অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

আপনি কি অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খুলতে চাচ্ছেন? অথচ অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম, কোন ধরণের একাউন্ট খুলতে চান, কি কি কাগজপত্র লাগবে এবং একাউন্ট চার্জ কত লাগবে তা সর্ম্পকে জানেন না। এই আর্টিকেলে একাউন্ট সর্ম্পকিত সকল তথ্য জানুন।

অগ্রণী-ব্যাংক-একাউন্ট-খোলার-নিয়ম

চলুন জেনে নেওয়া যাক, অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম ও আপনাকে একাউন্ট খুলতে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস কি কি লাগবে সকল বিস্তারিত তথ্য।

পেজ সূচিপত্রঃঅগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস

অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম

আপনি যদি অগ্রণী ব্যাংকে একাউন্ট খুলতে চান, তাহলে প্রথমেই আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনার বাসা বা অফিসের কাছাকাছি কোন শাখায় একাউন্ট খুলবেন। কাছের শাখায় একাউন্ট খুললে পরবর্তীতে লেনদেন করাটা অনেক সহজ হয়ে যাবে আপনার জন্য, তাই দূরের কোনো শাখায় না গিয়ে নিকটস্থ বা কাছের শাখাটাই বেছে নেওয়া ভালো।

শাখা ঠিক করার পর আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ঠিক কোন ধরনের একাউন্ট আপনি খুলতে চাচ্ছেন সেটা কি সেভিংস বা সঞ্চয়ী, চলতি বা চেকিং নাকি ফিক্সড ডিপোজিট। এটা নির্ভর করবে আপনি একাউন্টটা ঠিক কী কাজে ব্যবহার করবেন তার ওপর নির্ভর করে আপনাকে একাউন্টের ধরণ বেচে নিতে হবে। সাধারণত সবাই সেভিংস একাউন্ট খুলে কারণ এটা সঞ্চয়ী।

এরপরের ধাপ হলো আপনাকে ব্যাংকে গিয়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তার সাথে কথা বলা। ব্যাংকে ঢুকে যেকোনো স্টাফকে জিজ্ঞেস করলেই তিনি আপনাকে সংশ্লিষ্ট অফিসারের কাছে পাঠিয়ে দেবেন। ওই অফিসার আপনার কাছে জানতে চাইবেন আপনি কোন ধরনের একাউন্ট খুলতে চান, তারপর সে অনুযায়ী আপনাকে একটা ফরম দেবেন।

ফরমটা হাতে পাওয়ার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো এটা সম্পূর্ণ সঠিকভাবে পূরণ করা নাম, ঠিকানা, পেশা, নম্বর, জিমেই ইত্যাদি সঠিক তথ্য দিতে হবে, তথ্যে যেন কোনো ভুল না থাকে। ফরমের সাথে চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দিতে হবে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপনার দেওয়া সব তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই করবে, আর সবকিছু ঠিকঠাক পেলেই আপনার একাউন্ট খুলে দেওয়া হবে।

অনলাইনে অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম

অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট দুইভাবে খোলা যায়। অগ্রণী ব্যাংকের শাখায় গিয়ে অথবা অনলাইনে। বর্তমানে ঘরে বসেই মোবাইল দিয়ে অনলাইনে অগ্রণী ব্যাংকে একাউন্ট খোলা যায়, শাখায় গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর কোনো দরকার নেই। এজন্য ব্যাংকের নিজস্ব অ্যাপ Agrani eAccount ব্যবহার করতে হয়। চলুন সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটা ধাপে ধাপে জেনে নেওয়া যাক, যাতে আপনার বুঝতে সুবিধা হয়ঃ

১. অ্যাপ ইন্সটল করাঃ প্রথমে আপনার ফোনের গুগুল পেল স্টোর থেকে Agrani eAccount নামে অফিসিয়াল অ্যাপটি খুজে ইন্সটল করতে হবে। ইন্সটল হয়ে গেলে অ্যাপটি ওপেন করতে হবে।

২. মোবাইল নম্বর যাচাইঃ অ্যাপ ওপেন করার পর যে মোবাইল নম্বর দিয়ে একাউন্ট খুলতে চান সেটি দিবেন। মনে রাখবেন, এই নম্বরটি অবশ্যই আপনার হাতের কাছে থাকতে হবে এবং সবসময় খোলা থাকতে হবে, কারণ এখানে একটি অটিপি পাঠানো হবে। মেসেজে পাওয়া অটিপি সঠিকভাবে বসিয়ে ভেরিফাই করতে হবে।

৩. জাতীয় পরিচয়পত্র ভেরিফিকেশনঃ নম্বর ভেরিফাই হওয়ার পর অ্যাপটি আপনার আইডি কার্ডের ছবি চাইবে। অ্যাপের ভেতরের ক্যামেরা দিয়েই কার্ডের সামনের পাশ ও পেছনের পাশ আলাদাভাবে স্পষ্ট করে তুলুন। ছবি যেন ঝাপসা বা কাটাছেড়া না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন, নাহলে পরে সমস্যা হতে পারে।

