বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে কত টাকা লাগে ও যাওয়ার উপায়
Tips Point IT✅
২৪ আগ, ২০২৬
বাংলাদেশ থেকে আমেরিকায় যাওয়ার স্বপ্ন অনেকেরই থাকে, কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন
হলো আমেরিকায় যেতে আসলে কত টাকা খরচ হবে। ভিসা ফি থেকে শুরু করে বিমান ভাড়া,
মেডিকেল টেস্ট, আর হাত খরচ সব মিলিয়ে বাজেটটা অনেকের কাছেই অস্পষ্ট থেকে যায়।
চলুন জেনে নেওয়া যাক,ধাপে ধাপে বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে সত্যিকার অর্থে কত
টাকা প্রয়োজন হয়, কোন কোন জায়গায় খরচ হয়, এবং কি কি কাগজপত্র লাগে বিস্তারিত
সকল তথ্য।
আপনি যদি ভাবেন সরকারিভাবে আমেরিকা যাবেন তাহলে তা ভুল। বাংলাদেশ থেকে
আমেরিকা যাওয়ার সরাসরি কোনো সরকারি উপায় নেই। স্টুডেন্ট ভিসা ছাড়া অন্য সব
ক্ষেত্রেই নিজ উদ্যোগে বা এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা প্রসেসিং করে আমেরিকা যেতে
হয়। তাই খরচের পুরো হিসাবটাই নির্ভর করে আপনি কোন ভিসায় যাচ্ছেন, নিজে
প্রসেসিং করছেন নাকি এজেন্সি ধরছেন, তার উপর।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে সাধারণত ১৫ থেকে ২৫ লাখ
টাকা পর্যন্ত খরচ হয়ে থাকে, তবে ভিসার ধরনভেদে এই খরচ অনেক কমবেশি হতে পারে।
এই মোট খরচের মধ্যে সাধারণত যা যা অন্তর্ভুক্ত থাকে পাসপোর্ট তৈরি, ভিসা
আবেদন ফি, এজেন্সি সার্ভিস চার্জ (এজেন্সি ধরলে), বিমান টিকিট, মেডিকেল
রিপোর্ট ফি, পুলিশ ভেরিফিকেশন খরচ, ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট, ইংরেজি
দক্ষতার সার্টিফিকেট IELTS অথবা TOEFL, প্রযোজ্য হলে।
নিজে সরাসরি এম্বাসিতে আবেদন করলে খরচ তুলনামূলক কম হয়, কারণ তখন শুধু
সরকারি ফি ও নিজের ব্যক্তিগত খরচই দিতে হয়। কিন্তু কেউ যদি প্রসেসিং,
ডকুমেন্টেশন বা জব অফারের ব্যবস্থার জন্য এজেন্সি বা দালালের সাহায্য নেন,
তাহলে সার্ভিস চার্জ যুক্ত হয়ে খরচ কয়েক লাখ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
তাই যতটা সম্ভব নিজে যাচাই করে বা বিশ্বস্ত মাধ্যমে প্রসেসিং করানোই ভালো।
ভিসার ধরন অনুযায়ী খরচের বিস্তারিত তুলনা নিচের হেডিংয়ে দেওয়া হয়েছে।
আমেরিকা ভিসা পাওয়ার উপায় ও যোগ্যতা
আমেরিকা ভিসা পাওয়া মানেই শুধু আবেদন করে দেওয়া না, এর জন্য নির্দিষ্ট
যোগ্যতা থাকা জরুরি এবং সঠিক নিয়ম মেনে ধাপে ধাপে এগোতে হয়। প্রথমেই আপনাকে
ঠিক করতে হবে আপনি কোন উদ্দেশ্যে আমেরিকা যেতে চান, কারণ উদ্দেশ্য অনুযায়ী
ভিসার ক্যাটাগরি আলাদা হয়। এরপর সকল ভিসা আবেদনকারীকে DS-160 নামের একটি ফর্ম
পূরণ করতে হয়, যেটি আমেরিকান ভিসা আবেদনের প্রথম ও বাধ্যতামূলক ধাপ।
ভিসা ক্যাটাগরি নির্বাচনের পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করাটাই মূল কাজ, আর
এই কাগজপত্র নির্ভর করে আপনি কোন ভিসায় আবেদন করছেন তার উপরঃ
স্টুডেন্ট ভিসাঃ এক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অফার লেটার, ইংরেজি ভাষা
দক্ষতার প্রমাণ ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট থাকা জরুরি।
