পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর নিয়ম ও অনলাইন টিকিট বুকিং
Tips Point IT✅
২০ আগ, ২০২৬
আপনি কি পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে চান? কিন্তু জানেন না কীভাবে দেখাবেন,
অনলাইনে টিকিট এর দাম কত কীভাবে টিকেট কাটবেন, তার সঠিক নিয়ম ও প্রসেস সম্পর্কে
বিস্তারিত জানতে চান?
তাহলে চলুন ধাপে ধাপে জেনে নেওয়া যাক, পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর সম্পূর্ণ
নিয়ম-কানুন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সব তথ্য পাবেন একদম সহজ ভাষায়, তাই মনোযোগ
দিয়ে পড়ুন।
অনেকে আছেন যারা ঢাকা পিজি হাসপাতাল কোথায় জানেন না? চলুন সহজ ভাবে বিস্তারিত
জেনে নেওয়া যাক। পিজি হাসপাতালের পূর্ণ নাম হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল
বিশ্ববিদ্যালয় (BSMMU)। এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় এবং প্রথম মেডিকেল
বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল, যেখানে দেশের সেরা বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা রোগী দেখেন।
এই হাসপাতালটি রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র শাহবাগ এলাকায় অবস্থিত, যার কারণে
যাতায়াতের দিক থেকে এটি অত্যন্ত সুবিধাজনক একটি জায়গায় পড়েছে। সহজভাবে
বললে, শাহবাগ মোড়ের পশ্চিম পাশেই পিজি হাসপাতালের অবস্থান। ঢাকার যেকোনো
প্রান্ত থেকে লোকাল বাস, সিএনজি বা প্রাইভেট গাড়িতে সহজেই এখানে পৌঁছানো যায়।
শাহবাগগামী যেকোনো বাসে উঠে শাহবাগ মোড়ে নামলেই আপনি হাসপাতালের গেটের সামনে
চলে আসবেন।
ঠিকানাঃ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০। জাতীয় জাদুঘর, ঢাকা
বিশ্ববিদ্যালয় ও চারুকলা ইনস্টিটিউটের কাছাকাছি হওয়ায় এই হাসপাতালটি খুঁজে
পেতে তেমন কোনো সমস্যা হয় না। রাস্তার যেকোনো মানুষকে পিজি হাসপাতাল বা
বঙ্গবন্ধু মেডিকেল জিজ্ঞেস করলেই তারা দেখিয়ে দিতে পারবেন।
পিজি হাসপাতালে অনলাইনে টিকেট কাটতে কী কী লাগবে
আপনি যদি পিজি হাসপাতালে অনলাইনে টিকেট কাটতে চান তাহলে আপনাকে আগে জানতে হবে
টিকেট কাটার সময় কি কি লাগবে, চলুন জেনে নেই। পিজি হাসপাতালে সরাসরি লাইনে
দাঁড়িয়ে টিকেট কাটতে গেলে অনেক সময় ভোরবেলা থেকেই লম্বা লাইনে দাঁড়াতে হয়,
যা রোগী ও তার স্বজনদের জন্য বেশ কষ্টকর।
এই ভোগান্তি কমাতেই এখন অনলাইনে টিকেট বুকিং করার সুবিধা চালু হয়েছে, যার
মাধ্যমে ঘরে বসেই পছন্দের ডাক্তার দেখানোর সিরিয়াল নিশ্চিত করা যায়। তাই
লাইনে দাঁড়ানোর ঝক্কি এড়াতে চাইলে অনলাইন টিকেট বুকিং সবচেয়ে সহজ ও সময়
সাশ্রয়ী উপায়। অনলাইনে টিকেট কাটার আগে কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস হাতের কাছে
