছু সহজ কাজ করলে এবং শেয়ার করলে ধীরে ধীরে আপনার একাউন্টে আয় জমতে শুরু করে। তাই বাড়তি সময় কাজে লাগিয়ে কিছু  আয় করতে চাইলে এটি ব্যবহার করে দেখতে পারেন। পনস অ্যাপে একাউন্ট তৈরি করুন। এরপর ইমেইল যাচাই করে লগইন করলেই কাজ শুরু করতে পাবেন।

এখানে আয়ের কয়েকটি উপায় রয়েছে। আপনি চাইলে প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন, ছোটখাটো অনলাইন কাজ করতে পারেন। প্রতিটি কাজ সফলভাবে শেষ হলে আপনার একাউন্টে ব্যালেন্স বা বোনাস যোগ হবে।যখন আপনার একাউন্টে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা জমে যাবে, তখন টাকা উত্তোলন অপশন থেকে আবেদন করতে পারবেন। 

প্ল্যাটফর্মটি সাধারণত পেপ্যাল, বিটকয়েনসহ কয়েকটি জনপ্রিয় পদ্ধতিতে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেয়। তবে কোন কোন পদ্ধতি পাওয়া যাবে, তা আপনার দেশের ওপর নির্ভর করতে পারে।

হানিগেইন  দিয়ে  ইনকাম 

হানিগেইন এমন একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে মোবাইল বা কম্পিউটারে একাউন্ট খুলে ইন্টারনেট ডেটা শেয়ার করার মাধ্যমে আয়ের সুযোগ রয়েছে। আপনি যতক্ষণ অ্যাপটি চালু রাখবেন এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করবেন, ততক্ষণ ধীরে ধীরে আপনার একাউন্টে ক্রেডিট জমতে থাকবে।

প্রথমে হানিগেইনের একাউন্ট খুললে ৫ ডলার বোনাস দেয়। হানিগেইনে জমা হওয়া ক্রেডিট নির্দিষ্ট পরিমাণে হলে সেগুলো টাকায় রূপান্তর করে তুলার জন্য আবেদন করা যায়। সাধারণত পেপ্যাল বা অন্যান্য সমর্থিত অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে টাকা নেওয়ার সুযোগ থাকে। তবে কোন পদ্ধতি পাওয়া যাবে, তা আপনার দেশের ওপর নির্ভর করে।
আরো পড়ুনঃ 
মনে রাখবেন, হানিগেইন থেকে রাতারাতি অনেক টাকা আয় করা সম্ভব নয়। এটি ধীরে ধীরে আয় হওয়ার একটি মাধ্যম। তাই নিয়মিত বেশি সময় ধরে ব্যবহার করলে সময়ের সাথে ভালো পরিমাণ ব্যালেন্স জমতে পারে।

বিন্যান্স  একাউন্ট থেকে আয়

বিন্যান্স বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম। এখানে শুধু কয়েন কেনাবেচাই নয়, বিভিন্ন অফার, পুরস্কার এবং রেফারেল কর্মসূচির মাধ্যমেও আয়ের সুযোগ থাকে। নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য অনেক সময় বিশেষ বোনাস হিসেবে কিছু পরিমান ডলার ‍দিয়ে থাকে।

অ্যাকাউন্ট চালু হওয়ার পর আপনি বিভিন্ন প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন, বন্ধুদের আমন্ত্রণ জানিয়ে কমিশন পেতে পারেন অথবা কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ করে পুরস্কার অর্জন করতে পারেন। এছাড়া যারা ক্রিপ্টোকারেন্সি সম্পর্কে ভালো জানেন, তারা কয়েন কেনাবেচা করেও লাভ করার চেষ্টা করেন। তবে এতে লাভের পাশাপাশি ঝুঁকিও কম থাকবে।

যখন আপনার অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স জমে যাবে, তখন সেটি বিক্রি করে লোকাল এক্সচেঞ্জ  পদ্ধতিতে নিজের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তুলতে পারবেন। তবে এক্সচেঞ্জ এর নিয়ম দেশভেদে ভিন্ন হতে পারে। না বুঝে কোনো ধরনের বিনিয়োগ করবেন না। আগে প্ল্যাটফর্মের নিয়ম এবং ঝুঁকি সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া ভালো।
একাউন্ট-খুলে-টাকা-আয়