ওয়ার্ক বা জব ভিসাঃ এখানে মূল শর্ত হলো একটি বৈধ জব অফার লেটার [থাকা, যা
ছাড়া এই ক্যাটাগরিতে আবেদনই করা যায় না।
ট্যুরিস্ট বা ভিজিট ভিসাঃ এক্ষেত্রে সমৃদ্ধ ট্রাভেল রেকর্ড এবং যথেষ্ট
পরিমাণ ব্যাংক ব্যালেন্স দেখাতে পারাটাই মূল যোগ্যতা।
কাগজপত্র প্রস্তুত হয়ে গেলে পরের ধাপ হলো আমেরিকান এম্বাসিতে গিয়ে ভিসার জন্য
আবেদন করে নির্দিষ্ট তারিখে ইন্টারভিউ দেওয়া। এই ইন্টারভিউটাই সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, কারণ ইন্টারভিউ বোর্ড মূলত আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং
আমেরিকায় থাকার ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চায়। তাই স্পষ্ট ও সৎ উত্তর
দেওয়াটাই ভিসা পাওয়ার সবচেয়ে বড় বিষয়।
যাদের কাছে পুরো প্রক্রিয়াটা জটিল মনে হয়, তারা চাইলে বিশ্বস্ত কোনো এজেন্সি
থেকে ভিসা কনসালটেন্সি সার্ভিস নিতে পারেন, তবে এজন্য এজেন্সিকে আলাদা প্রসেসিং
ফি দিতে হয়। নিজে নিজে আবেদন করলে এই বাড়তি খরচ বাঁচানো সম্ভব, তবে কাগজপত্র
ও ইন্টারভিউ প্রস্তুতি নিজেকেই নিখুঁতভাবে সামলাতে হয়।
বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা দূরত্ব কত কিলোমিটার
বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা সরাসরি না গিয়ে সাধারণত মাঝপথে অন্য দেশে যাত্রাবিরতি
নিতে হয়, কারণ এই দুই দেশের মধ্যে দূরত্বটা মোটেও কম নয়। সবচেয়ে বেশি
প্রচলিত ও নির্ভরযোগ্য হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে আমেরিকার দূরত্ব প্রায়
১৩,২১৯ কিলোমিটার, যা মাইল হিসেবে দাঁড়ায় প্রায় ৮,২১৮ মাইল।
তবে বিভিন্ন সোর্সে এই দূরত্বের হিসাবে সামান্য পার্থক্যও দেখা যায়, কোনো কোনো
হিসাবে গড় দূরত্ব ১২,০০০ থেকে ১৪,০০০ কিলোমিটারের মধ্যে বলা হয়েছে। এই
সামান্য পার্থক্যের কারণ হলো, দূরত্ব মাপার সময় ঠিক কোন শহর থেকে কোন শহর
পর্যন্ত ধরা হচ্ছে তার উপর ফলাফল কিছুটা পরিবর্তন করে। তবে ঢাকা থেকে নিউইয়র্ক
পর্যন্ত সরলরেখার দূরত্ব হিসেবে ১৩,২১৯ কিলোমিটারই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত
পরিসংখ্যান।
এই দূরত্বটা হলো সরলরেখার straight-line হিসাব। বাস্তবে বিমান যখন আকাশপথে
ওড়ে, তখন বায়ুপ্রবাহ, আবহাওয়া, নিরাপদ রুট এবং মাঝপথে ট্রানজিটের কারণে
প্রকৃত উড়ানপথ এই সরলরেখার চেয়ে কিছুটা বেশি হয়ে থাকে। এই কারণেই বাংলাদেশ
থেকে আমেরিকায় ভ্রমণের সময় হিসাব করার সময় শুধু দূরত্ব নয়, বরং বিমানের
রুট, ট্রানজিট স্টপ এবং এয়ারলাইন্সের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে যা নিয়ে
চলুন বিস্তারিত আলোচনা করা যাক পরের অংশে।
বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে কত সময় লাগে
বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা সরাসরি কোনো ফ্লাইট নেই, তাই এই যাত্রাটা সবসময়ই
কমপক্ষে একটা ট্রানজিট নিয়ে হয়ে থাকে। প্রথমে দুবাই বা অন্য কোনো ট্রানজিট
শহরে যেতে হয়, তারপর সেখান থেকে আমেরিকার উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় ফ্লাইট ধরতে হয়।
