সৌদি আরবের কোম্পানি ভিসা আবেদন : নিয়ম ও খরচ ২০২৬

যেসকল ভাই ও বোনেরা সৌদি আরবের কোম্পানিতে যেতে চাচ্ছেন এবং ২০২৬ সালে কোন কোন পদে কোন কোন কোম্পানিতে যাওয়া যাবে, কিভাবে যাবেন, ভিসার আবেদনের নিয়ম, কি কি কাগজপত্র এবং খরচ কত তা সর্ম্পকে বিস্তারিত জানা প্রয়োজন।

সৌদি-আরবের-কোম্পানি-ভিসা-আবেদন

চলুন জেনে নেই, ২০২৬ সালে সৌদি আরবের কোম্পানি ভিসা আবেদন করতে কি কি নিয়ম ও খরচ প্রয়োজন বিস্তারিত।

পেজ সূচিপত্রঃ সৌদি আরবের কোম্পানি ভিসা আবেদন : নিয়ম ও খরচ ২০২৬

সৌদি আরব কোম্পানি ভিসা কি?

সৌদি আরবের কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান যখন বাইরে থেকে কর্মী নেওয়ার জন্য ভিসা ইস্যু করে, সেটিকে কোম্পানি ভিসা বলা হয়। এই ভিসায় আপনি নির্দিষ্ট একটি কোম্পানিতে একদম চুক্তিভাবে কর্মী হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবেন, যেখানে থাকার জায়গা ও আকামা সর্ম্পকে বেশ কিছু সুবিধাও থাকে। ফ্রি ভিসার মতো নিজে কাজ খোঁজার ঝুঁকি না থাকায় বর্তমানে প্রবাসীদের কাছে কোম্পানি ভিসার চাহিদা অনেক বেশি।

কোম্পানি ভিসার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এতে বেতন ঠিক সময়ে পাওয়া যায় এবং কাজের একটা স্থায়ী নিশ্চয়তা থাকে। আপনি যে পদে ও যে চুক্তিতে আসবেন, কোম্পানি আপনাকে আইন অনুযায়ী সেই দায়িত্ব এবং চুক্তি অনুযায়ী সব সুবিধা দিতে বাধ্য থাকবে। তাই দালালের ঝামেলা ছাড়া নিরাপদে বিদেশে গিয়ে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে এই ভিসা নিঃসন্দেহে অনেক ভালো একটি সিদ্ধান্ত।

সৌদি কোম্পানি ভিসায় আবেদনের নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

সৌদি আরবের কোম্পানি ভিসায় আবেদনের প্রক্রিয়াটি বেশ কিছু ধাপের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। এই  প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হতে ১থেকে ৩ মাস সময় লাগে। আপনার বোঝার সুবিধার্থে সম্পূর্ণ নিয়ম এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিচে ধাপে ধাপে বুঝিয়ে দেওয়া হলো: 

ভিসা আবেদনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ

  • মূল পাসপোর্ট: কমপক্ষে ৬ মাসের মেয়াদ থাকতে হবে।
  • ছবি: সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডের পাসপোর্ট সাইজ ছবি (সাধারণত ৪-৬ কপি)।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): মূল কপি ও ফটোকপি।
  • মেডিকেল ফিটনেস সার্টিফিকেট: অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে রিপোর্ট।
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সনদ: কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড নেই, এমন সত্যতা প্রমাণ করার জন্য।
  • শিক্ষাগত ও দক্ষতার সনদ: (যদি কাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়)।

আরো পড়ুনঃ বিদেশ থেকে বিকাশে টাকা আসতে কত দিন সময় লাগে?