রাখা জরুরি, যাতে বুকিং প্রক্রিয়া কোনো বাধা ছাড়াই সম্পন্ন করা যায়। নিচে
সেগুলো তুলে ধরা হলোঃ
১. একটি স্মার্টফোন বা কম্পিউটারঃ ইন্টারনেট সংযোগসহ, যা দিয়ে অনলাইন পোর্টালে
প্রবেশ করা যাবে।
২. সচল মোবাইল নম্বরঃ রেজিস্ট্রেশন ও ওটিপি (OTP) ভেরিফিকেশনের জন্য এটি
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
৩. রোগীর নাম, বয়স ও ঠিকানাঃ সঠিকভাবে ফর্ম পূরণের জন্য এই তথ্যগুলো লাগবে।
৪. জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন নম্বরঃ অনেক ক্ষেত্রে পরিচয়
নিশ্চিতকরণের জন্য এটি চাওয়া হতে পারে।
৫. ইমেইল ঠিকানাঃ কিছু পোর্টালে কনফার্মেশন মেইল পাঠানোর জন্য প্রয়োজন হয়।
৬. টিকেটের ফি পরিশোধের মাধ্যমঃ বিকাশ, নগদ, রকেট বা অন্য কোনো মোবাইল ব্যাংকিং
অ্যাকাউন্ট, যা দিয়ে অনলাইনে পেমেন্ট করা যাবে।
৭. পূর্বের কোনো মেডিকেল রিপোর্ট বা প্রেসক্রিপশন থাকলে তাঃ প্রয়োজনে আপলোড
করার জন্য প্রস্তুত রাখা ভালো।
এই তথ্য ও উপকরণগুলো আগে থেকে গুছিয়ে রাখলে অনলাইনে টিকেট বুকিং করতে খুব বেশি
সময় লাগবে না, এবং হুট করে হাসপাতালে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা থেকেও
মুক্তি পাওয়া যাবে।
অনলাইনে ডাক্তার দেখানোর জন্য রেজিস্ট্রেশন করার নিয়ম
চলুন এখন বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক কিভাবে অনলাইনে ডাক্তার দেখানোর জন্য
রেজিস্ট্রেশন কিভাবে করবেন। পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর জন্য এখন আর
হাসপাতালে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে রেজিস্ট্রেশন করার প্রয়োজন নেই। ঘরে বসেই
মোবাইল দিয়ে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করা যায়, যা পরবর্তীতে টিকেট বুকিং
করার সময় কাজে লাগবে।
প্রথমে আপনাকে পিজি হাসপাতালের অফিসিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট পোর্টালে প্রবেশ
করতে হবে। ওয়েবসাইটে ঢোকার পর নতুন অ্যাকাউন্ট বা Registration অপশনে ক্লিক
করতে হবে। এরপর একটি ফর্ম আসবে, যেখানে আপনাকে আপনার পূর্ণ নাম, জন্ম তারিখ,
লিঙ্গ, মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর সঠিকভাবে পূরণ
করতে হবে।
তথ্য পূরণ করার পর আপনার দেওয়া মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি (OTP) কোড পাঠানো
হবে। এই কোডটি নির্দিষ্ট জায়গায় বসিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করলেই আপনার
প্রোফাইল তৈরি হয়ে যাবে। প্রোফাইল তৈরির সময় একটি পাসওয়ার্ড সেট করতে হবে,
যা দিয়ে ভবিষ্যতে বারবার লগইন করা যাবে।
রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়ে গেলে আপনি এই একই অ্যাকাউন্ট দিয়ে যেকোনো সময় লগইন
করে বিভাগ ও ডাক্তার নির্বাচন করে সরাসরি অনলাইনে টিকেট বুক করতে পারবেন। একবার
অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে বারবার নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করার দরকার পড়ে না,
শুধু মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করলেই চলবে।
পিজি হাসপাতালে অনলাইনে টিকেট কাটার নিয়ম
আপনার যদি রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়ে যায় এবার আসল কাজ শুরু, অনলাইনে টিকেট বুক
করতে হবে আপনাকে। এই প্রক্রিয়াটি একদম সহজ, তবে প্রতিটা ধাপ ঠিকভাবে অনুসরণ
করলে কোনো ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। চলুন সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে
বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাকঃ
১. ওয়েবসাইটে লগইন করুনঃ প্রথমে আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজার খুলে
পিজি হাসপাতালের অফিসিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট পোর্টালে যান। আগে থেকে তৈরি করা
মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।
২. রোগীর তথ্য যাচাই বা নতুন প্রোফাইল যুক্ত করুনঃ লগইন করার পর আপনার
প্রোফাইলে আগে থেকে রেজিস্ট্রেশন করা রোগীর তথ্য দেখতে পাবেন। ভিন্ন কোনো রোগীর
জন্য টিকেট কাটতে চাইলে নতুন রোগী যুক্ত করুন অপশনে গিয়ে নাম, বয়স ও ঠিকানা
দিয়ে দিন।
৩. বিভাগ নির্বাচন করুনঃ এবার আপনি কোন বিভাগে ডাক্তার দেখাতে চান তা বেছে নিন।
যেমন মেডিসিন, গাইনী, স্কিন, শিশু, চোখ বা অন্য কোনো বিশেষায়িত বিভাগ। এই
তালিকা থেকে সঠিক বিভাগটি নির্বাচন করা জরুরি, কারণ এর উপর ভিত্তি করেই পরবর্তী
তালিকা দেখানো হবে।
৪. ডাক্তার নির্বাচন করুনঃ বিভাগ নির্বাচনের পর সেই বিভাগে কর্মরত ডাক্তারদের
একটি তালিকা চলে আসবে। প্রতিটা ডাক্তারের নামের পাশে তাঁর চেম্বারের সময় ও
চেম্বার নম্বরও দেখা যাবে। এখান থেকে আপনার পছন্দের ডাক্তার বেছে নিন।
৫. তারিখ ও সময় নির্বাচন করুনঃ ডাক্তার নির্বাচনের পর একটি ক্যালেন্ডার আসবে,
যেখানে খালি স্লট দেখানো হবে। আপনার সুবিধামতো একটি তারিখ ও সময় বেছে নিন।
কোনো স্লট আগে থেকে পূর্ণ হয়ে গেলে সেটি নির্বাচন করা যাবে না, তাই কাছাকাছি
অন্য সময় বেছে নিতে হবে।
৬. প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুনঃ এই ধাপে রোগীর সমস্যা সংক্ষেপে লেখার একটি ঘর
থাকতে পারে, সেখানে সংক্ষেপে অসুস্থতার বিবরণ লিখে দিন। এছাড়া আগের কোনো
প্রেসক্রিপশন বা রিপোর্ট থাকলে তা আপলোড করার অপশনও পাবেন।
৭. তথ্য যাচাই করে Confirm করুনঃ সব তথ্য একবার ভালোভাবে দেখে নিন রোগীর নাম,
তারিখ, সময় ও ডাক্তারের নাম ঠিক আছে কি না। সব ঠিক থাকলে Confirm বাটনে ক্লিক
করুন।
৮. টিকেট সংগ্রহ করুনঃ বুকিং সফল হলে টিকেটটি সাথে সাথে আপনার মোবাইলে এসএমএস