এই কারণেই মোট যাত্রার সময় হিসাব করার সময় শুধু আকাশে থাকার সময় নয়,
ট্রানজিটে অপেক্ষার সময়টাও যোগ করে নিতে হয়।
স্বাভাবিকভাবে দেখা যায়, বাংলাদেশ থেকে বিমানে আমেরিকা যেতে মোট সময় লাগে
আনুমানিক ২৫ থেকে ৩৫ ঘণ্টা। তবে এই সময়টা নির্দিষ্ট নয়, বরং কয়েকটা বিষয়ের
উপর নির্ভর করে ওঠানামা করেঃ
কোন এয়ারলাইন্স ব্যবহার করছেন তার উপর ভিত্তি করে সময়ের পার্থক্য হয়ে থাকে,
কারণ প্রতিটা এয়ারলাইন্সের ট্রানজিট শহর ও লেওভার সময় আলাদা। এক স্টপ যেমন
শুধু দুবাই হয়ে নাকি দুই স্টপ দিয়ে যাচ্ছেন, তার উপর মোট সময় কম-বেশি হয়।
আমেরিকার কোন শহরে নামছেন নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, শিকাগো ইত্যাদি তার উপর ভিত্তি
করেও সময়ে তারতম্য দেখা যায়।
যাদের কাছে আকাশপথ ঝামেলাপূর্ণ মনে হয় বা যারা বিকল্প উপায় খুঁজছেন, তাদের
জন্য সমুদ্রপথও একটা বিকল্প যদিও এটি খুব একটা প্রচলিত নয়। জাহাজে করে গেলে
সময় লাগে অনেক বেশি, প্রায় ৩৫ থেকে ৪৫ দিন পর্যন্ত। তাই সাধারণ যাত্রী বা
প্রবাসীদের জন্য বিমানপথই সবচেয়ে কার্যকর ও সময় সাশ্রয়ী।
যাত্রার সময় কমাতে যা মাথায় রাখা ভালো সরাসরি ফ্লাইটের কাছাকাছি কম স্টপেজ
এয়ারলাইন্স বেছে নেওয়া, ট্রানজিট শহরে লম্বা লেওভার এড়িয়ে চলা, টিকিট বুকিং
করার আগে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের সময়সূচি তুলনা করে দেখে নেওয়া।
আমেরিকা যেতে বিমান ভাড়া ও অনুষঙ্গিক খরচ কত
আমেরিকা যাওয়ার পুরো খরচের মধ্যে বিমান ভাড়াটাই সবচেয়ে বড় ও পরিবর্তনশীল
অংশ। এটা নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যায় বলা যায় না, বরং এয়ারলাইন্স, সিজন এবং কতদিন
আগে টিকিট বুক করছেন তার উপর নির্ভর করে ওঠানামা করে। বর্তমান তথ্য অনুযায়ী,
ঢাকা থেকে নিউ ইয়র্ক রুটে ইকোনমি ক্লাসের ভাড়া সাধারণত ১ লাখ ২০ হাজার থেকে ২
লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে, আর বিজনেস ক্লাসে চাইলে এই খরচ আরও অনেক
বেড়ে যায়।
বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মধ্যে ভাড়ার বেশ পার্থক্য দেখা যায়। একটি বর্তমান তথ্য
অনুযায়ী, ইন্ডিগো এয়ারের ভাড়া প্রায় ৯৬ হাজার টাকা, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের
ভাড়া প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার টাকা, কুয়েত এয়ারওয়েজের ভাড়া প্রায় ১ লাখ ২৬
হাজার টাকা, ফিন এয়ারের ভাড়া প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ইতিহাদ
এয়ারওয়েজের ভাড়া প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা, এয়ার ইন্ডিয়ার ভাড়া প্রায়
১ লাখ ৩৯ হাজার টাকা এবং কাতার এয়ারওয়েজের ভাড়া প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।
অর্থাৎ, তুলনামূলক কম খরচে যেতে চাইলে ইন্ডিগো বা এমিরেটস, আর বেশি আরাম ও
সরাসরি সংযোগ চাইলে কাতার এয়ারওয়েজের মতো এয়ারলাইন্স বেছে নেওয়া যায়।
ভাড়া অনেক বিষয়ের উপর নির্ভর করে। প্রতিটা এয়ারলাইন্সের সার্ভিস, ট্রানজিট