পেওনিয়ার একাউন্ট দিয়ে আয়

পেওনিয়ার এমন একটি আন্তর্জাতিক টাকা লেনদেনের প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সরাসরি অ্যাকাউন্ট খুললেই টাকা পাওয়া যায় না। তবে আপনি যদি বিদেশি প্রতিষ্ঠান, অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম বা অনলাইন কাজ থেকে ডলার আয় করেন, তাহলে সেই টাকা নিরাপদে পেওনিয়ার একাউন্টে গ্রহণ করতে পারবেন।

পেওনিয়ারে একাউন্ট খুলতে প্রথমে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজের নাম, ইমেইল, মোবাইল নম্বর এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদন করতে হবে। এরপর পরিচয় যাচাই সম্পন্ন হলে একাউন্ট চালু হয়ে যাবে।এরপর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম থেকে পাওয়া টাকা আপনার পেওনিয়ার একাউন্টে জমা হবে। নির্দিষ্ট পরিমাণ ব্যালেন্স হলে সেটি নিজের ব্যাংক একাউন্টে তুলতে পারবেন।

বাংলাদেশ থেকেও অনেক ব্যবহারকারী এই পদ্ধতিতে টাকা তুলে থাকেন। মনে রাখবেন, পেওনিয়ার নিজে আয়ের প্ল্যাটফর্ম নয়। এটি মূলত বিদেশ থেকে উপার্জিত টাকা গ্রহণ ও নিজের ব্যাংকে আনার একটি নিরাপদ মাধ্যম।

টলোকা একাউন্ট খুলে কীভাবে আয় করবেন?

টলোকা একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ছোট ছোট কাজ করে টাকা আয় করা যায়। যেমনঃ ছবি যাচাই করা, তথ্য মিলিয়ে দেখা, ভিডিও যাচাই করা, অডিও শুনে লেখা তৈরি করা, লেখার ভুল ঠিক করা, সার্চ ফলাফল যাচাই করা, মানচিত্রের তথ্য মিলিয়ে দেখা এবং ছোট ছোট প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো সহজ কাজ থাকে। প্রতিটি কাজ শেষ করলে আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা যোগ হয়। কাজগুলো খুব কঠিন নয়, তাই অনেকেই মোবাইল দিয়েই শুরু করেন।

টলোকায় একাউন্ট খুলে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করলেই আপনার জন্য থাকা কাজগুলো দেখতে পারবেন। প্রতিটি কাজ সফলভাবে শেষ করলে আপনার একাউন্টে টাকা জমা হবে। কিছু কাজের জন্য কয়েক মিনিট সময় লাগে, আবার কিছু কাজ একটু বেশি সময় নিতে পারে। আপনি যত বেশি সঠিকভাবে কাজ করবেন, তত বেশি কাজ পাওয়ার আশা বাড়বে।

একাউন্টে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা জমে গেলে টলোকার টাকা উত্তোলন এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্ল্যাটফর্মের নিয়ম অনুযায়ী টাকা উত্তোলনের মাধ্যমে সেই টাকা নিজের একাউন্টে নিতে পারবেন। কাজ তাড়াতাড়ি শেষ করার চেয়ে সঠিকভাবে শেষ করার চেষ্টা করুন। ভুল বেশি হলে ভবিষ্যতে কম কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

একাউন্ট খুলে টাকা আয় করার সময় যেসব বিষয় মনে রাখবেন

অনলাইনে একাউন্ট খুলে ইনকাম করার আগে কয়েকটি বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখা উচিত। এতে প্রতারণার ঝুঁকি কমবে এবং নিরাপদে কাজ করতে পারবেন।
  • সবসময় বিশ্বস্ত ও পরিচিত প্ল্যাটফর্মে একাউন্ট  খুলুন।
  • কোনো প্ল্যাটফর্ম যদি আগে টাকা চায়, তাহলে ভালোভাবে যাচাই করে নিন।
  • নিজের পাসওয়ার্ড, ওটিপি বা ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কারও সাথে কখনও বলবেন না।
  • কাজ শুরু করার আগে প্ল্যাটফর্মের নিয়ম ও শর্ত পড়ে নিবেন।
  • অল্প সময়ে অনেক টাকা আয়ের লোভনীয় বিজ্ঞাপনে বিশ্বাস করবেন না।
  • একই নামে ভুয়া ওয়েবসাইট বা অ্যাপ থেকে সতর্ক থাকবেন।
  • টাকা তোলার নিয়ম এবং টাকা তুলার সময় সীমা আগে জেনে নিন।
  • নিয়মিত কাজ করুন এবং ধৈর্য ধরুন। বেশিরভাগ প্ল্যাটফর্মে আয় ধীরে ধীরে বাড়ে।
অনলাইনে আয় করা সম্ভব, তবে সঠিক প্ল্যাটফর্ম বেছে নিয়ে নিয়ম মেনে কাজ করলেই ভালো ফল পাওয়া যায়।