ধাপে ধাপে আবেদনের সহজ নিয়মঃ

জব সার্কুলার খোঁজা ও বাছাই: সরকারি (যেমন: BOESL) বা অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সির সার্কুলার থেকে আপনার দক্ষতার সাথে মিলে এমন পদ খুঁজে নিন। সৌদি আরবের কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ও সার্কুলার দেখতে পারেন।

আবেদন ও কাগজপত্র জমা: নির্ধারিত ফরম পূরণ করে পাসপোর্ট, ছবি ও সনদের ফটোকপি এজেন্সিতে বা অনলাইনে জমা দিন।

ইন্টারভিউ দেওয়া: কোম্পানি থেকে প্রতিনিধি আসলে বা অনলাইনে (Zoom/Google Meet) দক্ষতার ওপর ইন্টারভিউ দিন।

মেডিকেল টেস্ট: ইন্টারভিউতে টিকলে নির্দিষ্ট 'GAMCA' অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টার থেকে শারীরিক পরীক্ষা করান।

ভিসা প্রসেসিং ও ইস্যু: মেডিকেল ফিট এলে পাসপোর্ট ও পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দূতাবাসে জমা দিয়ে ভিসা স্ট্যাম্পিং বা ইস্যু করিয়ে নিন।

সৌদি আরব কোম্পানি ভিসার বেতন কত হয়?

সৌদি আরবে কোম্পানি ভিসায় মূল বেতন কত হবে তা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার কাজের ধরন, অভিজ্ঞতা এবং কোম্পানির উপর। সাধারণ লেবার বা ক্লিনারদের চেয়ে দক্ষ টেকনিশিয়ান ও ড্রাইভারদের বেতন অনেক বেশি হয়ে থাকে। ২০২৬ সালের বর্তমানে কোম্পানি ভিসায় গড়ে ৮০০ রিয়াল থেকে শুরু করে ৩,০০০ রিয়ালের বেশি পর্যন্ত আয় করা সম্ভব, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২৫,০০০ টাকা থেকে ১,০০,০০০ টাকারও বেশি।

জনপ্রিয় কয়েকটি পদের আনুমানিক বেতন ও অন্যান্য সুবিধার একটি তালিকা দেওয়া হলো:

পদের নাম (কাজের ধরন) আনুমানিক মাসিক বেতন (SAR) আনুমানিক বাংলাদেশি টাকা (BDT) কোম্পানির বিশেষ সুযোগ-সুবিধা
সাধারণ শ্রমিক / ক্লিনার ৮০০ - ১,২০০ রিয়াল ২৬,০০০ - ৩,৯,০০০ টাকা ফ্রি থাকা + কোম্পানির নিজস্ব আকামা
প্যাকেজিং ও ফ্যাক্টরি কর্মী ১,০০০ - ১,৪০০ রিয়াল ৩২,৫০০ - ৪৫,৫০০ টাকা ওভারটাইম সুযোগ + থাকা ফ্রি
ইলেকট্রিশিয়ান / প্লাম্বার ১,২০০ - ২,০০০ রিয়াল ৩,৯,০০০ - ৬৫,০০০ টাকা ওভারটাইম বোসাস + স্বাস্থ্য বীমা
হালকা ও ভারী ড্রাইভার ১,৫০০ - ২,৫০০ রিয়াল ৪৮,৭০০ - ৮১,২৫০ টাকা ওভারটাইম + ফ্রি খাবার সুবিধা
মেকানিক / এসি টেকনিশিয়ান ১,৫০০ - ২,৮০০ রিয়াল ৪৮,৭০০ - ৯১,০০০ টাকা চিকিৎসা সুবিধা + আকামা নবায়ন
ইঞ্জিনিয়ার / আইটি স্পেশালিস্ট ৩,৫০০ - ৮,০০০+ রিয়াল ১,১৩,৭৫০ - ২,৬০,০০০+ টাকা ফ্যামিলি সুবিধা + বার্ষিক টিকেট

অভিজ্ঞতা ও কাজের দক্ষতা থাকলে কোম্পানি ভেদে ১০%-২০% পর্যন্ত অতিরিক্ত বেতন পাওয়া যায়। এছাড়া সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত বড় কোম্পানিগুলো সাধারণত বিনামূল্যে ওভারটাইম, স্বাস্থ্য দিয়ে থাকে।

২০২৬ সালে সৌদি আরবের কোন কোন কোম্পানিতে যাওয়া যায়?

