কোন দেশে কত IELTS স্কোর লাগে? ২০২৬ আপডেট
বিশ্বের অসংখ্য বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, নিয়োগকর্তা এবং অভিবাসন কর্তৃপক্ষ এই দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য IELTS পরীক্ষার ফলাফল গ্রহণ করে। অনেক শিক্ষার্থী বা চাকরিপ্রার্থী আবেদন করার আগে একটি সাধারণ প্রশ্ন করেন কোন দেশে কত IELTS স্কোর লাগে?
চলুন জেনে নেই, আমাদের জনপ্রিয় দেশগুলোর সাধারণ IELTS স্কোর, কোন ক্ষেত্রে কত ব্যান্ড প্রয়োজন হতে পারে, স্কোর নির্ধারণের বিষয়গুলো এবং আবেদন করার আগে কী কী যাচাই করা উচিত।
পেজ সূচীপত্রঃ কোন দেশে কত IELTS স্কোর লাগে? ২০২৬ আপডেট
- IELTS কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
- কোন বিষয়ের ওপর IELTS স্কোর নির্ভর করে?
- দেশভিত্তিক সাধারণ IELTS স্কোরের তালিকা
- কানাডায় পড়াশোনার জন্য কত IELTS স্কোর লাগে?
- অস্ট্রেলিয়ায় কত IELTS স্কোর লাগে?
- যুক্তরাজ্যে (UK) পড়াশোনার জন্য কত IELTS স্কোর লাগে?
- যুক্তরাষ্ট্রে (USA) কত IELTS স্কোর লাগে?
- নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও ইউরোপের দেশগুলোতে কত IELTS স্কোর লাগে?
- স্টুডেন্ট ভিসা, ওয়ার্ক ভিসা ও ইমিগ্রেশনের জন্য IELTS স্কোর কি একই?
- ৫.৫, ৬.০, ৬.৫ ও ৭.০ ব্যান্ডের মধ্যে পার্থক্য
- ভালো IELTS স্কোর পাওয়ার কার্যকর প্রস্তুতি
- IELTS স্কোর নিয়ে আবেদন করার আগে যেসব বিষয় অবশ্যই যাচাই করবেন
- কোন দেশে কত IELTS স্কোর লাগে এ সর্ম্পকে প্রশ্ন (FAQ)
- কোন দেশে কত IELTS স্কোর লাগে এ সর্ম্পকে লেখকের শেষকথাঃ
IELTS কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?
বিদেশে উচ্চশিক্ষা, দক্ষ কর্মসংস্থান কিংবা স্থায়ীভাবে বসবাসের স্বপ্ন অনেকেরই রয়েছে। তবে এই স্বপ্ন পূরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ প্রদান করা। অনেক শিক্ষার্থী বা চাকরিপ্রার্থী আবেদন করার আগে একটি সাধারণ প্রশ্ন করেন কোন দেশে কত IELTS স্কোর লাগে? এই প্রশ্নের উত্তর এক বারে দেওয়া সম্ভব নয়।
কারণ একই দেশের মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয়, কোর্স, চাকরির ধরন কিংবা ভিসা ক্যাটাগরির ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় স্কোর পরিবর্তিত হতে পারে। IELTS (International English Language Testing System) হলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি ইংরেজি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষা। বিশ্বের বহু দেশ এটি গ্রহণ করে এবং উচ্চশিক্ষা, চাকরি ও ইমিগ্রেশনের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে। এই পরীক্ষায় চারটি দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়:
- Listening
- Reading
- Writing
- Speaking
প্রতিটি অংশে আলাদা ব্যান্ড স্কোর দেওয়া হয় এবং শেষে একটি Overall Band Score নির্ধারণ করা হয়। স্কোর ০ থেকে ৯ ব্যান্ডের মধ্যে হয়। IELTS-এর ভালো স্কোর থাকলে বিদেশে পড়াশোনা বা ক্যারিয়ারের সুযোগ আরও নিশ্চিত হয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বা আবেদন করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কোন বিষয়ের ওপর IELTS স্কোর নির্ভর করে?
