বিদেশে যাওয়ার ইচ্ছা অনেকেরই থাকে, কিন্তু সঠিক তথ্যের অভাবে অনেকেই প্রতারণার
শিকার হন বা দালালের খপ্পরে পড়েন। তবে আপনি কি জানেন, সরকার নিজেই অত্যন্ত কম
খরচে এবং নিরাপদ উপায়ে বিদেশে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দিচ্ছে?
বোয়েসেল ও জনশক্তি ব্যুরোর মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতি বছর হাজার
হাজার মানুষ নিশ্চিন্তে প্রবাসে পাড়ি জমাচ্ছেন। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা
করব ঠিক কীভাবে আপনি কোনো ঝামেলা ছাড়াই সরকারি উপায়ে বিদেশে যেতে পারেন। চলুন
দেরি না করে বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার নিয়ম
আমাদের দেশের অনেক মানুষ প্রতিবছর বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন, কিন্তু সঠিক
নিয়মকানুন না জানার কারণে দালালের ফাঁদে পড়ে প্রতারিত হন এবং অতিরিক্ত টাকা
খরচ করে বসেন। অথচ সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার নিয়ম জানা থাকলে খুব সহজেই, কম
খরচে এবং নিরাপদে বিদেশে যাওয়া সম্ভব।
সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার প্রথম ধাপ হলো প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক
কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ BMET বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও
প্রশিক্ষণ ব্যুরো এ নিবন্ধন করা। এজন্য আপনাকে নিকটস্থ জেলা কর্মসংস্থান ও
জনশক্তি অফিসে গিয়ে অথবা অনলাইনে BMET রেজিস্টেশন কার্ড তৈরি করতে হবে।
নিবন্ধনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট এবং কিছু ব্যক্তিগত তথ্য
প্রয়োজন হয়।
এরপর আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কোন দেশে, কোন কাজের জন্য যেতে চান। সরকার
নিয়ন্ত্রিত Ami Probashi অ্যাপ অথবা BOESL এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের
চাহিদাপত্র ডিমান্ড লেটার অনুযায়ী আবেদন করা যায়। BOESL হলো সরকারের নিজস্ব
প্রতিষ্ঠান, যেটি সরাসরি বিভিন্ন দেশের নিয়োগকর্তার সাথে চুক্তির মাধ্যমে
জনশক্তি পাঠিয়ে থাকে এখানে কোনো দালালের প্রয়োজন হয় না।
নিয়ম মেনে ধাপে ধাপে এগোলে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার প্রক্রিয়া মূলত এই
কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়।
- BMET নিবন্ধন সম্পন্ন করা,
- পছন্দের দেশ ও কাজ নির্বাচন করে আবেদন করা,
- নির্ধারিত প্রশিক্ষণ (যদি প্রয়োজন হয়) সম্পন্ন করা,
- মেডিকেল পরীক্ষা ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহ করা,
- ভিসা প্রসেসিং ও চূড়ান্ত অনুমোদন,
-
BMET থেকে স্মার্টকার্ড সংগ্রহ করে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করা,
আপনি যদি এই পুরো প্রক্রিয়াটি সরকার নির্ধারিত নিয়মেই সম্পন্ন করেন তাহলে,
খরচ যেমন নিয়ন্ত্রণে থাকে, তেমনি প্রতারণার ঝুঁকিও অনেক কমে যাবে।
কেন সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়া নিরাপদ
বিদেশে কাজের জন্য যাওয়া মানুষদের একটা বড় অংশ প্রতারণার শিকার হন ভুয়া
ভিসা, নকল চুক্তিপত্র, কিংবা টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়া দালালের কারণে। এই
ঝুঁকি এড়ানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো সরকার নির্ধারিত পথে বিদেশ যাওয়া।
নিচে বোঝানো হলো ঠিক কী কী কারণে এই পথটা নিরাপদ।
সরকারিভাবে বিদেশ গেলে পুরো প্রক্রিয়া থাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক
কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে। এই মন্ত্রণালয়ই BMET এবং BOESL পরিচালনা
করে এবং এরাই ঠিক করে দেয় বিদেশ যেতে কত টাকা লাগবে অর্থাৎ কেউ চাইলেও
ইচ্ছামতো বাড়তি টাকা দাবি করতে পারে না।
BOESL হলো ১৯৮৪ সাল থেকে চলে আসা সরকারি একটি প্রতিষ্ঠান , যেটি বিদেশি
নিয়োগকর্তার সরাসরি চাহিদাপত্র অনুযায়ী কর্মী পাঠায়। মাঝখানে কোনো