৪. নিজের ছবি আপলোডঃ এরপর অ্যাপ আপনার লাইভ ছবি তুলতে বলবে, যা আইডির সাথে মিলিয়ে দেখা হবে। ভালো আলোয় স্পষ্টভাবে ছবি তুলুন।

৫. তথ্য যাচাইঃ ছবি জমা দেওয়ার পর আইডি কার্ড অনুযায়ী আপনার নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা ইত্যাদি অটোমেটিক দেখাবে। এই তথ্যগুলো মনোযোগ দিয়ে পড়ুন বানানে বা তথ্যে কোনো ভুল থাকলে সাথে সাথেই সংশোধন করে নিবেন, কারণ পরে সংশোধন করা অনেক ঝামেলার।

৬. নমিনির তথ্য প্রদানঃ আপনার একাউন্টের নমিনি হিসেবে যাকে রাখতে চান তার একটি ছবি এবং তার আইডি কার্ডের উভয় পাশের ছবি একইভাবে ক্যামেরা দিয়ে তুলে আপলোড করতে হবে।

৭. শাখা ও ব্যক্তিগত তথ্য নির্বাচনঃ এই ধাপে আপনার বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং কোন শাখায় একাউন্টটি সংযুক্ত হবে তা সিলেক্ট করতে হবে। এরপর পেশা, স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা এবং ইমেইল অ্যাড্রেস যদি থাকে দিতে হবে। সবশেষে ডেবিট কার্ড নেবেন নাকি চেক বই সেটাও এখানে বেছে নিতে হয়।
৮. চূড়ান্ত যাচাই ও সাবমিটঃ সব তথ্য একবার পুরোপুরি পড়ে দেখুন, কোথাও ভুল থাকলে ঠিক করে নিন। সব ঠিক থাকলে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন। এরপর আপনার দেওয়া নম্বরে একটি নিশ্চিতকরণ এসএমএস আসবে, যার মাধ্যমে বোঝা যাবে আপনার একাউন্ট অনলাইনে সফলভাবে খোলা হয়েছে।

৯. শাখায় গিয়ে KYC সম্পন্ন করাঃ অনলাইনে আবেদন জমা দিলেই কিন্তু কাজ শেষ হবে না। একাউন্টটি পুরোপুরি সচল করতে হলে আপনাকে একবার কাছে যেকোনো অগ্রণী ব্যাংক শাখায় গিয়ে KYC সম্পন্ন করতে হবে। এই ধাপ বাদ দিলে একাউন্ট দিয়ে কোনো লেনদেন করা যাবে না। তাই এটি করে নিবেন।

একটা কথা মনে রাখবেন, পুরো প্রক্রিয়ায় ইন্টারনেট কানেকশন নেট ভালো থাকতে হবে, নাহলে ছবি আপলোডে সমস্যা হতে পারে, প্রতিটা ধাপে দেওয়া তথ্য দুইবার চেক করে নিবেন, KYC সম্পন্ন না করলে একাউন্ট নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থেকে যাবে, তাই যত দ্রুত সম্ভব শাখায় গিয়ে এই কাজটি সেরে ফেলুন।

অগ্রণী ব্যাংক একাউন্টের প্রকারভেদ ও সুবিধা

অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার আগে আপনাকে জানতে হবে আপনি কোন ধরণের একাউন্ট খুলতে চান। অগ্রণী ব্যাংকে বিভিন্ন ধরনের একাউন্ট খোলার সুযোগ আছে। কার জন্য কোন একাউন্টটা মানানসই হবে, সেটা বুঝতে হলে আগে জেনে নেওয়া দরকার কোন একাউন্টে ঠিক কী কী সুবিধা পাওয়া যায়। চলুন জেনে নেই বিস্তারিতভাবেঃ