সৌদি আরবে ছোট-বড় অনেক কোম্পানি থাকলেও বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য কিছু বিশ্বস্ত কোম্পানিতে নিয়মিত নিয়োগ দেওয়া হয়। দেখে নিন, ২০২৬ সালে ভিসা আবেদনের জন্য নিচের দেওয়া সেরা কোম্পানিগুলো প্রবাসীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়:

  • আলমারাই কোম্পানিঃ সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় ডেইরি ও ফুড প্রোডাক্টস প্রতিষ্ঠান। এখানে ড্রাইভার, প্যাকেজিং, ক্লিনার, সেলসম্যান এবং ফ্যাক্টরি হেলপার পদে প্রতি বছরই প্রচুর কর্মী নিয়ে থাকে।
  • বিন লাদেন গ্রুপঃ সৌদি আরবের শীর্ষ কনস্ট্রাকশন ও নির্মাণ প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন বড় বড় প্রজেক্টে মেসন, রডমিস্ত্রি, ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার ও সাধারণ লেবার পদে এখানে বিশাল নিয়োগ হয়ে থাকে।
  • আল বাওয়ানিঃ সৌদি আরবের আরও একটি খ্যাতিমান কনস্ট্রাকশন কোম্পানি। সিভিল ইঞ্জিনিয়ার, সাইট সুপারভাইজর থেকে শুরু করে ভারী যন্ত্রপাতির অপারেটর ও নির্মাণ শ্রমিক পদে তারা লোক নেয়।
  • নেসমা অ্যান্ড পার্টনার্সঃ তেল, গ্যাস ও অবকাঠামো খাতে কাজ করা একটি প্রথম সারির কন্ট্রাক্টিং কোম্পানি। এখানে মেকানিক্যাল, টেকনিক্যাল এবং সেফটি অফিসারসহ দক্ষ টেকনিশিয়ানদের কাজের বড় সুযোগ থাকে।
  • সৌদি অরামকো প্রজেক্টসঃ সরাসরি অরামকো ছাড়াও তাদের অধীনে সাব-কন্ট্রাক্টর কোম্পানিগুলোতে রিগ মেকানিক, পাইপ ফিটার, ওয়েল্ডার ও ক্রেন অপারেটর পদে প্রচুর কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়।
  • সেফকোঃ পেট্রোকেমিক্যাল খাতের কোম্পানিগুলোতে রিফাইনারি লেবার, মেইনটেন্যান্স ক্রু এবং লোডিং-আনলোডিং হেলপার পদের জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রচুর লোক নেওয়া হয়।
সৌদি-আরবের-কোম্পানি-ভিসা-আবেদন

সৌদি কোম্পানি ভিসায় কোন কোন পদে কাজের চাহিদা বেশি

সৌদি আরবে সব কাজের চাহিদা বা সুযোগ একরকম নয়। কিছু টেকনিক্যাল ও কারিগরি কাজের কদর সবচেয়ে বেশি, কারণ এসব কাজ জানা থাকলে চাকরি যেমন তাড়াতাড়ি মেলে, তেমনই বেতন ও ওভারটাইমের ভালো সুযোগ থাকে। কিছু চাহিদা সম্পন্ন প্রধান পদগুলো হলো:

১. অটোমোবাইল ও ওয়ার্কশপ মেকানিকঃ সৌদি আরবে প্রায় প্রতি ঘরেই একাধিক গাড়ি থাকে এবং মরুভূমির তীব্র গরমের কারণে গাড়ি ঘন ঘন সার্ভিসিং করতে হয়। এই কাজগুলো মূলত দেশের সানাইয়া নামত এলাকার গ্যারেজগুলোতে হয়ে থাকে এবং কাজের চাহিদাও বেশি।

অটো মেকানিক ও ডেন্টার/পেইন্টার: কার ও ট্রাকের ইঞ্জিন মেরামত, এসি মেকানিক, বডি ডেন্টিং এবং স্প্রে পেইন্টিং জানা থাকলে সানাইয়া এলাকার যেকোনো ওয়ার্কশপে ভালো বেতনে চাকরি পাওয়া সম্ভব।
ইলেকট্রিশিয়ান: আধুনিক কম্পিউটারাইজড সেন্সরযুক্ত গাড়ির ওয়ারিং, স্যানিং এবং টেকনিক্যাল ত্রুটি অনুসন্ধানের কাজের বিশাল চাহিদা রয়েছে।