আকারে অথবা পিডিএফ ফাইল হিসেবে পাঠানো হবে। সম্ভব হলে এটি প্রিন্ট করে নিয়ে
যান, তবে প্রিন্ট করতে না পারলে মোবাইলে থাকা এসএমএস বা পিডিএফ দেখালেও চলবে।
৯. হাসপাতালে গিয়ে স্লিপ সংগ্রহঃ নির্ধারিত দিনে হাসপাতালে গিয়ে OPD
কাউন্টারে আপনার অনলাইন টিকেট দেখিয়ে একটি স্লিপ সংগ্রহ করুন। এই স্লিপ নিয়েই
আপনি সরাসরি নির্দিষ্ট ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে সিরিয়াল অনুযায়ী দেখাতে
পারবেন।
আপনি যদি এভাবে ধাপে ধাপে অনুসরণ করেন তাহলে ঘরে বসেই মাত্র কয়েক মিনিটে পুরো
টিকেট বুকিং প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন, এবং হাসপাতালে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে
দাঁড়ানোর প্রয়োজনও পড়ে না।
পিজি হাসপাতালে টিকেটের মূল্য কত
পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর খরচ নিয়ে অনেকের মনেই দ্বিধা কাজ করে, বিশেষ
করে যারা প্রথমবার এখানে আসছেন। সুখবর হলো, সরকারি হাসপাতাল হওয়ায় এখানে
টিকেটের মূল্য বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় অনেক কম, যার কারণে সীমিত আয়ের
মানুষও দেশসেরা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের পরামর্শ নিতে পারেন। টিকেটের মূল্য মূলত
নির্ভর করে আপনি কোন সময়ে সকাল নাকি বিকাল এবং কোন ধরনের সেবা নিচ্ছেন তার
উপর।
চলুন একটি টেবিলের মাধ্যমে সময়ভেদে টিকেটের আনুমানিক মূল্য জেনে নেওয়া যাক, যা
থেকে আপনি সহজেই ধারণা নিতে পারবেনঃ
সেবার ধরন
সময়সূচি
আনুমানিক টিকেট মূল্য
সকালের সাধারণ আউটডোর
সকাল ৮টা – দুপুর ১২টা
৩০ টাকা
দুপুর/বিকালের আউটডোর
দুপুর ১২টার পর
২০০ টাকা
বৈকালিক বিশেষ সেবা
বিকাল ৩টা – রাত ৮টা
২০০ – ৫০০ টাকা
সিনিয়র/প্রফেসর কনসালটেশন
নির্ধারিত সময় অনুযায়ী
তুলনামূলক বেশি
এখান থেকে বোঝা যায়, সকালের শিফটে টিকেট কাটাই সবচেয়ে সাশ্রয়ী উপায়। তবে
যারা কাজে ব্যস্ততার কারণে সকালে সময় বের করতে পারেন না, তাদের জন্য বৈকালিক
সেবা একটি ভালো বিকল্প, যদিও এতে খরচ কিছুটা বেশি পড়ে।
ডাক্তারের পদমর্যাদা যেমন সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক বা প্রফেসর অনুযায়ী
ফি-তে সামান্য তারতম্য হতে পারে। তাই সঠিক ও বর্তমান মূল্য জানতে চাইলে অনলাইন
বুকিং পোর্টালে বুকিং সম্পন্ন করার আগেই ফি দেখানো হবে, অথবা হাসপাতালের
হেল্পলাইনে সরাসরি যোগাযোগ করেও নিশ্চিত হয়ে নিতে পারেন।
অনলাইনে টিকিট বুকিং করার সময় যে বিষয় খেয়াল রাখবেন
অনলাইনে টিকেট বুকিং করার প্রক্রিয়া সহজ হলেও কিছু বিষয়ে অসতর্ক থাকলে বুকিং
ব্যর্থ হতে পারে বা পরে ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে। তাই টিকেট বুক করার আগে ও
করার সময় যেসব বিষয়গুলো অবশ্যই মাথায় রাখা উচিতঃ
তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুনঃ রোগীর নাম, বয়স, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর দেওয়ার
সময় বানান বা সংখ্যায় কোনো ভুল না হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। ভুল তথ্য
দিলে হাসপাতালে গিয়ে টিকেট মেলাতে সমস্যা হতে পারে।
মোবাইল নম্বর সচল রাখুনঃ বুকিংয়ের সময় যে মোবাইল নম্বর ব্যবহার করবেন,
সেটি অবশ্যই সচল ও আপনার হাতের কাছে থাকা উচিত। কারণ ওটিপি (OTP)
ভেরিফিকেশন ও টিকেট কনফার্মেশন এসএমএস এই নম্বরেই আসবে।
সঠিক বিভাগ ও ডাক্তার নির্বাচন করুনঃ তাড়াহুড়ো করে ভুল বিভাগ বা ভুল
ডাক্তার নির্বাচন করলে পরে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে হতে পারে। তাই আপনার
সমস্যা অনুযায়ী সঠিক বিভাগ ও অভিজ্ঞ ডাক্তার বেছে নেওয়া জরুরি।
স্লট দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায়ঃ জনপ্রিয় ডাক্তারদের স্লট খুব দ্রুত পূর্ণ
হয়ে যায়, তাই সিরিয়াল পেতে চাইলে যেদিন স্লট খোলা হয় সেদিন সকাল সকাল
চেষ্টা করা ভালো। দেরি করলে পছন্দের সময় বা ডাক্তার নাও পেতে পারেন।
পেমেন্ট সম্পন্ন করার আগে যাচাই করুনঃ পেমেন্ট করার আগে তারিখ, সময়,
ডাক্তারের নাম ও রোগীর তথ্য আরেকবার ভালোভাবে দেখে নিন। পেমেন্ট সম্পন্ন
হয়ে গেলে অনেক সময় পরিবর্তন বা বাতিল করা কঠিন হয়ে যায়।
টিকেট সংরক্ষণ করুনঃ বুকিং সফল হওয়ার পর পাওয়া এসএমএস বা পিডিএফ টিকেটটি
মোবাইলে সংরক্ষণ করে রাখুন এবং সম্ভব হলে প্রিন্ট করে নিন। হাসপাতালে গিয়ে
এটি দেখাতে হবে, তাই হারিয়ে ফেলবেন না।
নির্ধারিত সময়ের আগে হাসপাতালে পৌঁছানঃ অনলাইনে টিকেট বুক করা থাকলেও
নির্ধারিত সময়ের কিছুটা আগে হাসপাতালে উপস্থিত হওয়া ভালো, যাতে স্লিপ
সংগ্রহ ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বাড়তি সময় পাওয়া যায়।
সমস্যা হলে হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুনঃ বুকিং করতে গিয়ে কোনো টেকনিক্যাল
সমস্যা হলে ঘাবড়ে না গিয়ে হাসপাতালের হেল্পলাইন বা ইনফরমেশন ডেস্কে
যোগাযোগ করুন, তারা প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।
এই বিষয়গুলো মাথায় রেখে বুকিং করলে অনলাইনে টিকেট কাটার পুরো প্রক্রিয়া সহজ
আর ঝামেলামুক্ত ও নির্ভুল হবে।
পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর নিয়ম
পিজি হাসপাতালে সরাসরি গিয়ে ডাক্তার দেখানোর একটা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে,
যা মেনে চললে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব। চলুন ধাপে
ধাপে পুরো নিয়মটি বিস্তারিতভাবে জেনে নেই।
১. হাসপাতালে উপস্থিত হওয়াঃ প্রথমেই আপনাকে সরাসরি পিজি হাসপাতালে উপস্থিত হতে
হবে। সকাল ৭.৩০টার মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছানোই সবচেয়ে ভালো, কারণ তখন থেকেই