ব্যক্তিগত দালাল না থাকায় প্রতারণার সুযোগ প্রায় থাকে না। আপনার ভিসা বা
চুক্তিপত্র আসল না নকল তা সরকারি ওয়েবসাইট থেকেই যাচাই করা যায় । ফলে
বিদেশে যাওয়ার আগেই নিশ্চিত হওয়া যায় সবকিছু বৈধ কি না।
বিদেশে গিয়ে কোনো সমস্যায় পড়লে এই মন্ত্রণালয় দূতাবাসের মাধ্যমে দেশে ও
বিদেশে আইনি সহায়তা দিয়ে থাকে বেসরকারি এজেন্সি বা দালালের মাধ্যমে গেলে এই
সুরক্ষা অনেক সময় পাওয়া যায় না।সরকারিভাবে বিদেশে যাওয়া সব দিক থেকে
নিরাপদ এবং আর্থিকভাবে তুলনামূলক সাশ্রয়ী । দালাল ধরে অবৈধ বা বেসরকারি পথে
গেলে খরচ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রতারণার ঝুঁকিও থাকে অনেক বেশি।
অনেকে সহজ পথ ভেবে অবৈধ উপায়ে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করেন, যা প্রায়ই
বিপর্যয়কর পরিস্থিতি ডেকে আনে যেমন মাঝপথে আটকা পড়া, প্রতারিত হওয়া, এমনকি
জীবনের ঝুঁকি পর্যন্ত। এই কারণে বিশেষজ্ঞরা সবসময় বৈধ ও সরকারি মাধ্যমকেই
সবচেয়ে নিরাপদ পথ বলে সুপারিশ করেন।
বিদেশ যাওয়ার সরকারি এজেন্সি ও প্রতিষ্ঠানসমূহ
আপনারা যদি সরকারি ভাবে বিদেশে যেতে চান তাহলে দুটি মাধ্যমে যেতে পারবেন।
বিদেশ যাওয়ার জন্য দুই ধরনের সরকারি মাধ্যম আছে। একটা হলো সরকারের নিজের
প্রতিষ্ঠান, আরেকটা হলো সরকার অনুমোদিত লাইসেন্সপ্রাপ্ত বেসরকারি এজেন্সি।
চলুন তাহলে দুইটি প্রতিষ্ঠানের সর্ম্পকে জানা যাক।
১. সরকারের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানঃ BOESL বোয়েসেল এটাই একমাত্র প্রতিষ্ঠান যেটা
পুরোপুরি সরকারের নিজের। এখান থেকে বিদেশ গেলে কোনো দালাল লাগে না, খরচও
সবচেয়ে কম হয়। একমাত্র এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আপনি কম খরচে নিশ্চিন্তে
সরকারি ভাবে বিদেশ যেতে পারবেন।
২. BMET লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সিঃ এগুলো বেসরকারি প্রতিষ্ঠান,
কিন্তু সরকার BMET এদের লাইসেন্স দিয়ে অনুমোদন দিয়েছে। কিছু পরিচিত নামঃ
- 4 Site International Ltd
- 5M International Ltd
- A B M Overseas Ltd
- A Halim International
- A N Z Group Multi Mega Services
- A A Overseas Ltd
- A B Establishment Ltd
- A M Air Travels Ltd
- A J Corporation
এই লিস্টটা শুধু কয়েকটা সরকার BMET এদের লাইসেন্স দিয়ে অনুমোদিত
প্রতিষ্ঠানের নাম আছে, তবে আরো অনেক লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সি আছে। পুরো
তালিকা পেতে হলে আপনি bmet.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সির
তালিকা অপশনে ঢুকে দেখতে পারেন।
কোনো এজেন্সি আসল কি না কীভাবে বুঝবেন? প্রথমে এজেন্সির নাম bmet.gov.bd এর
লাইসেন্স তালিকায় আছে কি না চেক করুন, তাদের লাইসেন্স নম্বর সচল কি না
দেখুন, যে এজেন্সি অনেক কম টাকায় বিদেশ পাঠানোর কথা বলে, তাদের ব্যাপারে
সতর্ক থাকুন এটা প্রতারণার সবচেয়ে বড় লক্ষণ।
সরকারিভাবে বিদেশ যেতে কী কী কাগজপত্র লাগে
আপনাকে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার আগে কিছু কাগজপত্র রেডি রাখতে হবে। কোন কাগজ
কেন লাগে, সেটা জানা থাকলে শেষ মুহূর্তে যাতে খুজতে আর সংগ্রহ করতে দৌড়াতে না
হয়। এই কাগজপত্রগুলো আগে থেকেই গুছিয়ে রাখলে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার
প্রক্রিয়া অনেক সহজ ও দ্রুত হয়ে যায়। চলুন জেনে নেই, কী কী কাগজ লাগে আর
প্রতিটা কাগজ কী কাজে লাগে যাতে আপনি আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখতে পারেন।
১. জাতীয় পরিচয়পত্র বা আইডি কার্ডঃ আপনার পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে NID লাগে।
BMET রেজিস্ট্রেশন থেকে শুরু করে পাসপোর্ট বানানো, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা
প্রায় প্রতিটা ধাপেই আইডি কার্ড দরকার হয়।
২. পাসপোর্টঃ আপনার বিদেশ যাওয়ার সবচেয়ে জরুরি কাগজ এটা। পাসপোর্ট ছাড়া