সেভিংস বা সঞ্চয়ী একাউন্টঃ সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত সঞ্চয় ও নিয়মিত লেনদেনের জন্য এই একাউন্টটাই সবচেয়ে বেশি খোলা হয়। এই একাউন্টের সুবিধাঃ
  1. সেভিংস একাউন্টে জমাকৃত টাকার ওপর মুনাফা পাওয়া যায়,
  2. সেভিংস একাউন্টে এটিএম কার্ড ও চেক বই দুটোই দেওয়া হয়,
  3. সেভিংস একাউন্টে খুব অল্প টাকা দিয়েও একাউন্ট খোলা যায়,
  4. সেভিংস একাউন্টে যখন মন চায় সহজে লেনদেনের সুযোগ,
চলতি বা চেকিং একাউন্টঃ মূলত ব্যবসায়ী বা যারা প্রতিদিন চেকের মাধ্যমে লেনদেন করেন, তাদের জন্য এই একাউন্ট বেশি উপযোগী। এই একাউন্টের সুবিধাঃ
  1. দিনে যতবার খুশি টাকা জমা বা তোলা যায়, কোনো সীমাবদ্ধতা নেই,
  2. চেকের মাধ্যমে সহজে পেমেন্ট করা যায়,
  3. ব্যবসায়িক লেনদেনের জন্য উপযুক্ত,
  4. চলতি বা চেকিং একাউন্টে অর্থে কোনো মুনাফা দেয় না,
ফিক্সড ডিপোজিট একাউন্টঃ ফিক্সড ডিপোজিট একাউন্টে একটা নির্দিষ্ট অংকের টাকা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জমা রাখা হয় এবং এই একাউন্টে তুলনামূলক ভালো মুনাফা পাওয়া যায়। এই একাউন্টের সুবিধাঃ
  1. অন্যান্য একাউন্টের চেয়ে মুনাফার হার বেশি,
  2. ৩ মাস থেকে ৫ বছর পর্যন্ত নিজের পছন্দমতো মেয়াদ বেছে নেওয়া যায়,
  3. মুনাফা মাসিক বা বাৎসরিক হিসেবে নেওয়ার সুযোগ থাকে,
স্টুডেন্ট একাউন্টঃ আপনি যদি একজন স্টুডেন্ট হন তাহলে এই একাউন্ট খুলতে পারবেন। শিক্ষার্থীদের কথা ভেবেই এই একাউন্টটা তৈরি, যাতে খুব সহজে ও কম খরচে তারা ব্যাংকিং সুবিধা পেতে পারে। এই একাউন্টের সুবিধাঃ
  1. এই একাউন্ট সবচেয়ে কম টাকায় খোলা যায়,
  2. এই একাউন্টে এটিএম কার্ডসহ শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়,
  3. বৃত্তি বা টিউশন ফি লেনদেনের জন্য উপযোগী,
নন-রেসিডেন্ট একাউন্টঃ যারা বিদেশে থাকেন এবং নিয়মিত দেশে টাকা পাঠান, তাদের জন্য এই বিশেষ একাউন্ট। এই একাউন্টের সুবিধাঃ
  1. বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেন করা যায়,
  2. বিদেশ থেকে সরাসরি টাকা পাঠানো ও উত্তোলন করা সহজ হয়,
যৌথ ব অপারেটর একাউন্টঃ দুই বা ততোধিক ব্যক্তি একসাথে মিলে যখন একটা একাউন্ট চালাতে চান, তখন এই ধরনের একাউন্ট খোলা হয়। এই একাউন্টের সুবিধাঃ
  1. একাধিক ব্যক্তি একসাথে একাউন্ট পরিচালনা করতে পারেন,
  2. পারিবারিক বা যৌথ ব্যবসায়িক প্রয়োজনে সুবিধাজনক।

অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আপনাকে অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার আগে অবশ্যই আপনাকে কি কি কাগজ লাগবে তা সর্ম্পকে জানতে হবে, যাতে একাউন্ট খুলতে গিয়ে ব্যাংকে যাওয়ার পর দেখেন কোনো কাগজ বাসায় ফেলে এসেছেন, তাহলে পুরো দিনটাই নষ্ট হয়ে যায়। তাই আগে থেকেই পুরো লিস্টটা জেনে, সব কাগজ গুছিয়ে নিয়ে তারপর ব্যাংকে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। নিচে প্রতিটা কাগজ কেন লাগে এবং কী কী বিকল্প আছে, তা বিস্তারিতভাবে বলে দিচ্ছিঃ

১. জাতীয় পরিচয়পত্রঃ এটাই মূল ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাগজ। আপনার পরিচয়, বয়স ও ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য এটা লাগবে। যাদের বয়স ১৮ বছরের কম বা এখনো আইডি কার্ড হয়নি, তারা জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়েও একাউন্ট খুলতে পারবেন। আর কোনো বিদেশি নাগরিক যদি বাংলাদেশে একাউন্ট খুলতে চান, তার ক্ষেত্রে পাসপোর্ট ব্যবহার করা হয়।

২. পাসপোর্ট সাইজের ছবিঃ সদ্য তোলা পাসপোর্ট সাইজের ২ থেকে ৩ কপি রঙিন ছবি লাগবে। পুরনো বা ঝাপসা ছবি ব্যাংক গ্রহণ নাও করতে পারে, তাই তুলনামূলক নতুন ছবি সাথে রাখুন।

৩. ঠিকানা যাচাইয়ের প্রমাণ বা ইউটিলিটি বিলঃ আপনি ফরমে যে ঠিকানা দেবেন সেটা সত্যিই আপনার কিনা তা যাচাইয়ের জন্য একটা ইউটিলিটি বিলের কপি চাওয়া হয় গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানির বিল, যেকোনো একটা হলেই চলবে। বিলটা যেন সাম্প্রতিক সময়ের হয় এবং তাতে আপনার ঠিকানা স্পষ্ট থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।