২. ড্রাইভিং ও ডেলিভারি ম্যানঃ সৌদি আরবে বিশাল বিশাল ই-কমার্স, লজিস্টিকস এবং ডেইরি কোম্পানির জিনিস পরিবহনের জন্য সার্বক্ষণিক ড্রাইভার দরকার হয়। হালকা ও ভারী ড্রাইভার: আপনার বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকলে আলমারাই, নাদক বা অন্যান্য লজিস্টিকস কোম্পানিতে 'ডেলিভারি ভ্যান ড্রাইভার' বা 'ট্রাক ড্রাইভার' হিসেবে প্রচুর নিয়োগ পাওয়া যায়।

৩. প্যাকেজিং ও ফ্যাক্টরি হেলপারঃ সৌদি আরবের বড় বড় জুস, ডেইরি, ওয়াটার প্রসেসিং ও খাদ্য প্রস্তুতকারী ফ্যাক্টরিগুলোতে কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই কাজ করা যায়। উৎপাদন ও প্যাকেজিং কর্মী: কারখানায় পণ্য প্যাক করা, কার্টনে গুছিয়ে রাখা এবং লোডিং-আনলোডিংয়ের কাজ। এই পদগুলোতে প্রচুর বাংলাদেশি কর্মী নিয়মিত নিয়োগ পান।
৪. ইলেকট্রিক্যাল, প্লাম্বিং ও টেকনিশিয়ানঃ ভবন এবং বড় বড় বাণিজ্যিক শপিং মলের রক্ষণাবেক্ষণে জন্য দক্ষ মানুষের প্রচুর চাহিদা থাকে। এসি টেকনিশিয়ান ও ইলেকট্রিশিয়ান: আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে সেন্ট্রাল এসি ফিটিং, পাইপ ফিটিং এবং হাউজ ওয়্যারিংয়ের মতো ট্রেড কোর্স করা কর্মীদের কোম্পানির চাহিদা শীর্ষে।

৫. কনস্ট্রাকশন লেবার ও রডমিস্ত্রিঃ সৌদি আরবের মেগা প্রজেক্টগুলোর কারণে নির্মাণ খাতে অভিজ্ঞ কর্মীদের নিয়মিত নিয়োগ হয়। মেসন ও রাজমিস্ত্রি: রডমিস্ত্রি (স্টিল ফিক্সার), শাটারিং কার্পেন্টার, টাইলস ফিটার ও সাধারণ শ্রমিকের বিশাল নিয়োগ হয়ে থাকে।

৬. ক্লিনিং ও হাউসকিপিংঃ এয়ারপোর্ট, হাসপাতাল, শপিং মল এবং বড় কর্পোরেট অফিসের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য নিয়মিত কর্মী নেওয়া হয়। ক্লিনার: সাধারণত ক্লিনিং এজেন্সিগুলোর মাধ্যমে সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে যাওয়ার সুযোগ থাকে।

আলমারাই কোম্পানিতে কোন কোন পদে যাওয়া যায়

সৌদি আরবের বিভিন্ন কোম্পানি গুলোর মধ্যে অনেকের পছন্দের কোম্পানি হলো আলমারাই কোম্পানি। সৌদিতে সবচেয়ে বড় ডেইরি ও ফুড প্রোডাক্টস প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আলমারাই। এই কোম্পানিতে কাজের সুযোগ যেমন বেশি, তেমনই এদের বেতন এবং থাকার সুবিধাও বেশ ভালো। আলমারাই কোম্পানিতে কিছু প্রধান পদগুলো হলো:

  • সেলস ও ডেলিভারি ভ্যান ড্রাইভারঃ আলমারাইয়ের বিশাল ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা করার জন্য ড্রাইভারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। কোম্পানির দুধ, জুস, চিজ এবং বেকারি পণ্য নির্দিষ্ট সুপারমার্কেট বা দোকানে পৌঁছে দেওয়া। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং প্রাথমিক রুট চেনার দক্ষতা থাকতে হয়।
  • অটোমোবাইল মেকানিক ও গ্যারেজ স্টাফঃ আলমারাই কোম্পানির নিজস্ব হাজার হাজার পরিবহন ভ্যান, লরি ও ট্রাক রয়েছে। এগুলো সবসময় সচল রাখতে তাদের বিশাল (ওয়ার্কশপ) রয়েছে।অটো মেকানিক, অটো ইলেকট্রিশিয়ান, ডেন্টার, পেইন্টার এবং টায়ার মেকানিক হিসেবে গাড়ির সার্ভিসিং ও মেরামতের কাজ করা।
  • ফ্যাক্টরি হেলপার ও প্যাকেজিং কর্মীঃ কারখানায় সরাসরি কাজ করার জন্য কোনো বিশেষ অভিজ্ঞতার প্রয়োজন পড়ে না। প্রোডাক্ট লেবেলিং করা, কার্টনে মালামাল গুছিয়ে রাখা, প্রসেসিং লাইনে সাহায্য করা এবং কোল্ড স্টোরেজে মালামাল লোডিং-আনলোডিং করা।
  • সেলসম্যান ও মার্চেন্ডাইজারঃ যেসব কর্মীদের কিছুটা অভিজ্ঞতা ও সাধারণ ইংরেজি বা আরবি ভাষায় কথা বলার দক্ষতা আছে, তারা এই পদে সুযোগ পান। বড় বড় শপিং মল বা সুপারশপে আলমারাইয়ের পণ্যগুলো সুন্দর করে সাজিয়ে রাখা, স্টক চেক করা এবং কাস্টমারকে সার্ভিস দেওয়া।
  • ফার্ম ও ডেইরি হেলপারঃ আলমারাইয়ের নিজস্ব বিশাল গরুর খামার ও কৃষিজমি রয়েছে, যেখানে বিপুল পরিমাণ কৃষিপণ্য ও গবাদিপশু লালন-পালন করা হয়। খামারে দুধ দোহানো, পশুপালন, শেড পরিষ্কার রাখা এবং কৃষি যন্ত্রপাতি পরিচালনার কাজ।
আলমারাই কোম্পানিতে কোন কোন পদে কাজ বেশি পাওয়ায় সেই সর্ম্পকে বিস্তারিত জানতে আলমারাই কোম্পানির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যোগাযোগ নিতে পারেন।

সরকারিভাবে কোম্পানি ভিসায় যেতে কত টাকা লাগে?

সরকারিভাবে বা বোয়েসেল এর মাধ্যমে সৌদি আরবের কোম্পানি ভিসায় গেলে খরচ কম হয়। বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এই ব্যবস্থায় অতিরিক্ত কোনো দালালকে ফি দিতে হয় না। সরকারি মাধ্যমে সৌদি আরব যেতে সাধারণত ৪০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৮০,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকার মধ্যে সম্পূর্ণ খরচ হয়ে যায়।

সরকারি খরচের একটি আনুমানিক হিসাব:
  • মেডিকেল ফি: আনুমানিক ৮,৫০০ – ৯,৫০০ টাকা।
  • ভিসা প্রসেসিং ও স্ট্যাম্পিং ফি: ১০,০০০ – ১৫,০০০ টাকা।
  • বিএমইটি (BMET) স্মার্ট কার্ড ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট: ৪,০০০ – ৫,০০০ টাকা।
  • কল্যাণ বোর্ড ফি ও বিমা খরচ: ৪,০০০ – ৫,০০০ টাকা।
  • বোয়েসেল সার্ভিস চার্জ: পদের ভিত্তিতে সরকার নির্ধারিত নামমাত্র সার্ভিস চার্জ।
  • প্লেন টিকেট: অনেক সময় নিয়োগকারী সৌদি কোম্পানি নিজেই ফ্রি বিমান টিকেট প্রদান করে। কোম্পানি টিকেট না দিলে বিমান টিকেটের আসল দাম (৪০,০০০ – ৫০,০০০ টাকা) যুক্ত হয়।