শহর ও সময়সূচি ভিন্ন হওয়ায় ভাড়াও ভিন্ন হয়। পিক সিজনে ছুটির মৌসুম ভাড়া
বেড়ে যায়, অফ-সিজনে তুলনামূলক কম থাকে। যত আগে টিকিট বুক করা হয়, ভাড়া তত
কম পড়ার সম্ভাবনা থাকে; শেষ মুহূর্তে বুকিং করলে দাম অনেক বেড়ে যায়।
নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেসের মতো ভিন্ন ভিন্ন শহরের জন্য
ভাড়াও ভিন্ন হয়। শুধু টিকিটের দামই নয়, আমেরিকা যাওয়ার আগে-পরে আরও কিছু
খরচ যোগ হয়। এয়ারপোর্ট ট্যাক্স ও সার্ভিস চার্জ (অনেক সময় টিকিটের দামেই
অন্তর্ভুক্ত থাকে), ট্রানজিট শহরে অতিরিক্ত লাগেজ বা খাবারের খরচ, ভ্রমণ বিমা
বা ট্রাভেল ইনস্যুরেন্স, মালামাল বা লাগেজের অতিরিক্ত ওজনের চার্জ।
টিকিটের দাম যেহেতু প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হয়, তাই যাত্রার আগে বিভিন্ন
এয়ারলাইন্সের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা নির্ভরযোগ্য ট্রাভেল এজেন্সি থেকে সবশেষ
ভাড়া যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো।
স্টুডেন্ট ভিসায় আমেরিকা যেতে কত টাকা লাগে
স্টুডেন্ট ভিসায় আমেরিকা যাওয়ার খরচ অন্য সব ভিসা ক্যাটাগরির তুলনায় সাধারণত
কিছুটা কম, তবে এটাও নির্ভর করে আপনি স্কলারশিপ পাচ্ছেন কিনা এবং কোন
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হচ্ছেন তার উপর। বেশিরভাগ ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা খরচ করে
স্টুডেন্ট ভিসায় আমেরিকা যাওয়া সম্ভব। এই পরিসরের মধ্যেই বেশিরভাগ
শিক্ষার্থীর খরচ পড়ে যায়। খরচ কম-বেশি হওয়ার মূল কারণঃ
স্কলারশিপ থাকলেঃ স্কলারশিপ পেলে খরচ সবচেয়ে কম হয়, কারণ তখন টিউশন ফি বা
তার একটা বড় অংশ মওকুফ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে সামগ্রিক খরচ ৩ থেকে ৪ লাখ
টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
স্কলারশিপ ছাড়া নিজ খরচেঃ স্কলারশিপ ছাড়া গেলে খরচ বেড়ে ৫ থেকে ৮ লাখ
টাকা পর্যন্ত হতে পারে, কারণ তখন টিউশন ফি ও প্রথম বছরের থাকা-খাওয়ার একটা
অংশ নিজেকেই বহন করতে হয়।
এজেন্সির মাধ্যমে গেলেঃ কেউ যদি প্রসেসিং, ডকুমেন্টেশন বা ইউনিভার্সিটি
অ্যাডমিশনের জন্য এজেন্সির সহায়তা নেন, তাহলে খরচ বেড়ে ১০ থেকে ১৫ লাখ
টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে, কারণ এখানে এজেন্সি সার্ভিস চার্জ অতিরিক্ত
যুক্ত হয়।
এই খরচের মধ্যে যা যা অন্তর্ভুক্ত থাকে পাসপোর্ট তৈরি, স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন ফি
আনুমানিক ১৪ হাজার টাকা, ইংরেজি দক্ষতার সার্টিফিকেট IELTS ফি, মেডিকেল রিপোর্ট
ও পুলিশ ভেরিফিকেশন সার্টিফিকেট ফি, বিমান টিকিট বুকিং, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম
সেমিস্টার বা প্রথম বছরের টিউশন ফি এটাই সবচেয়ে বড় খরচের অংশ।
স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনের সাথে সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অফার লেটার, ইংরেজি
ভাষা দক্ষতার প্রমাণ ও পর্যাপ্ত ব্যাংক স্টেটমেন্ট থাকা জরুরি, কারণ এম্বাসি