কোনোভাবেই আপনি বিদেশ যেতে পারবেন না। কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ থাকা পাসপোর্ট
লাগে, কারণ মেয়াদ কম থাকলে ভিসা দেয় না।
৩. পাসপোর্ট সাইজের ছবিঃ ভিসা আবেদন, BMET কার্ড, বিমান টিকিট বুকিং এসব
জায়গায় সাম্প্রতিক তোলা ২-৩ কপি ছবি লাগে।
৪. ভিসাঃ আপনি যে দেশে যেতে চান, সেই দেশের সরকার আপনাকে প্রবেশের অনুমতি
দিচ্ছে কি না, তার প্রমাণ হলো ভিসা। এটা ছাড়া কোনো দেশে ঢোকা সম্ভব না।
৫. কর্মসংস্থান চুক্তিপত্রঃ আপনি বিদেশে কী কাজ করবেন, বেতন কত, কর্মকাল
কতদিন এসব লেখা থাকে এই চুক্তিপত্রে। এটা আপনার অধিকার রক্ষার সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ কাগজ, তাই ভালো করে পড়ে বুঝে তারপর সই করা উচিত।
৬. মেডিকেল সার্টিফিকেটঃ আপনি শারীরিকভাবে কাজ করার জন্য উপযুক্ত কি না, তা
প্রমাণ করতে সরকার অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে পরীক্ষা করিয়ে সার্টিফিকেট
নিতে হয়। অসুস্থ শরীরে বিদেশে গেলে নিয়োগকর্তা ও কর্মী দুই পক্ষের জন্যই
সমস্যা হতে পারে, তাই এই পরীক্ষা বাধ্যতামূলক।
৭. পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটঃ আপনার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অপরাধের
রেকর্ড নেই, এটা প্রমাণ করতে এই সার্টিফিকেট লাগে। বেশিরভাগ দেশই এটা ছাড়া
ভিসা দেয় না, কারণ তারা নিশ্চিত হতে চায় আপনি নিরাপদ ব্যক্তি।
৮. BMET স্মার্টকার্ডঃ BMET এ রেজিস্ট্রেশন করার পর এই কার্ড ইস্যু হয়।
বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের সময় এটা দেখাতে হয়, নাহলে আটকে দেওয়া হতে পারে।
৯. বিমানের টিকিটঃ নির্দিষ্ট তারিখে যাত্রার প্রমাণ হিসেবে টিকিট লাগে। ভিসা
আবেদনের সময়ও অনেক দেশ কনফার্ম টিকিট দেখতে চায়।
১০. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও স্টেটমেন্টঃ বিদেশে বেতন পাঠানোর জন্য এবং কিছু
ক্ষেত্রে আর্থিক সচ্ছলতা প্রমাণের জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও স্টেটমেন্ট লাগে।
১১. দূতাবাসের ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বরঃ বিদেশে গিয়ে কোনো বিপদে পড়লে যাতে
দ্রুত যোগাযোগ করা যায়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসের ঠিকানা ও
ফোন নম্বর সাথে রাখা উচিত।
সরকারিভাবে বিদেশ যেতে বয়স কত হতে হবে
আপনি সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার আগে অবশ্যই বয়স ঠিক আছে কিনা দেখে নিবেন।
কেননা, সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে বয়স একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেন
বয়সের সীমা আছে, কম বয়সে কেন যাওয়া যায় না, আবার বেশি বয়সে কেন সমস্যা
হয় এগুলো বিস্তারিত জানা থাকলে আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া যায়।
শ্রমিক ভিসার ক্ষেত্রে ন্যূনতম বয়স ১৮ বছরঃ বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ১৮
বছরের কম বয়সী যে কেউ নাবালক হিসেবে গণ্য হয়। শ্রম আইনেও নাবালকদের দিয়ে
ভারী বা ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো নিষিদ্ধ। বিদেশে যেসব কাজ পাওয়া যায় যেমন
নির্মাণ শ্রমিক, কারখানার কাজ, কৃষিকাজ এসবে শারীরিক পরিশ্রম বেশি লাগে এবং
কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকিও থাকে।
তাই ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাজের ভিসা দেওয়া হয় না, কারণ এটা শিশুশ্রমের
আওতায় পড়ে যায়, যা আন্তর্জাতিক শ্রম আইনেও নিষিদ্ধ। এছাড়া কম বয়সে কেউ
চুক্তিপত্র বা আইনি দলিলে স্বাক্ষর করার জন্য আইনগতভাবে উপযুক্ত বলে বিবেচিত
হয় না, তাই এই বয়সসীমা রাখা হয়েছে।
অনেক দেশ শ্রমিক নেওয়ার সময় সর্বোচ্চ বয়সসীমাও বেঁধে দেয়, সাধারণত ৪০
থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। এর পেছনে কয়েকটা কারণ আছে। বেশি বয়সে শারীরিক