বেসরকারিভাবে বা এজেন্সির মাধ্যমে কোম্পানি ভিসা খরচ

বাংলাদেশ থেকে বেশিরভাগ মানুষই ট্রাভেল এজেন্সি বা দালালের মাধ্যমে সৌদি আরবের কোম্পানি ভিসায় যান। বেসরকারি প্রসেসে খরচ সরকারি নিয়মের চেয়ে বেশি হয়, কারণ এতে এজেন্সির প্রফিট এবং কাজের ফাইল প্রসেসিং ফি যুক্ত থাকে। বেসরকারিভাবে বা এজেন্সির মাধ্যমে একটি সৌদি কোম্পানি ভিসা পেতে ৩,৫০,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫,০০,০০০ টাকা (বা তারও বেশি) পর্যন্ত খরচ হতে পারে। আনুমানিক খরচ:
  • ভিসার মূল দাম বা ফাইল প্রসেসিং: ২,৫০,০০০ – ৩,৫০,০০০ টাকা।
  • মেডিকেল পরীক্ষা: ৮,৫০০ – ৯,৫০০ টাকা।
  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও পেপারস অ্যাটেস্টেশন: ৩,০০০ – ৫,০০০ টাকা।
  • ভিসা স্ট্যাম্পিং ও এম্বাসি ফি: ১৫,০০০ – ২৫,০০০ টাকা।
  • বিএমইটি (BMET) ট্রেনিং, স্মার্ট কার্ড ও ইন্স্যুরেন্স: ৫,০০০ – ৭,০০০ টাকা।
  • ওয়ান-ওয়ে এয়ার টিকেট: ৪৫,০০০ – ৬০,০০০ টাকা (কোম্পানি টিকেট না দিলে)।
ভালো কোম্পানি হলে ভিসার দাম কম হয় এবং প্রসেসিং তাড়াতাড়ি হয়। তবে অসাধু এজেন্সি বা দালালের পাল্লায় পড়লে একই ভিসার জন্য অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকে, তাই ভিসা ও কোম্পানির তথ্য যাচাই-বাছাই করে টাকা দেওয়া উচিত।

অনলাইনে সৌদি আরব কোম্পানি ভিসা চেক করার উপায়

সৌদি আরবের কোম্পানি ভিসা আসল নাকি ভুয়া তা ঘরে বসে নিজের মোবাইল বা কম্পিউটার দিয়ে খুব সহজেই অনলাইনে যাচাই করে নেওয়া যায়। ভিসা স্ট্যাম্পিং হয়েছে কিনা বা অনলাইন এন্ট্রি ঠিক আছে কিনা তা দেখতে নিচে ধাপগুলো অনুসরণ করুন: অনলাইনে ভিসা চেক করার জন্য আপনার পাসপোর্টের নম্বর এবং অ্যাপ্লিকেশন নম্বর (বা স্পন্সর/কোম্পানি আইডি) প্রয়োজন হবে।

অনলাইন ভিসা চেক করার সহজ উপায়:
১.অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ: প্রথমে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ভিসা পোর্টাল KSA Visa ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।

২. ভাষা পরিবর্তন: ওয়েবসাইটটি আরবি ভাষায় ওপেন হলে ডান দিকের উপর থেকে English ভাষা সিলেক্ট করে নিন।