আউটডোরে টোকেন দেওয়া শুরু হয় এবং তাড়াতাড়ি গেলে সহজে সিরিয়াল পাওয়া যায়।
২. টোকেন সংগ্রহ করাঃ হাসপাতালে পৌঁছানোর পর আপনাকে রেজিস্ট্রেশন কাউন্টার থেকে
টোকেন সংগ্রহ করতে হবে। পিজি হাসপাতালে বহিঃবিভাগে ডাক্তার দেখানোর জন্য দুটি
ভবন রয়েছে বহিঃবিভাগ-১ এবং বহিঃবিভাগ-২। আপনি যে ডাক্তার দেখাবেন, সেই
সংশ্লিষ্ট ভবনের নিচতলা থেকেই টোকেন সংগ্রহ করতে হবে।
৩. ফি প্রদান করাঃ টোকেন নেওয়ার সময় আপনাকে বিভাগ অনুযায়ী ফর্ম পূরণ করতে
হবে এবং একটি নির্দিষ্ট ফি প্রদান করতে হবে, যা সাধারণত সকালের সময়ে তুলনামূলক
কম থাকে। ফি প্রদানের রসিদটি যত্ন সহকারে রাখুন, কারণ এটি পরবর্তীতে প্রমাণ
হিসেবে কাজে লাগতে পারে।
৪. নির্দিষ্ট বিভাগে টোকেন নেওয়াঃ পিজি হাসপাতালে রোগের ধরন অনুযায়ী আলাদা
আলাদা বিভাগ রয়েছে যেমনঃ মেডিসিন, গাইনী, চর্মরোগ, নাক-কান-গলা, চক্ষু,
অর্থোপেডিকস, নিউরোমেডিসিন ইত্যাদি। টোকেন নেওয়ার সময় আপনাকে জানিয়ে দিতে
হবে আপনার সমস্যা অনুযায়ী কোন বিভাগে দেখাতে চান, আর সেই অনুযায়ী আপনাকে সঠিক
বিভাগের টোকেন দেওয়া হবে।
৫. রুম নম্বর অনুযায়ী ডাক্তারের কক্ষে যাওয়াঃ টোকেন নেওয়ার পর টিকিটের গায়ে
আপনার বিভাগের নাম ও রুম নম্বর উল্লেখ করা থাকবে। উদাহরণস্বরূপ, নিউরোলজি
বিভাগের জন্য একটি নির্দিষ্ট রুম, কার্ডিওলজির জন্য অন্য একটি রুম বরাদ্দ থাকতে
পারে। তবে রুম নম্বর সময়ে সময়ে পরিবর্তন হতে পারে, তাই টোকেনে বা ভবনের নোটিশ
বোর্ডে দেওয়া নির্দেশনা দেখে নেওয়াই ভালো।
৬. সিরিয়াল অনুযায়ী অপেক্ষা করাঃ নির্দিষ্ট রুমের সামনে গিয়ে আপনাকে
সিরিয়াল অনুযায়ী অপেক্ষা করতে হবে। রুমের বাইরে সাধারণত একটি ডিসপ্লে বোর্ড
বা সহকারী কর্মী থাকেন, যিনি সিরিয়াল নম্বর ডেকে ডেকে ভেতরে পাঠান।
৭. ডাক্তার দেখানোঃ আপনার সিরিয়াল এলে আপনি ভেতরে প্রবেশ করে ডাক্তারকে আপনার
সমস্যা, উপসর্গ ও প্রয়োজনে আগের কোনো রিপোর্ট বা প্রেসক্রিপশন দেখাবেন।
ডাক্তার পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, ওষুধ বা টেস্টের ব্যবস্থাপত্র দিয়ে
দেবেন।
৮. প্রয়োজনে পরবর্তী পদক্ষেপঃ ডাক্তার যদি মনে করেন আপনার আরও পরীক্ষা বা
ভর্তি হওয়া প্রয়োজন, তাহলে তিনি সংশ্লিষ্ট স্লিপ দিয়ে দেবেন, যা নিয়ে আপনি
টেস্ট বুকিং কাউন্টার বা ভর্তি কাউন্টারে যেতে পারবেন।
আপনি এই পুরো প্রক্রিয়াটি মেনে চললে পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানো তুলনামূলক
সহজ ও দ্রুত হবে, বিশেষ করে সকাল সকাল উপস্থিত হলে ভিড় কম থাকায় সময়ও কম
লাগবে।
পিজি হাসপাতালে বিকেলে ডাক্তার দেখানোর নিয়ম
যারা কাজে ব্যস্ততা বা অন্য কোনো কারণে সকালবেলা হাসপাতালে যেতে পারেন না,
তাদের জন্য পিজি হাসপাতালে বিকেলেও চিকিৎসা সেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এটি