নিশ্চিত হতে চায় যে শিক্ষার্থী পড়াশোনার পুরো খরচ বহন করতে সক্ষম। টিউশন ফি
প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হয়, তাই ভর্তি
হওয়ার আগে নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে টিউশন ফি ও
স্কলারশিপের সুযোগ যাচাই করে নিবেন।
আমেরিকা যেতে কী কী ডকুমেন্ট বা কাগজপত্র লাগে
আমেরিকা ভিসার জন্য আবেদন করতে গেলে সঠিক কাগজপত্র প্রস্তুত রাখাটাই সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ কাজ, কারণ কাগজপত্রে কোনো ঘাটতি থাকলে ভিসা বাতিল হয়ে যেতে পারে।
ভিসার ধরন যেটাই হোক না কেন, কিছু কাগজপত্র সবার জন্যই বাধ্যতামূলক, আবার কিছু
কাগজপত্র নির্ভর করে আপনি কোন উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন তার উপর। সাধারণভাবে সবার জন্য
প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ
বৈধ পাসপোর্টের ফটোকপি,
জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি,
ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট,
টিন সার্টিফিকেট,
সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজের ছবি,
পূরণকৃত ভিসা আবেদন ফর্ম (DS-160),
ভিসা ফি পরিশোধের রসিদ,
ভিসার ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজপত্র লাগতে পারে। স্টুডেন্ট ভিসায়
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অফার লেটার, ইংরেজি দক্ষতার সার্টিফিকেট, একাডেমিক
সার্টিফিকেট ও ব্যাংক স্টেটমেন্ট। কাজের ভিসায় বৈধ জব অফার লেটার এবং সংশ্লিষ্ট
কাজের অভিজ্ঞতার সনদপত্র। ট্যুরিস্ট বা ভিজিট ভিসায় সমৃদ্ধ ট্রাভেল রেকর্ড,
পর্যাপ্ত ব্যাংক ব্যালেন্সের প্রমাণ। ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের ট্রেড
লাইসেন্স ও ভিজিটিং কার্ড। চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে কর্মরত প্রতিষ্ঠানের নো
অবজেকশন সার্টিফিকেট।
সব কাগজপত্র প্রস্তুত করে আমেরিকান এম্বাসিতে জমা দেওয়ার পর কাগজপত্র ঠিক
থাকলে কয়েক দিনের মধ্যে ইন্টারভিউর জন্য এম্বাসিতে ডাকা হয়, যেখানে ভিসা
সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয়। ইন্টারভিউতে স্পষ্ট ও সঠিক উত্তর দিতে পারলে
ভিসা অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সব নথিপত্র জমা দেওয়ার আগে মার্কিন
দূতাবাসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সর্বশেষ নিয়মকানুন যাচাই করে নিবেন, কারণ
ভিসা ক্যাটাগরি অনুযায়ী নথির তালিকা মাঝে মাঝে পরিবর্তিত হতে পারে।
আমেরিকায় থাকা-খাওয়ার খরচ কেমন
আমেরিকায় গিয়ে মাসিক থাকা-খাওয়ার খরচ কেমন হবে তা মূলত নির্ভর করে আপনি কোন
শহরে বসবাস করছেন তার উপর। নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস বা সান ফ্রান্সিসকোর মতো
বড় শহরগুলোতে জীবনযাত্রার খরচ যথেষ্ট বেশি, আর ছোট শহর বা গ্রামীণ এলাকায় খরচ
তুলনামূলক অনেক কম। তাই বাজেট পরিকল্পনার আগে গন্তব্য শহরের জীবনযাত্রার ব্যয়
সম্পর্কে ধারণা নেওয়াটা জরুরি।
আবাসন খরচেই সবচেয়ে বড় অংশ চলে যায়। নিউ ইয়র্ক বা ক্যালিফোর্নিয়ার মতো বড়