৩. ইনকোয়ারি অপশন সিলেক্ট: হোমপেজের "Inquiry" বা "Query" সেকশনে যান।

৪.তথ্য নির্বাচন করুন:
  • Searching for: অপশনে "Visa application number" বা "Visa number" সিলেক্ট করুন।
  • Application Number: আপনার আবেদন নম্বরটি লিখুন।
  • Passport Number: আপনার পাসপোর্ট নম্বরটি দিন।
  • ক্যাপচা কোড দিন: স্ক্রিনে প্রদর্শিত ইমেজ ক্যাপচা কোডটি সঠিক ঘরে লিখুন।
  • সার্চে ক্লিক করুন: সবশেষে "Perform Inquiry" বা "Search" বাটনে চাপ দিন।
আপনার ভিসা যদি আসল এবং ইস্যু করা হয়ে থাকে, তবে স্ক্রিনে প্রার্থীর নাম, পদের নাম, কোম্পানির নাম এবং ভিসার বর্তমান স্ট্যাটাস দেখা যাবে। কোনো তথ্য না আসলে বুঝতে হবে ভিসাটি এখনো প্রসেস হয়নি বা কোনো ভুল রয়েছে।
সৌদি-আরবের-কোম্পানি-ভিসা-আবেদন

কোম্পানি ভিসায় সৌদি আরব যাওয়ার আগে সতর্কতা

সৌদি আরবে কোম্পানি ভিসায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জানা থাকা প্রয়োজন, যাতে প্রবাসে গিয়ে কোনো বিপদে না পড়তে হয় এবং কষ্টের টাকা নষ্ট না হয়। প্রধান সতর্কতাগুলো হলো:

১. ডিমান্ড লেটার ও অফার লেটার ভালো করে যাচাই করুনঃ এজেন্সি বা দালাল আপনাকে কী পদের ভিসা দিচ্ছে এবং কোম্পানিতে মূল বেতন কত তা লিখিত 'অফার লেটার'থেকে ভালোভাবে পড়ে নিন। মুখে বলা কথা ও পেপারের তথ্যে মিল আছে কিনা তা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।

২. আকামা ও কোম্পানির স্ট্যাটাস নিশ্চিত করুনঃ সৌদি আরবে কোম্পানিতে যাওয়ার আগে কোম্পানিটি রেড ক্যাটাগরির (Red Zone) নাকি গ্রিন ক্যাটাগরির (Green Zone) তা নিশ্চিত হয়ে নিন। কোম্পানি গ্রিন ক্যাটাগরির হলে ঠিক সময়ে আকামা পাবেন এবং আকামার খরচ কোম্পানি বহন করবে।

৩. দালাল বা এজেন্সির সঠিকতা যাচাইঃ যেকোনো ট্রাভেল এজেন্সিকে টাকা দেওয়ার আগে তাদের RL নম্বর (লাইসেন্স নাম্বার) চেক করে নিন। লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও বিএমইটি (BMET) নিবন্ধিত এজেন্সির বাইরে সরাসরি অচেনা কোনো ব্যক্তির সাথে টাকার লেনদেন করা একদমই উচিত নয়।

৪. ফ্রি ভিসার নামে কোম্পানি ভিসা বিভ্রান্তি নয়ঃ অনেক সময় দালালরা 'কোম্পানি ভিসা' বলে আপনাকে ভুয়া বা সাপ্লাই কোম্পানির ভিসা ধরিয়ে দিতে পারে। সাপ্লাই কোম্পানিতে বেতনের নিশ্চয়তা কম থাকে। তাই কাজের চুক্তিপত্র ভালো করে পড়ে বুঝে সিদ্ধান্ত নিন।

সৌদি আরবের কোম্পানি ভিসা আবেদন সর্ম্পকে কিছু প্রশ্ন

প্রশ্নঃ কোম্পানি ভিসা পেতে কত দিন সময় লাগে?
উত্তরঃ কাগজপত্র ঠিক থাকলে প্রসেসিং শুরু হওয়ার ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কোম্পানি ভিসা হয়ে যায়।

প্রশ্নঃ কোম্পানি ভিসার আকামা খরচ কে দেয়?
উত্তরঃ সৌদি শ্রম আইন অনুযায়ী কোম্পানি ভিসার আকামা নবায়ন ও যাবতীয় খরচ নিয়োগকারী কোম্পানিকেই দিতে হয়।

প্রশ্নঃ কোম্পানি ভিসায় কি অন্য কোথাও কাজ করা যায়?
উত্তরঃ না, যে কোম্পানির ভিসা সেই কোম্পানিতেই কাজ করতে হবে। চুক্তি ছাড়া বাইরে কাজ করা আইনত অবৈধ।