৪. নমিনির তথ্য ও কাগজপত্রঃ একাউন্ট খোলার সময় একজন নমিনি রাখা বাধ্যতামূলক। এর জন্য দরকার হবেঃ নমিনির জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, নমিনির সাম্প্রতিক দুই কপি রঙিন ছবি। নমিনি সাধারণত পরিবারের কাছের কেউ হয়, যেমন বাবা-মা, স্বামী-স্ত্রী বা সন্তান, যাতে ভবিষ্যতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে তিনি একাউন্টের দায়িত্ব নিতে পারেন।

৫. প্রাথমিক জমার টাকাঃ কাগজপত্রের পাশাপাশি একাউন্ট খোলার সময় হাতে করে একাউন্টের ধরন অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ প্রাথমিক টাকাও জমা দিতে হবে, কারণ এই টাকা ছাড়া একাউন্ট সচল হয় না।
৬. TIN সার্টিফিকেট প্রযোজ্য ক্ষেত্রেঃ যাদের বার্ষিক আয় একটা নির্দিষ্ট সীমার বেশি বা যারা করদাতা, তাদের ক্ষেত্রে TIN সার্টিফিকেট দেখাতে হতে পারে। সবার জন্য এটা বাধ্যতামূলক নয়, তবে সাথে থাকলে ভালো।

৭. স্টুডেন্ট একাউন্টের জন্য বাড়তি কাগজঃ স্টুডেন্ট একাউন্ট খুলতে চাইলে সাধারণ কাগজপত্রের সাথে নিজের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটা প্রত্যয়নপত্র বা স্টুডেন্ট আইডি কার্ড লাগবে, যা প্রমাণ করবে আপনি সত্যিই একজন শিক্ষার্থী।

৮. ব্যবসায়ী একাউন্টের জন্য বাড়তি কাগজঃ কেউ যদি ব্যবসায়িক প্রয়োজনে একাউন্ট খুলতে চান, তাহলে তার ট্রেড লাইসেন্স বা ব্যবসা নিবন্ধনের কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

৯. মোবাইল নম্বরঃ একাউন্ট ভেরিফিকেশন, OTP এবং পরবর্তীতে যেকোনো লেনদেনের নোটিফিকেশনের জন্য একটা সচল মোবাইল নম্বর দিতে হবে, যেটা সবসময় নিজের কাছে রাখেন এমন নম্বর হওয়াই ভালো।

কাগজপত্রের মূল কপির পাশাপাশি প্রতিটার এক সেট ফটোকপিও সাথে নিয়ে যান। অনেক সময় ব্যাংক মূল কপি শুধু দেখে ফেরত দেয় আর ফটোকপি জমা রাখে, তাই আগে থেকে ফটোকপি করা থাকলে বাড়তি সময় নষ্ট হবে না।
অগ্রণী-ব্যাংক-একাউন্ট-খোলার-নিয়ম

অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খুলতে চার্জ কত লাগে

অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার সময় আপনাকে জানতে হবে কোন একাউন্টে কত করে চার্জ লাগে।একাউন্ট খোলার সময় মূলত দুই ধরনের খরচ মাথায় রাখতে হয়  একটা হলো প্রাথমিক জমা যেটা আপনার একাউন্টেই থেকে যায়, এটা কোনো ফি না, আরেকটা হলো ভবিষ্যতে ব্যাংক যে সার্ভিস চার্জ কাটতে পারে সেটা। চলুন জেনে নেই চার্জসমূহ সর্ম্পকেঃ
একাউন্টের ধরন আনুমানিক প্রাথমিক জমা মন্তব্য
স্টুডেন্ট একাউন্ট ১০০ – ৫০০ টাকা সবচেয়ে কম খরচে খোলা যায়
সেভিংস একাউন্ট ২০০ – ৫০০ টাকা সাধারণ ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য
চলতি (কারেন্ট) একাউন্ট ১০০০ টাকা বা তার বেশি ব্যবসায়িক লেনদেনের জন্য
ফিক্সড ডিপোজিট ১০,০০০ টাকা থেকে শুরু মেয়াদ শেষে বেশি মুনাফাসহ
যৌথ বা অপারেটর একাউন্ট ৫০০ টাকা থেকে শুরু দুই বা ততোধিক ব্যক্তির জন্য