একাউন্ট খুলে টাকা আয় সর্ম্পকে সাধারণ প্রশ্ন 

প্রশ্নঃ  শুধু একাউন্ট খুললেই কি টাকা পাওয়া যায়?
উত্তরঃ না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে একাউন্ট খোলার পর নির্দিষ্ট কাজ বা অফারের শর্ত পূরণ করতে হয়। তারপর ইনকামের সুযোগ তৈরি হয়।

প্রশ্নঃ মোবাইল দিয়ে কি একাউন্ট খুলে টাকা ইনকাম করা যায়?
উত্তরঃ হ্যাঁ। বর্তমানে অনেক প্ল্যাটফর্মে শুধু স্মার্টফোন দিয়েই একাউন্ট খুলে কাজ করে আয় করা যায়।

প্রশ্নঃ একাউন্ট খুলে কত টাকা আয় করা সম্ভব?
উত্তরঃ এটি সম্পূর্ণ আপনার কাজের পরিমাণ, প্ল্যাটফর্ম এবং অফারের ওপর নির্ভর করে। নির্দিষ্ট কোনো আয়ের নিশ্চয়তা নাই।

প্রশ্নঃ আয় করা টাকা কীভাবে তোলা যায়?
উত্তরঃ প্ল্যাটফর্মভেদে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল ব্যাংকিং, পেওনিয়ার, পেপ্যাল বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে টাকা তোলার সুযোগ থাকতে পারে।

প্রশ্নঃ একাউন্ট খুলে টাকা ইনকাম করা কি নিরাপদ?
উত্তরঃ বিশ্বস্ত ও পরিচিত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করলে সাধারণত নিরাপদ। তবে ব্যক্তিগত তথ্য ও ওটিপি কখনো কারও সাথে শেয়ার করবেন না।

প্রশ্নঃ বাংলাদেশ থেকে কি এসব প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা যায়?
উত্তরঃ কিছু প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশে ভালোভাবে কাজ করে, আবার কিছু প্ল্যাটফর্মে কাজ বা টাকা তুলার সুবিধা সীমিত থাকতে পারে। তাই একাউন্ট খোলার আগে প্ল্যাটফর্মের নিয়ম দেখে নেওয়া ভালো।

একাউন্ট খুলে টাকা আয় সর্ম্পকে লেখকের শেষকথা

বর্তমানে একাউন্ট খুলে টাকা ইনকাম করার অনেক সুযোগ থাকলেও সব প্ল্যাটফর্ম এক রকম নয়। কোথাও ছোট ছোট কাজ করে আয় করা যায়, কোথাও রেফারেল বা বিশেষ অফারের মাধ্যমে, আবার কোথাও নির্দিষ্ট দক্ষতা কাজে লাগিয়ে আয়ের সুযোগ রয়েছে। তাই কোনো প্ল্যাটফর্মে একাউন্ট খোলার আগে তার নিয়ম, শর্ত এবং টাকা তুলার পদ্ধতি ভালোভাবে জেনে নেওয়া উচিত।

এতক্ষন আমরা কিভাবে একাউন্ট খুলে টাকা ইনকাম করার জনপ্রিয় কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম, একাউন্ট খোলার নিয়ম এবং ইনকামের উপায় সহজ ভাবে বলেছি। আশা করি তথ্যগুলো আপনার কাজে লাগবে। যদি আপনি নিয়মিত এবং ধৈর্য ধরে কাজ করেন, তাহলে অনলাইন থেকে বাড়তি আয়ের একটি ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারবেন। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টিপস পয়েন্ট আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url