প্রশ্নঃ কোম্পানি ভিসায় মাসে কত দিন ছুটি পাওয়া যায়?
উত্তরঃ সাধারণত সপ্তাহে ১ দিন সাপ্তাহিক ছুটি এবং বছরে ২১ থেকে ৩০ দিনের বেতন বার্ষিক ছুটি পাওয়া যায়।

প্রশ্নঃ কোম্পানিতে প্রতিদিন কত ঘণ্টা কাজ করতে হয়?
উত্তরঃ সাধারণ ডিউটি দিনে ৮ ঘণ্টা। এর বেশি কাজ করলে ওভারটাইম সুবিধা মিলবে।

প্রশ্নঃ সৌদি যাওয়ার কত দিন পর আকামা পাওয়া যায়?
উত্তরঃ সৌদি আরবে পৌঁছানোর পর সাধারণত ১৫ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে কোম্পানি আকামা বানিয়ে দেয়।

প্রশ্নঃ কোম্পানি ভিসা কি পরবর্তীতে ফ্রি ভিসায় পরিবর্তন করা যায়?
উত্তরঃ না, সরাসরি পরিবর্তন করা যায় না। চুক্তির মেয়াদ শেষ করে বা কফালত পরিবর্তনের নিয়ম মেনে কোম্পানি পরিবর্তন করা সম্ভব।

প্রশ্নঃ কোম্পানি ভিসায় খাবার খরচ কি কোম্পানি দেয়?
উত্তরঃ অনেক কোম্পানি বিনামূল্যে খাবার বা ফুড অ্যালাউন্স দেয়, আবার কিছু কোম্পানি শুধু থাকার সুবিধা দেয়। এটি অফার লেটারে উল্লেখ থাকে।

প্রশ্নঃ সাধারণ লেবার পদে কি ওভারটাইম করার সুযোগ থাকে?
উত্তরঃ হ্যাঁ, ফ্যাক্টরি, ডেইরি, ক্লিনিং বা কনস্ট্রাকশন কোম্পানিতে কাজের চাপ অনুযায়ী নিয়মিত ওভারটাইমের সুযোগ থাকে।

প্রশ্নঃ সৌদি কোম্পানি ভিসার সর্বনিম্ন বয়স কত?
উত্তরঃ সাধারণত কোম্পানি ভিসায় আবেদন করার জন্য বয়স সর্বনিম্ন ২১ বছর এবং সর্বোচ্চ ৩৫ থেকে ৪০ বছর হতে হয়।

সৌদি আরবের কোম্পানি ভিসা আবেদন সর্ম্পকে লেখকের শেষকথা

আপনি যদি নির্দিষ্ট কোনো দক্ষতা যেমনঃ অটোমোবাইল, ড্রাইভিং কিংবা ইলেক্ট্রিক্যাল কাজে পারেন, তবে কম খরচে সরকারিভাবে বা সঠিক মাধ্যমে গিয়ে দ্রুত নিজের ক্যারিয়ার গড়তে পারবেন। তবে ভিসার আবেদন করার আগে কাজের সুযোগ-সুবিধা, বেতন এবং কোম্পানির নিয়মকানুন ভালোভাবে জেনে নেওয়া আপনার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

প্রবাসে গিয়ে যেন কোনো বিপদে পড়তে না হয়, সেজন্য দালালদের কথায় কান না দিয়ে অনলাইনে নিজের ভিসা নিজে চেক করা এবং বিশ্বস্ত এজেন্সির সাহায্য নিবেন। সঠিক প্রস্তুতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং নিজের দক্ষতার ওপর ভরসা রেখে এগোলে সৌদি আরবে আপনার প্রবাস জীবন নিশ্চিতভাবেই সফল ও নিরাপদ হবে। আশা করছি, সৌদি আরবের কোম্পানি ভিসা আবেদন সর্ম্পকে আপনাদের সঠিক ধারণা হয়েছে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টিপস পয়েন্ট আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url