এই পরিমাণগুলো আনুমানিক, কারণ শাখাভেদে এবং সময়ের সাথে ব্যাংকের নীতিতে সামান্য পরিবর্তন আসতে পারে। তাই একাউন্ট খোলার আগে একবার নিকটস্থ শাখায় ফোন করে বা সরাসরি গিয়ে বর্তমান পরিমাণটা জেনে নেওয়া সবচেয়ে ভালো এতে ব্যাংকে গিয়ে টাকার অভাবে ফিরে আসতে হবে না।
প্রাথমিক জমা ছাড়া আর কী কী খরচ হতে পারে?
  • এটিএম কার্ড ইস্যু ফি (এককালীন)
  • চেক বই ইস্যু করলে তার জন্য নির্ধারিত চার্জ
  • একাউন্ট মেইনটেনেন্স ফি কিছু একাউন্টে বাৎসরিক কাটা হয়, স্টুডেন্ট একাউন্টে সাধারণত মওকুফ থাকে
  • SMS ব্যাংকিং সার্ভিস চার্জ যদি চালু রাখেন
এই বাড়তি চার্জগুলোর সঠিক পরিমাণ একাউন্টের ধরন ও শাখা অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে বলে নির্দিষ্ট সংখ্যা না দিয়ে শাখা থেকে যাচাই করে নেওয়ার ভালো।

অগ্রণী ব্যাংক সেভিংস একাউন্টের সুবিধাসমূহ

এতক্ষণ আমরা অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম, চার্জ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে বিস্তারিত জেনেছি। চলুন এখন সেভিংস একাউন্টের সুবিধা সর্ম্পকে জানি। কারণ এই একাউন্ট সবচেয়ে বেশি মানুষ ব্যবহার করেন। চলুন জেনে নিই ঠিক কী কী সুবিধা পাবেন এই একাউন্টে।

মুনাফা বা ইন্টারেস্ট সুবিধাঃ সেভিংস একাউন্টে জমাকৃত টাকার ওপর নিয়মিত মুনাফা পাওয়া যায়, এবং জমার পরিমাণ যত বেশি হয় মুনাফার হারও তত বাড়তে থাকে। সাধারণত এভাবে ধাপে ধাপে হার বাড়েঃ
ব্যালেন্সের পরিমাণ আনুমানিক মুনাফার হার
২০,০০০ টাকা থেকে ১,০০,০০০ টাকা প্রায় ২.৭৫%
১,০০,০০১ টাকা থেকে ৫,০০,০০০ টাকা প্রায় ৩.০০%
৫,০০,০০১ টাকা থেকে ১০,০০,০০০ টাকা প্রায় ৩.৫০%
১০,০০,০০১ টাকার উপরে প্রায় ৩.৭৫%

মনে রাখবেন, মুনাফার এই হার ব্যাংকের নীতি অনুযায়ী সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই একাউন্ট খোলার আগে বর্তমান হার শাখা থেকে জেনে নেওয়া ভালো।

  • এটিএম কার্ড সুবিধাঃ একাউন্ট খোলার সাথে সাথেই এটিএম কার্ড দেওয়া হয়, যা দিয়ে দেশের যেকোনো প্রান্তে থাকা এটিএম বুথ থেকে ২৪ ঘণ্টা টাকা তোলা যায়। শাখায় গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর দরকার নেই।
  • চেক বই সুবিধাঃ বড় অংকের লেনদেন বা কারো কাছে টাকা পাঠাতে চেক বই ব্যবহার করা যায়, যা ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত উভয় প্রয়োজনেই কাজে লাগে।
  • নমনীয় লেনদেনঃ সেভিংস একাউন্টে চাইলে যেকোনো সময় টাকা জমা দেওয়া বা তোলা যায় নির্দিষ্ট কোনো সময় বা মেয়াদ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় না, যেমনটা ফিক্সড ডিপোজিটে করতে হয়।
  • মোবাইল ব্যাংকিং ও অ্যাপ সুবিধাঃ Agrani eAccount অ্যাপের মাধ্যমে ঘরে বসেই ব্যালেন্স চেক, লেনদেনের হিস্ট্রি দেখা এবং অন্যান্য ব্যাংকিং কাজ করা যায়, যা সময় ও পরিশ্রম দুটোই বাঁচায়।
  • অল্প টাকায় শুরু করার সুযোগঃ মাত্র কয়েকশো টাকা দিয়েই এই একাউন্ট খোলা যায় বলে যেকোনো আয়ের মানুষের জন্যই এটা সহজলভ্য।
  • এসএমএস অ্যালার্ট সুবিধাঃ একাউন্টে কোনো লেনদেন হলে সাথে সাথে মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে নোটিফিকেশন পাওয়া যায়, যা একাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।

অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট ব্যালেন্স চেক করার নিয়ম

আপনার একাউন্টে কত টাকা আছে জানতে শাখায় যাওয়ার কোনো দরকার নেই। ঘরে বসেই দুইভাবে সহজে ব্যালেন্স চেক করতে পারবেন এসএমএসের মাধ্যমে অথবা অ্যাপের মাধ্যমে। দুটো নিয়মই নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো।