শহরে শেয়ারড অ্যাপার্টমেন্টে একটি রুমের ভাড়া মাসে প্রায় ৮০০ থেকে ১৫০০ ডলার
পর্যন্ত হতে পারে, আর একক অ্যাপার্টমেন্ট নিলে এই খরচ ১৫০০ থেকে ৩০০০ ডলার বা
তারও বেশি হয়ে যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরি
তুলনামূলক সাশ্রয়ী বিকল্প, কারণ ডরমিটরিতে খরচ কিছুটা কম, তবে বাইরের
অ্যাপার্টমেন্টে থাকলে খরচ বেশি হয়।
খাবারের খরচও নির্ভর করে আপনার জীবনযাত্রার ধরনের উপর। নিজে রান্না করে খেলে
খরচ তুলনামূলক কম হয়, তবে হোস্টেল বা রেস্টুরেন্টে নিয়মিত খেলে এই খরচ
অনেকটাই বেড়ে যায়। স্টুডেন্টদের ক্ষেত্রে সাধারণত নিজে রান্না করে খাওয়াটাই
সবচেয়ে সাশ্রয়ী উপায় হিসেবে বলা যায়।
শুধু আবাসন ও খাবার নয়, পরিবহন, স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য দৈনন্দিন খরচও মোট
বাজেটে যোগ হয়। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে
জীবনযাত্রার খরচ ক্রমবর্ধমান একটা চাপের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, বিশেষ করে
বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয়ের ক্ষেত্রে। তাই যারা নতুন করে আমেরিকায়
যাচ্ছেন, তাদের জন্য বাজেট পরিকল্পনায় কিছুটা অতিরিক্ত রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
খরচ কমানোর কিছু উপায় খুজলে শহরের কেন্দ্র থেকে একটু দূরে থাকলে ভাড়া কম
পড়ে। রুমমেট বা শেয়ারড অ্যাপার্টমেন্টে থাকলে আবাসন খরচ অনেকটা কমে যায়।নিজে
রান্না করে খেলে খাবারের খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে সাশ্রয় হয়। পাবলিক ট্রান্সপোর্ট
ব্যবহার করলে যাতায়াত খরচ কম থাকে।
আমেরিকাতে কোন কাজের চাহিদা বেশি
আমেরিকায় কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার আগে কোন সেক্টরে চাহিদা বেশি তা জেনে রাখলে
সেই অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করে যাওয়া যায়, যা চাকরি পাওয়াকে অনেকটাই সহজ করে
দেয়। বাংলাদেশ থেকে যাওয়া প্রবাসীদের মধ্যে সাধারণত দক্ষতা নির্ভর কাজের
চাহিদাই সবচেয়ে বেশি দেখা যায়।
বাঙালি প্রবাসীরা সাধারণত আমেরিকায় দক্ষতা নির্ভর কাজগুলো বেশি করে থাকেন,
যেমন ক্লিনার, প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ান, কনস্ট্রাকশন শ্রমিক, ফুড ডেলিভারি
সার্ভিস এবং ওয়েল্ডিং জাতীয় কাজ। এই ধরনের কাজগুলোতে বিশেষ একাডেমিক যোগ্যতার
চেয়ে হাতের দক্ষতাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তাই যারা কম শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও
আমেরিকা যেতে চান, তাদের জন্য এটা তুলনামূলক সহজ পথ।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, রেস্টুরেন্ট সার্ভিস, ট্রাক ড্রাইভিং এবং হেলথ
কেয়ার সেক্টরে কাজের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে, যা এই মুহূর্তে সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে হেলথ কেয়ার
সেক্টর নার্সিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, কেয়ারগিভার বা হোম হেলথ এইডের মতো পদগুলোতে