পরিশ্রমের কাজ করার সক্ষমতা কমে যায়, ফলে কাজের গতি ও দক্ষতা কমে। বয়স
বাড়ার সাথে সাথে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়, যেমন উচ্চ রক্তচাপ,
ডায়াবেটিসের মতো রোগ বেশি দেখা যায়।
নিয়োগকর্তারা দীর্ঘমেয়াদে কাজ করাতে চান, বেশি বয়সে নিলে অল্প সময়ের
মধ্যেই কর্মী অবসরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মেডিকেল টেস্টে বেশি বয়সের
কারণে অনেক সময় "আনফিট" রিপোর্ট আসে, যার ফলে ভিসাই বাতিল হয়ে যায়।
দেশ ও ভিসার ধরন অনুযায়ী বয়সের তারতম্য বয়সসীমা সব জায়গায় এক নয়। এটা
নির্ভর করে কোন দেশে যাচ্ছেন তার ওপর যেমন মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সাধারণত
১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে বয়স হলে চলে, আবার ইউরোপের কিছু দেশে বয়সসীমা আরও
নমনীয়। কোন ধরনের ভিসায় যাচ্ছেন তার ওপর শ্রমিক ভিসায় নির্দিষ্ট বয়সসীমা
থাকলেও টুরিস্ট ভিসা বা মেডিকেল ভিসায় সাধারণত কোনো বয়সসীমা থাকে না,
যেকোনো বয়সের মানুষ যেতে পারেন।
কী কাজের জন্য যাচ্ছেন তার ওপর যেমন নার্স বা ইঞ্জিনিয়ারের মতো পেশাগত
ভিসায় বয়সসীমা শ্রমিক ভিসার চেয়ে একটু বেশি নমনীয় হতে পারে। যে দেশে যেতে
চান, সেই দেশের সার্কুলার বা ডিমান্ড লেটারে উল্লেখিত বয়সসীমা ভালোভাবে দেখে
নেওয়া উচিত। কারণ ভুল বয়সে আবেদন করলে শুরুতেই আবেদন বাতিল হয়ে যাওয়ার
সম্ভাবনা থাকে, এতে সময় ও টাকা দুটোই নষ্ট হয়।
সরকারি ব্যবস্থায় বিদেশ যেতে আনুমানিক কত টাকা লাগে
বিদেশ যাওয়ার আগে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটা মাথায় ঘোরে তা হলো মোট কত টাকা
লাগবে? সরকারিভাবে গেলে খরচ একদম নির্দিষ্ট ও নিয়ন্ত্রিত থাকে, তাই আগে
থেকেই একটা স্পষ্ট ধারণা নেওয়া যায়। নিচে প্রতিটা খাত ধরে ধরে বলা হলো
কোথায় কত টাকা যেতে পারে। চলুন জেনে নেই কোথায় কোথায় আর কত খরচ পড়বে
বিস্তারিত।
সাধারণ রেগুলার ৪৮ পাতার পাসপোর্টে খরচ পড়ে প্রায় ৩,৫০০ থেকে ৫,৫০০ টাকার
মধ্যে, মেয়াদ ও ডেলিভারি সময়ের ওপর নির্ভর করে। জরুরি ভিত্তিতে করাতে চাইলে
খরচ কিছুটা বেড়ে যায়। বিদেশ যাওয়ার জন্য নির্ধারিত মেডিকেল সেন্টার থেকে
ফিটনেস টেস্ট করাতে সাধারণত ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা খরচ হয়। কোন দেশে যাচ্ছেন
তার ওপর ভিত্তি করে এই খরচ একটু কমবেশি হতে পারে।
পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট নিতে খরচ পড়ে প্রায় ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা।
তারপর ভিসা প্রসেসিং খরচ। এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করে কোন দেশে যাচ্ছেন তার ওপর।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ভিসা ফি তুলনামূলক কম, কিন্তু ইউরোপ বা কোরিয়া,
জাপানের মতো দেশে ভিসা প্রসেসিং খরচ কিছুটা বেশি হয়। সাধারণভাবে ১০,০০০ থেকে
৩০,০০০ টাকার মধ্যেই এই খরচ থাকে।
বিমান টিকিটের দাম দেশ ও সময় ভেদে ওঠানামা করে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশে টিকিট
তুলনামূলক সস্তা, প্রায় ২৫,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। কিন্তু
ইউরোপ, আমেরিকা বা দূরের কোনো দেশে গেলে এই খরচ ৭০,০০০ টাকা বা তারও বেশি হতে
পারে। BMET স্মার্টকার্ড, রেজিস্ট্রেশন ফি ও অন্যান্য ছোটখাটো প্রশাসনিক কাজে
সব মিলিয়ে ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকার মতো লাগতে পারে।
সব মিলিয়ে মোট খরচ কত দাঁড়ায় সরকারিভাবে, নিজে নিজে আবেদন করে বা BOESL-এর
মাধ্যমে গেলে সাধারণত মোট খরচ ১ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকার মধ্যে থাকে। এই খরচের
মধ্যেই পাসপোর্ট, মেডিকেল, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স, ভিসা প্রসেসিং ও বিমান টিকিট
সব কিছুই ধরা থাকে। তবে দালাল বা অনুমোদনহীন কোনো মাধ্যম দিয়ে গেলে এই খরচ