সব দেশের জন্য একটি নির্দিষ্ট IELTS স্কোর নেই। সাধারণত নিচের বিষয়গুলো স্কোরের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করে।
বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজঃ একই দেশে একটি বিশ্ববিদ্যালয় ৬.০ ব্যান্ড গ্রহণ করলেও অন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় ৬.৫ বা ৭.০ ব্যান্ড চাইতে পারে।
কোর্সের ধরনঃ ইঞ্জিনিয়ারিং, ব্যবসায় শিক্ষা কিংবা আইটি কোর্সে তুলনামূলক কম স্কোর গ্রহণ করা হলেও আইন, চিকিৎসা বা গবেষণাভিত্তিক কোর্সে বেশি স্কোর প্রয়োজন হতে পারে।
ভিসার ধরনঃ স্ডেন্ট ভিসা, ওয়ার্ক ভিসা এবং ইমিগ্রেশন ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় IELTS স্কোর এক নয়।
প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালাঃ অনেক প্রতিষ্ঠান Overall Band-এর পাশাপাশি প্রতিটি মডিউলে ন্যূনতম স্কোর নির্ধারণ করে।
আরো পড়ুনঃ মালয়েশিয়া ড্রাইভিং বেতন কত, কাজের চাহিদা কেমন ও কত রিঙ্গিত
দেশভিত্তিক সাধারণ IELTS স্কোরের তালিকা
নিচের টেবিলে জনপ্রিয় দেশগুলোর সাধারণ IELTS স্কোরের একটি ধারণা দেওয়া হলো।
দেশ ঃ সাধারণ Overall IELTS Score
কানাডা ৬.০–৬.৫
অস্ট্রেলিয়া ৬.০–৭.০
যুক্তরাজ্য ৬.০–৭.০
যুক্তরাষ্ট্র ৬.০–৭.৫
নিউজিল্যান্ড ৬.০–৬.৫
আয়ারল্যান্ড ৬.০–৬.৫
জার্মানি ৬.০–৬.৫
নেদারল্যান্ডস ৬.০–৬.৫
সুইডেন ৬.৫
ফিনল্যান্ড ৬.০–৬.৫
এটি একটি সাধারণ ধারণা। আবেদন করার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ শর্ত যাচাই করবেন।
কানাডায় পড়াশোনার জন্য কত IELTS স্কোর লাগে?
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে কানাডা অন্যতম জনপ্রিয় গন্তব্য। এখানকার অধিকাংশ কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণভাবে ৬.০ থেকে ৬.৫ Overall Band গ্রহণ করা হয়। ৈতবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকারঃ
- কিছু প্রতিষ্ঠানে প্রতিটি মডিউলে ন্যূনতম ৬.০ থাকতে হয়।
- মাস্টার্স প্রোগ্রামের ক্ষেত্রে ৬.৫ বা তার বেশি স্কোর চাওয়া হতে পারে।
- প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭.০ Overall থাকলে আবেদন আরও শক্তিশালী হয়।
কানাডায় আবেদন করার আগে শুধুমাত্র Overall Score নয়, Listening, Reading, Writing এবং Speaking-এর পৃথক শর্তও দেখে নেওয়া উচিত।
অস্ট্রেলিয়ায় কত IELTS স্কোর লাগে?
অস্ট্রেলিয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় দেশ। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়, TAFE এবং অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা এক নয়। সাধারণভাবে-
- ডিপ্লোমা কোর্সে ৬.০ ব্যান্ড গ্রহণ করা হতে পারে।
- অধিকাংশ ব্যাচেলর প্রোগ্রামে ৬.০–৬.৫ ব্যান্ড গ্রহণযোগ্য।
- মাস্টার্সের অনেক কোর্সে ৬.৫ Overall প্রয়োজন হয়।
- কিছু পেশাভিত্তিক কোর্সে ৭.০ বা তার বেশি স্কোর চাওয়া হতে পারে।
আরো পড়ুনঃ নতুনদের জন্য আপওয়ার্ক চাকরি শুরু করার সম্পূর্ণ গাইড
শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, ভিসা আবেদনেও ভাষাগত যোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
যুক্তরাজ্যে (UK) পড়াশোনার জন্য কত IELTS স্কোর লাগে?