জনবলের ঘাটতি থাকায় এখানে সুযোগ তুলনামূলক বেশি, আর যারা প্রাথমিক একটা
সার্টিফিকেশন কোর্স করে যান তাদের জন্য এই সেক্টরে ঢোকা সহজ হয়ে যায়।
যারা সরাসরি শারীরিক শ্রমের কাজে আগ্রহী নন, তাদের জন্য ফ্রিল্যান্সিং একটা
বিকল্প পথ হতে পারে। একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে
ফ্রিল্যান্সারদের চাহিদা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি, যদিও এটি সরাসরি
আমেরিকায় গিয়ে কাজ করার সুযোগ নয়, বরং দূরবর্তীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের
ক্লায়েন্টদের জন্য কাজ করার সুযোগকে নির্দেশ করে। যাদের কম্পিউটার বা ডিজিটাল
স্কিল আছে, তাদের জন্য এই পথটাও বিবেচনা করা যেতে পারে।
কাজের ভিসার জন্য আবেদন করার সময় নিজের সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতার সনদপত্র
প্রস্তুত রাখাটা জরুরি, কারণ ইন্টারভিউতে এই ডকুমেন্টই আপনার দক্ষতার প্রমাণ
হিসেবে কাজ করে।
আমেরিকার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন কত
অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে আমেরিকাতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতন কত? আমেরিকায়
বেতন সব জায়গায় এক নয়, এটা নির্ভর করে আপনি কোন রাজ্যে থাকছেন, কী কাজ করছেন
আর আপনার দক্ষতা কেমন তার উপর।
সর্বনিম্ন বেতনঃ দেশজুড়ে একটা বেসিক নিয়ম আছে ২০২৬ সালে ফেডারেল সর্বনিম্ন
মজুরি ঘণ্টায় ৭.২৫ ডলার। কিন্তু প্রতিটা রাজ্য চাইলে এর চেয়ে বেশি নির্ধারণ
করতে পারে, আর যেটা বেশি সেটাই আপনি পাবেন। যেমন ২০২৬ সালে ওয়াশিংটন ডিসিতে এই
হার সর্বোচ্চ ১৮.৪০ ডলার পর্যন্ত উঠে গেছে। অর্থাৎ, একই কাজ করলেও কোন রাজ্যে
করছেন তার উপর ভিত্তি করে ঘণ্টায় আয়ে অনেক পার্থক্য হয়ে যায়।
সর্বোচ্চ বেতনঃ সর্বোচ্চ বেতনের কোনো বাঁধা সীমা নেই। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার,
আইনজীবী বা সফটওয়্যার ডেভেলপারের মতো দক্ষ পেশাজীবীরা সাধারণ শ্রমিকের তুলনায়
বহুগুণ বেশি আয় করেন। যত বেশি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা, বেতন তত বেশি এটাই মূল
নিয়ম।
কেন এই পার্থক্য হয়? সাধারণ শ্রমিক আর দক্ষ পেশাজীবীর মধ্যে বেতনের ফারাক অনেক
বড়, নিউ ইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ডিসির মতো ব্যয়বহুল শহরে ন্যূনতম
মজুরি বেশি রাখা হয়, কারণ সেখানে থাকা-খাওয়ার খরচও বেশি, কোনো নির্দিষ্ট কাজে
সার্টিফিকেট বা ট্রেনিং থাকলে বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
কাজের জন্য আমেরিকা যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে শুধু একটা সাধারণ ধারণা না নিয়ে,
ঠিক কোন রাজ্যে ও কোন কাজে যাচ্ছেন সেটার বেতন হার আলাদাভাবে যাচাই করে নেওয়াই
ভালো, কারণ এই হার সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হয়।
বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে কত টাকা লাগে সর্ম্পকে প্রশ্ন FAQ
প্রশ্নঃ বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে সর্বনিম্ন কত টাকা লাগে?