১. এসএমএসের মাধ্যমে ব্যালেন্স চেকঃ ইন্টারনেট বা স্মার্টফোন ছাড়াই সাধারণ বাটন ফোন দিয়েও ব্যালেন্স চেক করা যায় এসএমএসের মাধ্যমে। ধাপগুলো হলোঃ
  • প্রথমে ফোনের মেসেজ অপশনে যান।
  • এরপর নির্দিষ্ট ফরম্যাটে মেসেজ টাইপ করুন সাধারণত এই ফরম্যাটে লিখতে হয়ঃ
  • BAL<SPACE>আপনার একাউন্টের শেষ ৫ ডিজিট। উদাহরণ হিসেবে ধরুন আপনার একাউন্ট নম্বরের শেষ পাঁচটি সংখ্যা 12345, তাহলে মেসেজ হবে: BAL 12345
  • এই মেসেজটি ব্যাংকের নির্ধারিত শর্টকোড নম্বরে পাঠিয়ে দিতে হবে।
  • কিছুক্ষণের মধ্যেই একটা ফিরতি এসএমএসে আপনার বর্তমান ব্যালেন্স জানিয়ে দেওয়া হবে।
এই সার্ভিসের সঠিক শর্টকোড নম্বরটি সময়ের সাথে পরিবর্তন হতে পারে, তাই ভুল নম্বরে মেসেজ পাঠিয়ে টাকা বা সময় নষ্ট না করে, একাউন্ট খোলার সময় ব্যাংক কর্মকর্তার কাছ থেকে সঠিক নম্বরটা লিখে নিন অথবা ব্যাংকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা হেল্পলাইনে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হয়ে নিন।

২. Agrani eAccount অ্যাপের মাধ্যমে ব্যালেন্স চেকঃ স্মার্টফোন থাকলে অ্যাপের মাধ্যমে ব্যালেন্স চেক করাটাই সবচেয়ে সহজ ও দ্রুত উপায়, কারণ এখানে শুধু ব্যালেন্স নয়, পুরো লেনদেনের হিস্ট্রিও দেখা যায়।
  • প্রথমে গুগুল পেল স্টোর থেকে Agrani eAccount অ্যাপ ইন্সটল করুন যদি আগে থেকে না থাকে।
  • অ্যাপ ওপেন করে আপনার রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড বা OTP দিয়ে লগইন করুন।
  • লগইন করার পর ড্যাশবোর্ড বা হোম স্ক্রিনেই সাধারণত আপনার একাউন্টের বর্তমান ব্যালেন্স দেখা যায়।
  • এখান থেকে চাইলে সাম্প্রতিক লেনদেনের তালিকা, স্টেটমেন্ট এবং অন্যান্য তথ্যও দেখে নিতে পারবেন।
কোনটা বেছে নেবেন? জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত ব্যালেন্স জানতে চাইলে এসএমএস পদ্ধতি বেশি সুবিধাজনক। বিস্তারিত লেনদেনের হিসাব বা স্টেটমেন্ট দেখতে চাইলে অ্যাপ ব্যবহার করাই ভালো।

অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট নম্বর দেখার নিয়ম

একাউন্ট নম্বর ভুলে গেলে বা হাতের কাছে না থাকলে বিভিন্ন জায়গা থেকে সহজেই এটা খুঁজে বের করা যায়। নিচে সব উপায় বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো।

১. পাসবই বা চেক বই থেকেঃ একাউন্ট খোলার সময় যে পাসবই বা চেক বই দেওয়া হয়েছিল, তার প্রথম পাতাতেই সাধারণত একাউন্ট নম্বর স্পষ্ট করে লেখা থাকে। এটাই সবচেয়ে সহজ ও নির্ভরযোগ্য উপায়, তাই এই দুটোর যেকোনো একটা হাতের কাছে থাকলে সবার আগে সেটাই দেখুন।

২. এটিএম কার্ডের মাধ্যমেঃ এটিএম কার্ডে সরাসরি একাউন্ট নম্বর লেখা না থাকলেও, কার্ডটি দিয়ে নিকটস্থ এটিএম বুথে গিয়ে মিনি স্টেটমেন্ট অপশনে গেলে সেখানে আপনার একাউন্ট নম্বর প্রিন্ট হয়ে বের হয়।

৩. Agrani eAccount অ্যাপের মাধ্যমেঃ অ্যাপে লগইন করলে প্রোফাইল বা ড্যাশবোর্ড সেকশনে গেলেই আপনার একাউন্ট নম্বর দেখতে পাবেন। ধাপগুলো হলোঃ
  • Agrani eAccount অ্যাপে আপনার মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।
  • হোম স্ক্রিন বা My Account অথবা প্রোফাইল অপশনে যান।
  • সেখানে আপনার একাউন্ট নম্বরসহ অন্যান্য তথ্য দেখতে পাবেন।
৪. শাখায় সরাসরি গিয়েঃ উপরের কোনো উপায়ই কাজ না করলে, নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র সাথে নিয়ে যে শাখায় একাউন্ট খুলেছিলেন সেখানে যান। ব্যাংক কর্মকর্তা আপনার পরিচয় যাচাই করে একাউন্ট নম্বর জানিয়ে দেবেন।