যুক্তরাজ্য বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় শিক্ষা গন্তব্য। এখানে অক্সফোর্ড, কেমব্রিজসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের IELTS শর্ত এক নয়। সাধারণভাবে-
- ফাউন্ডেশন কোর্স: Overall ৫.৫–৬.০
- ব্যাচেলর ডিগ্রি: Overall ৬.০–৬.৫
- মাস্টার্স: Overall ৬.৫
- গবেষণাভিত্তিক বা প্রতিযোগিতামূলক কোর্স: ৭.০ বা তার বেশি
অনেক বিশ্ববিদ্যালয় Overall ৬.৫ চাইলেও প্রতিটি মডিউলে অন্তত ৬.০ থাকতে হবে—এমন শর্ত দেয়। তাই শুধু Overall Band নয়, Listening, Reading, Writing এবং Speaking-এর আলাদা স্কোরও গুরুত্বপূর্ণ।
UK-তে ভালো স্কোরের সুবিধাঃ ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ বাড়ে। কিছু ক্ষেত্রে স্কলারশিপ পাওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। ভিসা আবেদন আরও শক্তিশালী হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে (USA) কত IELTS স্কোর লাগে?
যুক্তরাষ্ট্রে হাজারেরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। ফলে IELTS-এর প্রয়োজনীয় স্কোরও প্রতিষ্ঠানভেদে ভিন্ন হয়। সাধারণভাবে-
- কমিউনিটি কলেজ: ৫.৫–৬.০
- অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়: ৬.০–৬.৫
- শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়: ৭.০–৭.৫ বা তার বেশি
কিছু বিশ্ববিদ্যালয় IELTS-এর পাশাপাশি TOEFL, Duolingo English Test বা PTE-ও গ্রহণ করে। তবে IELTS এখনও বিশ্বের অন্যতম গ্রহণযোগ্য ইংরেজি দক্ষতা পরীক্ষা।
USA-তে আবেদন করার আগে যেগুলো দেখবেনঃ বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল IELTS Requirement, প্রতিটি মডিউলের ন্যূনতম স্কোর, Conditional Admission আছে কি না, বিকল্প ইংরেজি পরীক্ষার সুযোগ।
নিউজিল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও ইউরোপের দেশগুলোতে কত IELTS স্কোর লাগে?
নিউজিল্যান্ডঃ নিউজিল্যান্ডে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যা প্রতি বছর বাড়ছে। এখানকার অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণভাবে Overall ৬.০–৬.৫ গ্রহণ করা হয়। মাস্টার্স বা গবেষণাভিত্তিক কোর্সে ৬.৫ বা তার বেশি স্কোর লাগতে পারে।
আয়ারল্যান্ডঃ আয়ারল্যান্ড ইউরোপের দ্রুত উন্নয়নশীল শিক্ষা কেন্দ্রগুলোর একটি। সাধারণত-
- ব্যাচেলর: ৬.০
- মাস্টার্স: ৬.৫
জার্মানিঃ ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত প্রোগ্রামগুলোর জন্য সাধারণভাবে ৬.০–৬.৫ ব্যান্ড প্রয়োজন হয়।
নেদারল্যান্ডসঃ ডাচ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য জনপ্রিয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে Overall ৬.০–৬.৫ ব্যান্ড গ্রহণ করা হয়।
আরো পড়ুনঃ পড়া মনে রাখার গোপন রহস্য শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর কৌশল
সুইডেনঃ সুইডেনের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে Overall ৬.৫ ব্যান্ড চাওয়া হয়। কিছু প্রোগ্রামে Writing অংশে নির্দিষ্ট স্কোরও প্রয়োজন হতে পারে।
ফিনল্যান্ডঃ সাধারণভাবে ৬.০–৬.৫ ব্যান্ড গ্রহণযোগ্য হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে শর্ত পরিবর্তিত হতে পারে।
স্টুডেন্ট ভিসা, ওয়ার্ক ভিসা ও ইমিগ্রেশনের জন্য IELTS স্কোর কি একই?
না। এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা যে সব ক্ষেত্রে একই IELTS স্কোর লাগে।
স্টুডেন্ট ভিসাঃ বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের ভর্তি শর্ত অনুযায়ী স্কোর নির্ধারণ করা হয়।
ওয়ার্ক ভিসাঃ কিছু দেশে চাকরির ধরন অনুযায়ী IELTS লাগতে পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে ভাষা পরীক্ষার প্রয়োজন নাও হতে পারে।
ইমিগ্রেশনঃ স্থায়ীভাবে বসবাসের আবেদন করলে অনেক দেশ ভাষাগত দক্ষতার জন্য আলাদা পয়েন্ট প্রদান করে। উচ্চ IELTS স্কোর থাকলে আবেদনকারীর সামগ্রিক প্রোফাইল আরও শক্তিশালী হতে পারে।
৫.৫, ৬.০, ৬.৫ ও ৭.০ ব্যান্ডের মধ্যে পার্থক্য
IELTS ৫.৫
- সীমিত সংখ্যক কোর্সে সুযোগ থাকতে পারে।
- সব বিশ্ববিদ্যালয় এটি গ্রহণ করে না।
IELTS ৬.০
- অনেক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করা যায়।
- আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি প্রচলিত স্কোর।
IELTS ৬.৫
- অধিকাংশ ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার জন্য যথেষ্ট।
- মাস্টার্স প্রোগ্রামে এটি অনেক ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য।
IELTS ৭.০
- প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন সহজ হয়।
- স্কলারশিপের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
- ইমিগ্রেশন আবেদনেও অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
ভালো IELTS স্কোর পাওয়ার কার্যকর প্রস্তুতি
উচ্চ স্কোর অর্জনের জন্য শুধু ইংরেজি জানলেই যথেষ্ট নয়; পরীক্ষার ধরন সম্পর্কে ভালো ধারণাও থাকতে হবে। প্রস্তুতির সময়-
- প্রতিদিন ইংরেজি সংবাদ পড়ুন।
- ইংরেজি পডকাস্ট বা ভিডিও শুনুন।
- নিয়মিত Writing Practice করুন।
- Speaking পার্টনারের সঙ্গে অনুশীলন করুন।
- সময় ধরে Mock Test দিন।
- নিজের দুর্বল অংশ চিহ্নিত করে উন্নতি করুন।
সঠিক পরিকল্পনা ও নিয়মিত অনুশীলন ভালো স্কোর অর্জনের সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয়।
IELTS স্কোর নিয়ে আবেদন করার আগে যেসব বিষয় অবশ্যই যাচাই করবেন
অনেক আবেদনকারী শুধুমাত্র Overall IELTS Band দেখে আবেদন করেন। কিন্তু পরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ না হওয়ায় আবেদন বাতিল হয়ে যায়। তাই আবেদন করার আগে নিচের বিষয়গুলো অবশ্যই যাচাই করে নেওয়া উচিত।
(Overall Band Score) প্রথমে দেখুন আপনার নির্বাচিত বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম Overall IELTS Score কত।
(প্রতিটি মডিউলের শর্ত) অনেক প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র Overall Score নয়, Listening, Reading, Writing এবং Speaking প্রতিটি অংশে ন্যূনতম ব্যান্ড নির্ধারণ করে।
(কোর্সভেদে ভিন্ন শর্ত) একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কোর্সে একই IELTS স্কোর প্রয়োজন হয় না। যেমন, মেডিকেল, নার্সিং, আইন বা শিক্ষা বিষয়ে সাধারণ কোর্সের তুলনায় বেশি স্কোর লাগতে পারে।
(স্কোরের মেয়াদ) IELTS পরীক্ষার ফলাফল সাধারণত ২ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকে। মেয়াদ শেষ হলে নতুন করে পরীক্ষা দিতে হতে পারে।
(বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য) বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ যেকোনো সময় তাদের ভর্তি নীতিমালা পরিবর্তন করতে পারে। তাই আবেদন করার আগে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে সর্বশেষ IELTS Requirement দেখে নিন।
সাধারণ কিছু প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্নঃ কোন দেশে সবচেয়ে কম IELTS স্কোরে পড়তে যাওয়া যায়?