বেড়ে গিয়ে ৭ থেকে ৮ লক্ষ টাকা পর্যন্তও দাঁড়িয়ে যেতে পারে অথচ কাজ একই,
শুধু মাঝখানে অতিরিক্ত কমিশন দিতে হয়।
খরচ কম রাখার সবচেয়ে ভালো উপায় হবে আপনি নিজে নিজে Ami Probashi অ্যাপ বা
probashi.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে আবেদন করা, BOESL-এর সার্কুলার অনুসরণ করে
সরাসরি আবেদন করা, যেকোনো এজেন্সি ব্যবহারের আগে BMET ওয়েবসাইটে তাদের
লাইসেন্স যাচাই করা কোনো দালাল বা এজেন্সি অস্বাভাবিক কম টাকায় বিদেশ
পাঠানোর কথা দিলে সতর্ক থাকা ভালো।
সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য যেভাবে আবেদন করবেন
আপনি কি সরকারি ভাবে বিদেশে যাওয়ার জন্য আবেদন করতে চান? তাহলে আপনাকে
সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার পুরো আবেদন প্রক্রিয়াটা কয়েকটা ধাপে সম্পন্ন করতে
হবে। চলুন পুরো প্রক্রিয়ার প্রতিটা ধাপ সহজ ও ক্রমানুসারে জেনে নেওয়া যাক।
সবার আগে আপনাকে একটা বৈধ পাসপোর্ট তৈরি করতে হবে। পাসপোর্ট না থাকলে পরের
কোনো ধাপেই আগানো যাবে না, তাই এটাই প্রথম কাজ। এরপর আপনাকে আপনার মোবাইল
ফোনে Google Play Store থেকে Ami Probashi অ্যাপটি ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে
হবে। চাইলে আপনি মোবাইলে অ্যাপ ব্যবহার না করে সরাসরি amiprobashi.com অথবা
probashi.gov.bd ওয়েবসাইটেও একই কাজ করতে পারবেন।
অ্যাপটি ওপেন করার পর আপনাকে আপনার মোবাইল নম্বর দিয়ে একটা অ্যাকাউন্ট খুলতে
হবে। এরপর আপনাকে আপনার পাসপোর্টের স্ক্যান কপি আপলোড করতে হবে, কারণ এর
মাধ্যমেই আপনার পরিচয় যাচাই করা হয়।
অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে আপনাকে ড্যাশবোর্ড থেকে BMET Registration অপশনে
ক্লিক করতে হবে। এখানে আপনাকে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য, পাসপোর্ট নম্বর এবং
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে ফরমটি পূরণ করতে হবে। এই কাজটা আপনি ঘরে বসেই
মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে শেষ করতে পারবেন।
BMET রেজিস্ট্রেশন হয়ে গেলে আপনাকে আপনার জেলার নিকটস্থ টেকনিক্যাল ট্রেনিং
সেন্টারে গিয়ে তিন দিনের একটা বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এই
প্রশিক্ষণে বিদেশের জীবনযাত্রা, আইনকানুন ও কাজের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা
দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি ফি মাত্র ২০০ টাকা, তবে কেন্দ্রভেদে
সামান্য বেশি নেওয়া হতে পারে।
চাকরি বা কাজ নির্বাচন করাঃ এই ধাপে আপনাকে ঠিক করতে হবে আপনি কোন দেশে যেতে
চান এবং কী কাজ করতে চান। অ্যাপের মাধ্যমেই আপনি অনুমোদিত এজেন্সি এবং সরকারি
সার্কুলারের তথ্য দেখতে পারবেন, যেখানে বেতন, কাজের ধরন ও চুক্তির মেয়াদ
উল্লেখ থাকে।
আপনাকে সরকার অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে ফিটনেস টেস্ট করাতে হবে এবং
সংশ্লিষ্ট থানা বা পাসপোর্ট অফিস থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সংগ্রহ
করতে হবে। কাজ নিশ্চিত হয়ে গেলে আপনাকে সংশ্লিষ্ট দেশের ভিসার জন্য আবেদন
করতে হবে। এটা অ্যাপের মাধ্যমেই ট্র্যাক করা যায়, তাই কোন ধাপে আপনার আবেদন
আছে তা সহজে বোঝা যায়।
প্রশিক্ষণ ও যাচাই-বাছাই শেষ হলে আপনি অ্যাপ থেকেই একটা QR কোডযুক্ত
স্মার্টকার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন। বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনের সময় এই কার্ডটাই
আপনাকে দেখাতে হবে। সবশেষে আপনাকে বিমানের টিকিট কনফার্ম করতে হবে এবং সব
কাগজপত্র গুছিয়ে নির্ধারিত তারিখে বিমানবন্দরে যেতে হবে।
সরকারিভাবে বিদেশে কী কী কাজ পাওয়া যাবে
সরকারিভাবে বিদেশে গিয়ে ঠিক কোন কোন কাজ পাওয়া যায়, এই বিষয়ে সঠিক ধারণা
না থাকলে অনেকে বিভ্রান্তিতে পড়েন। চলুন কাজগুলো ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভাগ করে