উত্তরঃ স্টুডেন্ট ভিসায় স্কলারশিপসহ গেলে সর্বনিম্ন ৩ থেকে ৪ লাখ টাকায়
যাওয়া সম্ভব। তবে সাধারণভাবে ১৫ থেকে ২৫ লাখ টাকাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত
হিসাব।
প্রশ্নঃ আমেরিকা যেতে কোন ভিসায় খরচ সবচেয়ে কম?
উত্তরঃ ট্যুরিস্ট বা ভিজিট ভিসায় খরচ সবচেয়ে কম, সাধারণত ৩ থেকে ৫ লাখ
টাকার মধ্যে।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশ থেকে কি সরাসরি আমেরিকা যাওয়া যায়?
উত্তরঃ না, সরাসরি ফ্লাইট নেই। দুবাই বা অন্য কোনো ট্রানজিট শহর হয়ে যেতে
হয়।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে কত সময় লাগে?
উত্তরঃ ট্রানজিটসহ মোট সময় লাগে প্রায় ২৫ থেকে ৩৫ ঘণ্টা।
প্রশ্নঃ আমেরিকা ভিসার আবেদন ফি কত?
উত্তরঃ ভিসা ক্যাটাগরি অনুযায়ী সাধারণত ১৪ হাজার থেকে ১৭ হাজার টাকার মধ্যে
হয়ে থাকে।
প্রশ্নঃ আমেরিকা ভিসা প্রসেসিং করতে কত সময় লাগে?
উত্তরঃ আবেদন প্রসেসিং হতে ৩-৭ দিন লাগলেও, ইন্টারভিউর অ্যাপয়েন্টমেন্ট পেতে
কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
প্রশ্নঃ স্টুডেন্ট ভিসায় আমেরিকা যেতে কত টাকা লাগে?
উত্তরঃ স্কলারশিপ থাকলে ৩-৪ লাখ, না থাকলে সাধারণত ৫ থেকে ১৫ লাখ টাকা
পর্যন্ত লাগতে পারে।
প্রশ্নঃ বাংলাদেশ থেকে সরকারিভাবে আমেরিকা যাওয়া যায়?
উত্তরঃ স্টুডেন্ট ভিসা ছাড়া সরকারি কোনো চ্যানেল নেই। নিজ উদ্যোগে বা
এজেন্সির মাধ্যমে প্রসেসিং করতে হয়।
প্রশ্নঃ আমেরিকার সর্বনিম্ন বেতন কত?
উত্তরঃ ফেডারেল সর্বনিম্ন মজুরি ঘণ্টায় ৭.২৫ ডলার, তবে রাজ্যভেদে এটা ১৮
ডলারের বেশি পর্যন্ত হতে পারে।
প্রশ্নঃ আমেরিকায় কোন কাজের চাহিদা বেশি?
উত্তরঃ ক্লিনার, প্লাম্বার, ইলেকট্রিশিয়ান, কনস্ট্রাকশন শ্রমিকের পাশাপাশি
রেস্টুরেন্ট, ট্রাক ড্রাইভিং ও হেলথ কেয়ার সেক্টরে চাহিদা বাড়ছে।
বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যেতে কত টাকা লাগে সর্ম্পকে শেষ কথা
বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যাওয়ার পথটা প্রথমে যতটা জটিল আর অনেক খরচ মনে হয়,
আসলে ততটাও কঠিন নয়। শুধু সঠিক তথ্য জানা আর একটু ধৈর্য ধরে প্রস্তুতি নেওয়াই
আসল কাজ। ভিসা, বাজেট আর কাগজপত্র এই তিনটা বিষয় ঠিকঠাক গুছিয়ে নিতে পারলে
বাকি পথটা এমনিতেই সহজ হয়ে যায়।
আশা করছি, আজকের এই পুরো বিষয়ে আপনার প্রশ্নের সব সঠিক তথ্য আপনি পেয়েছেন।
আমেরিকা যাওয়ার স্বপ্ন যাদের মনে লালিত হচ্ছে, তাদের প্রত্যেকের জন্য রইলো
অনেক শুভকামনা। যাত্রাটা শুভ হোক, স্বপ্নপূরণ হোক সুন্দরভাবে। আপনাদের যদি কোনো
মতামত থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন ধন্যবাদ।
টিপস পয়েন্ট আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url