৫. হেল্পলাইনে ফোন করেঃ ব্যাংকের অফিসিয়াল হেল্পলাইনে ফোন করেও একাউন্ট নম্বর সংক্রান্ত তথ্য জানতে পারবেন, তবে নিরাপত্তার জন্য তারা আপনার পরিচয় যাচাই করার কিছু প্রশ্ন করতে পারে, যেমন NID নম্বর বা জন্ম তারিখ।

একাউন্ট নম্বর কখনো অপরিচিত কারো সাথে ফোনে বা মেসেজে শেয়ার করবেন না। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কখনোই ফোন করে বা মেসেজ পাঠিয়ে একাউন্ট নম্বর, পিন বা পাসওয়ার্ড জানতে চায় না এমন কল বা মেসেজ পেলে সেটা প্রতারণা হতে পারে, তাই সতর্ক থাকুন।
অগ্রণী-ব্যাংক-একাউন্ট-খোলার-নিয়ম

অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম

আপনি যদি কোনো কারণে আর একাউন্ট ব্যবহার করতে না চান তাহলে সেটা বন্ধ করার প্রক্রিয়াটাও খুব বেশি কঠিন নয়। নিচে পুরো প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে বলে দিচ্ছি, যাতে গিয়ে কোনো ঝামেলায় না পড়েন।
  • সংশ্লিষ্ট শাখায় যাওয়াঃ যে শাখায় আপনার একাউন্টটি খোলা হয়েছিল, সেই শাখাতেই যেতে হবে। অন্য কোনো শাখায় গিয়ে একাউন্ট বন্ধের আবেদন সাধারণত গ্রহণ করা হয় না।
  • একাউন্ট বন্ধের আবেদন ফরম পূরণঃ শাখায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে একাউন্ট বন্ধের জন্য আবেদন ফরম চাইতে হবে। ফরমে একাউন্ট বন্ধ করার কারণ উল্লেখ করতে হয় যেমন: আর প্রয়োজন নেই, অন্য শাখায় স্থানান্তর ইত্যাদি।
  • প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়াঃ আবেদনের সাথে নিচের কাগজপত্র ও জিনিসগুলো জমা দিতে হয় জাতীয় পরিচয়পত্র, অব্যবহৃত চেক বইয়ের পাতা যদি থাকে, এটিএম কার্ড কার্ড থাকলে অবশ্যই ফেরত দিতে হবে, পাসবই যদি থাকে।
  • বকেয়া ও ব্যালেন্স নিষ্পত্তিঃ একাউন্টে যদি কোনো বকেয়া চার্জ থাকে যেমন মেইনটেনেন্স ফি, সেটা আগে পরিশোধ করতে হবে। এরপর একাউন্টে যত টাকা অবশিষ্ট আছে তা নগদে বা চেকের মাধ্যমে তুলে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
  • ব্যাংকের যাচাই ও অনুমোদনঃ আপনার আবেদন, কাগজপত্র ও ফেরত দেওয়া কার্ড-চেকবই সব ঠিকঠাক পেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যাচাই করে একাউন্টটি বন্ধ করে দেয়। সাধারণত এই প্রক্রিয়া একই দিনে বা কয়েক কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন হয়ে যায়।
মনে রাখার মতো কিছু বিষয় হলোঃ একাউন্ট বন্ধ করার আগে নিশ্চিত হয়ে নিন কোনো অটো-ডেবিট যেমন বিল পেমেন্ট এই একাউন্টের সাথে যুক্ত নেই, ফিক্সড ডিপোজিট একাউন্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে বন্ধ করলে মুনাফায় প্রভাব পড়তে পারে, একাউন্ট বন্ধের পরও একটা কনফার্মেশন স্লিপ বা রসিদ নিজের কাছে রেখে দিন, ভবিষ্যতে প্রয়োজন হতে পারে।