বিস্তারিত জানা যাক, যাতে আপনি বুঝতে পারেন কোন কাজে আপনার দক্ষতা কাজে
লাগবে।
নির্মাণ ও কারিগরি খাতের কাজঃ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সৌদি আরব, কাতার,
ওমান, কুয়েত সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে নির্মাণ খাতে।এই কাজগুলোতে আগে থেকে
প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা থাকলে বেতন অনেক বেশি পাওয়া যায়। এই খাতে যেসব কাজ
পাওয়া যায়ঃ
- রাজমিস্ত্রি ও নির্মাণ শ্রমিক
- ইলেকট্রিশিয়ান ও ইলেকট্রনিক মিস্ত্রি
- ওয়েল্ডার
- প্লাম্বার
- পেইন্টার
- হেভি মেশিন অপারেটর
সেবা খাতের কাজ হসপিটালিটি সেক্টরঃ মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও মধ্যপ্রাচ্যের
দেশগুলোতে এই খাতে প্রচুর চাহিদা থাকে। হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও হাসপাতালে যেসব
কাজ পাওয়া যায়ঃ
- হোটেল বয় ও রিসেপশনিস্ট
- ওয়েটার ও রাধুনী (শেফ)
- হাউসকিপিং ও ক্লিনার
- হাসপাতালের সহায়ক কর্মী
কৃষি ও উৎপাদন খাতের কাজঃ জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও রোমানিয়ার মতো দেশে কৃষি
ও কারখানার কাজে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা তুলনামূলক বেশিঃ
- কৃষি খামারের কাজ
- ফ্যাক্টরি ও গার্মেন্টস শ্রমিক
- প্যাকেজিং ও উৎপাদন লাইনের কাজ
- টেইলারিং ও গার্মেন্টস অপারেটর
পেশাগত ও দক্ষতাভিত্তিক কাজঃ দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও ইউরোপের দেশগুলোতে দক্ষ
কর্মীদের জন্য আলাদা ক্যাটাগরির ভিসা ও ভালো বেতন কাঠামো থাকে। যাদের
শিক্ষাগত যোগ্যতা ও নির্দিষ্ট দক্ষতা আছে, তাদের জন্য আরও ভালো বেতনের সুযোগ
থাকেঃ
- নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী
- সিভিল ইঞ্জিনিয়ার
- সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার ও আইটি বিশেষজ্ঞ
- কম্পিউটার অপারেটর
- ড্রাইভার হেভি ও লাইট ভেহিকল লাইসেন্সসহ
গৃহকর্মী ও অন্যান্য সেবামূলক কাজঃ
- গৃহকর্মী (বিশেষ করে নারী কর্মীদের জন্য আলাদা ক্যাটাগরি আছে)
- দারোয়ান ও নিরাপত্তাকর্মী
- ধোপা ও লন্ড্রি কর্মী
- বাগান পরিচর্যাকারী
বেতন ও সুযোগ-সুবিধা কীসের ওপর নির্ভর করেঃ একই দেশে একই কাজের জন্যও বেতন
সবার সমান হয় না। এটা নির্ভর করে আপনার আগের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সনদ আছে কি
না তার ওপর, ভাষাগত দক্ষতা থাকলে (বিশেষত জাপান বা কোরিয়ার ক্ষেত্রে) বেতন
বাড়ে, নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠানের আকার ও অবস্থানের ওপর, চুক্তিপত্রে উল্লেখিত
কর্মঘণ্টা ও ওভারটাইম সুবিধার ওপর।
সরকারিভাবে বাংলাদেশ থেকে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়
বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়া যায় মূলত তিনটি অঞ্চলে বেশি
মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও ইউরোপ। কোন দেশে চাহিদা কেমন এবং কোন খাতে বেশি কর্মী
নেওয়া হয়, তা বিস্তারিত ভাবে জেনে নেওয়া যাক। মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহ
শ্রমবাজারে সবচেয়ে বড় অংশঃ
| দেশের নাম |
প্রধান কাজের ধরন |
| সৌদি আরব |
নির্মাণ, গৃহকর্মী, ড্রাইভার |
| সংযুক্ত আরব আমিরাত |
নির্মাণ, হসপিটালিটি |
| কাতার |
নির্মাণ, ফ্যাক্টরি শ্রমিক |
| ওমান |
নির্মাণ, কৃষি |
| কুয়েত |
গৃহকর্মী, ড্রাইভার |
| বাহরাইন |
নির্মাণ, সার্ভিস সেক্টর |
| জর্ডান |
গার্মেন্টস, ফ্যাক্টরি |
| লেবানন |
গৃহকর্মী, সার্ভিস সেক্টর |
| ইরাক |
নির্মাণ |
সৌদি আরব ঐতিহাসিকভাবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার ১৯৭৬ সাল থেকে এখন
পর্যন্ত মোট প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ বাংলাদেশি BMET-এর ছাড়পত্র নিয়ে বিদেশে
গেছেন, যার মধ্যে ৫১ লাখেরও বেশি গেছেন শুধু সৌদি আরবেই।
এশিয়ার দেশসমূহঃ
| দেশের নাম |