সাধারণত বৈকালিক সেবা নামে পরিচিত, যেখানে সিনিয়র ও অভিজ্ঞ ডাক্তারদের কাছ
থেকে সরাসরি পরামর্শ নেওয়া যায়। চলুন এই সেবার নিয়মাবলী জেনে নেই।
কখন উপস্থিত হবেনঃ বিকেলের সেবা নিতে চাইলে দুপুর ১টার আগেই হাসপাতালে উপস্থিত
থাকতে হবে, কারণ বিকেলের রোগী দেখার জন্য টিকিট বিতরণের একটি নির্দিষ্ট সময়
থাকে। দেরি করে গেলে সেদিনের জন্য টিকিট নাও পাওয়া যেতে পারে।
সময়সূচিঃ বৈকালিক সেবায় সাধারণত বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত রোগী দেখা
হয়, তবে ডাক্তারভেদে এই সময়ের কিছুটা তারতম্য হতে পারে। শুক্রবার ও সরকারি
ছুটির দিনে এই সেবা বন্ধ থাকে।
টিকিট সংগ্রহ ও ফিঃ বিকেলে ডাক্তার দেখাতে হলে আলাদা কাউন্টার থেকে টিকিট
সংগ্রহ করতে হয়। বৈকালিক সেবার ফি সকালের তুলনায় বেশি, সাধারণত ২০০ থেকে ৫০০
টাকা পর্যন্ত হতে পারে, যা নির্ভর করে চিকিৎসক ও বিভাগের উপর। সিনিয়র বা
প্রফেসর পর্যায়ের ডাক্তার দেখাতে চাইলে ফি কিছুটা বেশি পড়তে পারে।
পেমেন্ট পদ্ধতিঃ টিকিটের ফি সাধারণত নগদে কাউন্টারে পরিশোধ করতে হয়। কিছু
ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেও পেমেন্ট সম্পন্ন করার সুযোগ থাকে, তবে
এটি নিশ্চিত হতে সরাসরি কাউন্টারে জিজ্ঞাসা করে নেওয়া ভালো।
কোন বিভাগে সুবিধা বেশিঃ বিকেলের শিফটে সাধারণত মেডিসিন, গাইনী, চর্মরোগ,
শিশুরোগসহ কয়েকটি জনপ্রিয় বিভাগে সেবা পাওয়া যায়। তবে সব বিভাগ প্রতিদিন
বিকেলে খোলা নাও থাকতে পারে, তাই নির্দিষ্ট বিভাগে বিকেলে সেবা আছে কি না তা
আগে থেকে জেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
সুবিধা কেন নেবেনঃ বিকেলের সেবার মূল সুবিধা হলো সকালের তুলনায় ভিড় কম থাকে,
ফলে অপেক্ষার সময়ও কম লাগে এবং রোগী কিছুটা স্বস্তির সঙ্গে ডাক্তারের সাথে কথা
বলতে পারেন।
পিজি হাসপাতালে টেস্ট করানোর নিয়ম
ডাক্তার দেখানোর পর অনেক সময় বিভিন্ন ধরনের মেডিকেল টেস্ট করানোর প্রয়োজন
হয়। পিজি হাসপাতালে সাশ্রয়ী মূল্যে প্রায় সব ধরনের টেস্টের সুবিধা রয়েছে,
যার কারণে অনেকেই এখানে টেস্ট করাতে আগ্রহী হন। টেস্ট করানোর সম্পূর্ণ
প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলোঃ
১. ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন সংগ্রহঃ প্রথমে আপনাকে সংশ্লিষ্ট বিভাগের ডাক্তার
দেখাতে হবে। ডাক্তার রোগ পরীক্ষা করে প্রয়োজন মনে করলে টেস্টের জন্য
প্রেসক্রিপশন লিখে দেবেন, যেখানে কোন কোন টেস্ট করাতে হবে তা উল্লেখ থাকবে।
২. টেস্টের তালিকা যাচাইঃ প্রেসক্রিপশনে লেখা টেস্টগুলো ভালোভাবে দেখে নিন।
কোনো টেস্টের নাম বুঝতে সমস্যা হলে ল্যাব কাউন্টারের কর্মীদের সাহায্য নিতে
পারেন।
৩. নির্ধারিত কাউন্টারে বুকিংঃ এরপর প্রেসক্রিপশন নিয়ে নির্দিষ্ট ল্যাব বা