উত্তরঃ কিছু দেশ ও কিছু কলেজে Overall ৬.০ ব্যান্ডে আবেদন করা সম্ভব। তবে নির্দিষ্ট শর্ত প্রতিষ্ঠানভেদে পরিবর্তিত হয়।
প্রশ্নঃ IELTS ৫.৫ ব্যান্ড নিয়ে কি বিদেশে যাওয়া সম্ভব?
উত্তরঃ কিছু সীমিত কোর্স ও প্রতিষ্ঠানে সুযোগ থাকতে পারে। তবে অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬.০ বা তার বেশি স্কোর প্রয়োজন হয়।
প্রশ্নঃ IELTS ৬.৫ কি ভালো স্কোর?
উত্তরঃ হ্যাঁ। ৬.৫ ব্যান্ড আন্তর্জাতিকভাবে ভালো স্কোর হিসেবে বিবেচিত হয় এবং বিশ্বের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি গ্রহণযোগ্য।
প্রশ্নঃ ৭.০ ব্যান্ড কি খুব ভালো?
উত্তরঃ হ্যাঁ। ৭.০ বা তার বেশি স্কোর থাকলে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন উচ্চমানের প্রোগ্রামে আবেদন করার সুযোগ বাড়ে।
প্রশ্নঃ সব দেশের জন্য কি একই IELTS স্কোর লাগে?
উত্তরঃ না। দেশ, বিশ্ববিদ্যালয়, কোর্স এবং ভিসার ধরন অনুযায়ী স্কোরের শর্ত ভিন্ন হয়।
প্রশ্নঃ IELTS Academic এবং General-এর মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তরঃ Academic মূলত উচ্চশিক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়, আর General Training সাধারণত কিছু চাকরি ও অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদনে ব্যবহৃত হয়।
প্রশ্নঃ IELTS পরীক্ষার ফলাফল কতদিন বৈধ থাকে?
উত্তরঃ সাধারণত ২ বছর পর্যন্ত বৈধ থাকে।
প্রশ্নঃস্কলারশিপ পাওয়ার জন্য কি বেশি IELTS স্কোর দরকার?
উত্তরঃ অনেক ক্ষেত্রে ভালো IELTS স্কোর আবেদনকে আরও শক্তিশালী করে এবং কিছু স্কলারশিপে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রশ্নঃ বিশ্ববিদ্যালয় কি শুধু Overall Score দেখে?
উত্তরঃ সবসময় নয়। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি মডিউলে আলাদা ন্যূনতম স্কোরও নির্ধারণ করে।
প্রশ্নঃ আবেদন করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কী?
উত্তরঃ সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ ভর্তি নীতিমালা ও IELTS Requirement যাচাই করা।
কোন দেশে কত IELTS স্কোর লাগে এ সর্ম্পকে লেখকের শেষকথাঃ
কোন দেশে কত IELTS স্কোর লাগে বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি বা অভিবাসনের পরিকল্পনা করলে এই বিষয়টি ভালোভাবে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, কোনো দেশের জন্য একটি নির্দিষ্ট স্কোর নেই। আপনার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়, কোর্স, পেশা এবং ভিসার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় IELTS স্কোর পরিবর্তিত হতে পারে।
সাধারণভাবে ৬.০ থেকে ৬.৫ ব্যান্ড অনেক প্রতিষ্ঠানে গ্রহণযোগ্য হলেও, শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামে ৭.০ বা তার বেশি স্কোর প্রয়োজন হতে পারে। তাই শুধু ন্যূনতম স্কোর অর্জনের লক্ষ্য না রেখে যতটা সম্ভব ভালো ফল করার চেষ্টা করা উচিত।সবশেষে, আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ IELTS শর্ত যাচাই করুন।
সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত অনুশীলন এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতির মাধ্যমে ভালো IELTS স্কোর অর্জন করা সম্ভব। আশা করছি কোন দেশে কত IELTS স্কোর লাগে সর্ম্পকে ধারণা হয়েছে ।



টিপস পয়েন্ট আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url