অগ্রণী ব্যাংক হেল্পলাইন নম্বর ও যোগাযোগ

আপনি যদি একাউন্ট নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়েন বা কোনো তথ্য জানতে চান তাহলে সরাসরি ব্যাংকের সাথে যোগাযোগ করাটাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সমাধান। নিচে অগ্রণী ব্যাংকের অফিসিয়াল যোগাযোগের তথ্যগুলো দেওয়া হলো, যা সরাসরি ব্যাংকের ওয়েবসাইট থেকে নেওয়া। হেড অফিসের ঠিকানা ও নম্বরঃ
  • ঠিকানা ৯/ডি, দিলকুশা বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা - ১০০০, বাংলাদেশ
  • PBX নম্বর সমূহঃ ৮৮০-২-৯৫৬৬১৫৩-৫৪, ৯৫৬৬১৬০-৬৯, ৯৫৬৬০৭৪-৭৫
  • ফ্যাক্সঃ (+৮৮০২) ৯৫৬ ২৩৪৬, ৯৫৬ ৩৬৬২
  • অফিসিয়াল ওয়েবসাইটঃ www.agranibank.org অথবা https://www.agranibank.org
  • অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ facebook.com/AgraniBankLimited
  • ওয়েবসাইটের Contact ও Helpline পেজে গিয়ে নির্দিষ্ট বিভাগ বা এলাকার জন্য আরও নম্বর ও ইমেইল খুঁজে পাবেন।
  • অভিযোগ ও যোগাযোগের ইমেইলঃ কোনো অভিযোগ থাকলে ব্যাংকের নির্দিষ্ট বিভাগে ইমেইলের মাধ্যমেও যোগাযোগ করা যায়।
দ্রুত সমাধানের জন্য পরামর্শঃ একাউন্ট সংক্রান্ত নির্দিষ্ট সমস্যার জন্য যেমন কার্ড ব্লক, লেনদেন সমস্যা সরাসরি নিজের শাখায় যোগাযোগ করাই সবচেয়ে দ্রুত সমাধান দেয়। অ্যাপ ব্যবহারে কোনো সমস্যা হলে অ্যাপের ভেতরেও সাধারণত একটা সাপোর্ট বা হেল্প অপশন থাকে। নম্বর বা ইমেইল সময়ের সাথে পরিবর্তন হতে পারে, তাই সবচেয়ে হালনাগাদ তথ্যের জন্য উপরের ওয়েবসাইট লিংকটি একবার চেক করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কিত প্রশ্ন FAQ

প্রশ্নঃ অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খুলতে কি কি লাগে?

উত্তরঃ একাউন্ট খুলতে মূলত লাগবে জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে জন্মনিবন্ধন বা পাসপোর্ট, দুই থেকে তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য একটা ইউটিলিটি বিলের কপি, নমিনির ছবি ও NID, এবং একটা সচল মোবাইল নম্বর। স্টুডেন্ট বা ব্যবসায়ী একাউন্টের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বাড়তি কাগজ স্টুডেন্ট আইডি বা ট্রেড লাইসেন্স লাগতে পারে।

প্রশ্নঃ অগ্রণী ব্যাংক একাউন্টে সর্বনিম্ন কত টাকা রাখা উচিত?

উত্তরঃ একাউন্ট সচল রাখার জন্য সাধারণত সেভিংস একাউন্টে কয়েকশো টাকার মতো ব্যালেন্স রাখা ভালো, যাতে কোনো সার্ভিস চার্জ কাটার সময় একাউন্ট নেগেটিভ ব্যালেন্সে না চলে যায়। সঠিক পরিমাণ একাউন্টের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে, তাই নিজের শাখা থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণটা জেনে নেওয়াই ভালো।

প্রশ্নঃ অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খুলতে কত টাকা লাগে?

উত্তরঃ একাউন্টের ধরনভেদে প্রাথমিক জমার পরিমাণ ভিন্ন স্টুডেন্ট একাউন্টে সবচেয়ে কম টাকায় শুরু করা যায় প্রায় ১০০-৫০০ টাকা, সেভিংস একাউন্টে মোটামুটি ২০০-৫০০ টাকা, আর চলতি বা ফিক্সড ডিপোজিট একাউন্টে তুলনামূলক বেশি টাকা লাগে। শাখাভেদে এই পরিমাণ একটু কম-বেশি হতে পারে।

প্রশ্নঃ অগ্রণী ব্যাংকের সুদের হার কত?

উত্তরঃ সেভিংস একাউন্টে ব্যালেন্সের পরিমাণ অনুযায়ী ধাপে ধাপে সুদের হার বাড়ে সাধারণত ২.৭৫% থেকে শুরু করে বড় অংকের ব্যালেন্সে ৩.৭৫% পর্যন্ত হতে পারে। আর ফিক্সড ডিপোজিটে মেয়াদ অনুযায়ী সুদের হার আরও বেশি হয়। যেহেতু এই হার সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হয়, তাই একাউন্ট খোলার আগে বর্তমান হার শাখা থেকে যাচাই করে নেওয়া ভালো।

প্রশ্নঃ একাউন্ট খোলার সময় নমিনি দেওয়া কি বাধ্যতামূলক?

অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কিত শেষকথা

এতক্ষণ আমরা অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম, একাউন্ট খোলার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, একাউন্ট খুলতে চার্জ কত লাগে, একাউন্ট ব্যালেন্স চেক করার নিয়ম, একাউন্ট নম্বর দেখার নিয়ম, একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম এবং হেল্পলাইন নম্বর সর্ম্পকে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। যাতে আপনাদের অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট খোলার নিয়ম থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য পান।

আশা করছি উক্ত আলোচনার পর আপনাদের অগ্রণী ব্যাংক একাউন্ট সর্ম্পকিত সকল তথ্য পেয়েছেন যাতে একাউন্ট খুলতে গিয়ে কোনো ধরণের সমস্যা না হয়। আপনার যদি কোনো মতামত থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টিপস পয়েন্ট আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url