প্রধান কাজের ধরন |
| মালয়েশিয়া |
ফ্যাক্টরি, নির্মাণ, বাগান শ্রমিক |
| সিঙ্গাপুর |
নির্মাণ, সার্ভিস সেক্টর |
| দক্ষিণ কোরিয়া |
ফ্যাক্টরি, দক্ষ শ্রমিক (EPS প্রোগ্রাম) |
| জাপান |
কৃষি, ফ্যাক্টরি, দক্ষ শ্রমিক (TITP প্রোগ্রাম) |
| ব্রুনাই |
নির্মাণ, সার্ভিস সেক্টর |
| মালদ্বীপ |
মালদ্বীপ | নির্মাণ, রিসোর্ট সার্ভিস |
ইউরোপ ও অন্যান্য দেশসমূহঃ
| দেশের নাম |
প্রধান কাজের ধরন |
| রোমানিয়া |
ফ্যাক্টরি, নির্মাণ |
| পোল্যান্ড |
ফ্যাক্টরি, কৃষি |
| ইতালি |
কৃষি, সার্ভিস সেক্টর |
| ফ্রান্স |
দক্ষ শ্রমিক সীমিত |
| যুক্তরাজ্য |
দক্ষ পেশাজীবী (সীমিত ক্যাটাগরি) |
| মরিশাস |
মরিশাস | ফ্যাক্টরি, নির্মাণ |
সব দেশের জন্যই একই সময়ে চাহিদাপত্র ডিমান্ড লেটার খোলা থাকে না। কোনো দেশে
হয়তো এই মুহূর্তে কর্মী নেওয়া বন্ধ, আবার কিছুদিন পর নতুন সার্কুলার আসতে
পারে। BOESL ও BMET এই দুই সরকারি সংস্থাই মূলত বিদেশে কর্মসংস্থান নিশ্চিত
করার কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোন দেশে বর্তমানে সার্কুলার খোলা আছে,
তা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্যভাবে জানা যায় boesl.gov.bd, bmet.gov.bd এবং
probashi.gov.bd এই তিনটি অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে।
সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার ওয়েবসাইট
সরকারিভাবে বিদেশ যাওয়ার জন্য কয়েকটা নির্দিষ্ট অফিসিয়াল ওয়েবসাইট আছে,
যেগুলোর মাধ্যমে আপনি নিজে নিজেই, কোনো দালাল ছাড়াই আবেদন করতে পারবেন।
প্রতিটা ওয়েবসাইট আলাদা আলাদা কাজে ব্যবহার হয়, তাই কোনটা কী কাজে লাগে
সেটা জেনে রাখা জরুরি।
probashi.gov.bd প্রধান সরকারি পোর্টালঃ এটা প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক
কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মূল ওয়েবসাইট। এখান থেকে আপনি জানতে পারবেন
বিভিন্ন দেশের সাম্প্রতিক সার্কুলার ও চাহিদাপত্র, অনুমোদিত রিক্রুটিং
এজেন্সির তালিকা, বৈদেশিক কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সরকারি নীতিমালা ও নোটিশ।
bmet.gov.bd জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোঃ এই ওয়েবসাইট থেকে আপনি
করতে পারবেন BMET লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সির তালিকা যাচাই,
জেলাভিত্তিক টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (TTC) এর তথ্য, বহির্গমন ছাড়পত্রের
তালিকা।
boesl.gov.bd সরকারের নিজস্ব নিয়োগ প্রতিষ্ঠানঃ BOESL-এর নিজস্ব ওয়েবসাইট,
যেখানে সরকার সরাসরি বিদেশি নিয়োগকর্তার চাহিদাপত্র অনুযায়ী কর্মী নিয়োগের
বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এখানে আবেদন করলে মাঝখানে কোনো এজেন্সি থাকে না, তাই
খরচ সবচেয়ে কম হয়।
amiprobashi.com এবং Ami Probashi অ্যাপঃ এটা মূলত মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েব
পোর্টাল দুই ভাবেই ব্যবহার করা যায়। এখান থেকে আপনি করতে পারবেন BMET
রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা, প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ (PDO) বুকিং করা, QR
কোডযুক্ত স্মার্টকার্ড ডাউনলোড করা, আবেদনের অগ্রগতি ট্র্যাক করা। মোবাইল
দিয়ে ঘরে বসে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে চাইলে এই অ্যাপটাই সবচেয়ে বেশি
ব্যবহার করা হয়।
সবসময় ঠিকানার বানান ভালোভাবে দেখে নিন, কারণ অনেক ভুয়া ওয়েবসাইট আসল
সরকারি সাইটের নাম নকল করে বানানো হয়। কোনো ওয়েবসাইট টাকা চাইলে বা
ব্যক্তিগত তথ্য অতিরিক্ত চাইলে সতর্ক থাকুন, সরকারি সাইট কখনো এমন কিছু করে
না অস্বাভাবিকভাবে। সন্দেহ হলে সরাসরি মন্ত্রণালয়ের হেল্পলাইনে যোগাযোগ
করুন।
সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায় সর্ম্পকে প্রশ্ন FAQ
প্রশ্নঃ সরকারিভাবে বিদেশ যেতে কি কোনো দালাল ধরতে হয়?
উত্তরঃ না, সরকারিভাবে বিদেশ যেতে কোনো দালালের প্রয়োজন হয় না। Ami
Probashi অ্যাপ বা probashi.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে আপনি নিজেই ঘরে বসে পুরো
প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।
প্রশ্নঃ সরকারিভাবে বিদেশ যেতে সর্বনিম্ন কত টাকা লাগে?
উত্তরঃ সাধারণত সরকারিভাবে শ্রমিক ভিসায় বিদেশ যেতে ১ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ
টাকার মধ্যে খরচ হয়। এর মধ্যে পাসপোর্ট, মেডিকেল, ভিসা প্রসেসিং ও বিমান
টিকিটের খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকে।
প্রশ্নঃ বিদেশ যেতে কি BMET রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক?
উত্তরঃ হ্যাঁ, শ্রমিক ভিসায় বিদেশ যেতে চাইলে BMET রেজিস্ট্রেশন ও তিন
দিনের প্রাক-বহির্গমন প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক। এটা ছাড়া ইমিগ্রেশন পার
হওয়া যায় না।
প্রশ্নঃ কোনো এজেন্সি আসল না ভুয়া তা কীভাবে বুঝব?
উত্তরঃ bmet.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে রিক্রুটিং এজেন্সির নিয়োগানুমতির
তালিকা অংশে এজেন্সির নাম বা লাইসেন্স নম্বর সার্চ করে যাচাই করা যায়।
কোনো এজেন্সি তালিকায় না থাকলে তাদের এড়িয়ে চলাই ভালো।
প্রশ্নঃ সরকারিভাবে বিদেশ যেতে কি ইংরেজি বা অন্য ভাষা জানা লাগে?
উত্তরঃ বেশিরভাগ শ্রমিক ভিসার ক্ষেত্রে ভাষা জানা বাধ্যতামূলক নয়। তবে
জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশে গেলে সংশ্লিষ্ট ভাষায় প্রাথমিক দক্ষতা
থাকলে সুযোগ ও বেতন দুটোই বাড়ে।
প্রশ্নঃ মহিলারা কি সরকারিভাবে বিদেশ যেতে পারেন?
উত্তরঃ হ্যাঁ, নারীদের জন্য আলাদা ক্যাটাগরিতে (বিশেষ করে গৃহকর্মী ও
কেয়ারগিভার পদে) সরকারি ব্যবস্থায় বিদেশ যাওয়ার সুযোগ আছে। BMET-এর
ওয়েবসাইটে নারী কর্মীদের জন্য আলাদা এজেন্সি তালিকাও পাওয়া যায়।
প্রশ্নঃ আবেদন করার পর কতদিনের মধ্যে বিদেশ যাওয়া যায়?
উত্তরঃ এটা নির্ভর করে কোন দেশে যাচ্ছেন এবং ভিসা প্রসেসিং কতদিনে শেষ
হচ্ছে তার ওপর। সাধারণত সব কাগজপত্র ঠিক থাকলে এক থেকে তিন মাসের মধ্যে
পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায়।
প্রশ্নঃ বিদেশে গিয়ে কোনো সমস্যায় পড়লে সাহায্য কোথায় পাব?
উত্তরঃ বিদেশে গিয়ে কোনো বিপদে পড়লে সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাসে
যোগাযোগ করতে হবে। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান
মন্ত্রণালয় থেকেও আইনি সহায়তা পাওয়া যায়।
সরকারি ভাবে বিদেশ যাওয়ার উপায় সর্ম্পকে শেষকথা
টিপস পয়েন্ট আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url