টেস্ট বুকিং কাউন্টারে যেতে হবে, যেখানে আপনার টেস্টগুলো তালিকাভুক্ত করা হবে।
৪. ফি পরিশোধঃ টেস্ট বুকিংয়ের সময় নির্ধারিত ফি নগদে পরিশোধ করতে হবে। ফি
পরিশোধের রসিদটি সংগ্রহ করে যত্ন সহকারে রাখুন, কারণ রিপোর্ট সংগ্রহের সময় এটি
প্রয়োজন হতে পারে।
৫. নমুনা প্রদানঃ রক্ত, প্রস্রাব বা অন্য কোনো নমুনাভিত্তিক টেস্ট হলে
নির্ধারিত সময়ে নমুনা দিতে হবে। এক্স-রে, আল্ট্রাসনোগ্রাম বা সিটি স্ক্যানের
মতো টেস্টের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে উপস্থিত হতে হবে।
৬. রিপোর্ট সংগ্রহঃ নমুনা দেওয়ার সময়ই সাধারণত জানিয়ে দেওয়া হয় রিপোর্ট
কবে ও কোথা থেকে সংগ্রহ করতে হবে। নির্ধারিত দিনে রসিদ দেখিয়ে রিপোর্ট সংগ্রহ
করে নিতে হবে।
টেস্টের আনুমানিক খরচ উদাহরণস্বরূপঃ
টেস্টের ধরন
আনুমানিক খরচ
সাধারণ রক্ত পরীক্ষা
কম খরচে সম্পন্ন হয়
প্রস্রাব পরীক্ষা
কম খরচে সম্পন্ন হয়
এক্স-রে
মাঝারি খরচ
আল্ট্রাসনোগ্রাম
মাঝারি খরচ
সিটি স্ক্যান / এমআরআই
তুলনামূলক বেশি খরচ
সরকারি হাসপাতাল হওয়ায় পিজি হাসপাতালে টেস্টের খরচ বেসরকারি হাসপাতালের
তুলনায় অনেক কম, তবে বিশেষায়িত টেস্টে তুলনামূলক বেশি খরচ হতে পারে। সঠিক ও
বর্তমান মূল্য জানতে ল্যাব কাউন্টারে সরাসরি জিজ্ঞাসা করে নেওয়াই সবচেয়ে
ভালো।
পিজি হাসপাতালে রোগী ভর্তির নিয়ম
ডাক্তার দেখানোর পর যদি ডাক্তার মনে করেন রোগীর অবস্থা গুরুতর বা আরও
পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন, তাহলে তিনি রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিতে
পারেন। পিজি হাসপাতালে রোগী ভর্তির একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে, যা মেনে
চললে ভর্তির কাজটি দ্রুত ও সহজে সম্পন্ন করা যায়।
প্রথমে ডাক্তার রোগীকে পরীক্ষা করে যদি ভর্তির প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে তিনি
একটি ভর্তি স্লিপ বা প্রেসক্রিপশন লিখে দেবেন। এই স্লিপে সাধারণত রোগীর রোগ
নির্ণয়, ভর্তির কারণ ও প্রয়োজনীয় বিভাগের নাম উল্লেখ থাকে। এই স্লিপটি নিয়ে
রোগীর স্বজনদের ভর্তি কাউন্টারে যেতে হবে।
এরপর ভর্তি কাউন্টারে গিয়ে একটি নির্ধারিত ফর্ম পূরণ করতে হয়, যেখানে রোগীর
নাম, বয়স, ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের জন্য
একজন স্বজনের নাম-নম্বর দিতে হয়। ফর্ম পূরণের সময় ডাক্তারের দেওয়া ভর্তি
স্লিপটিও জমা দিতে হবে।
ফর্ম জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত ভর্তি ফি পরিশোধ করতে হয়, যা সাধারণ ওয়ার্ড,
কেবিন বা বিশেষায়িত ইউনিট অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। ফি পরিশোধের পর
রোগীকে কোন ওয়ার্ড বা বেডে রাখা হবে তা জানিয়ে দেওয়া হয়, এবং একটি ভর্তি
রসিদ বা কার্ড দেওয়া হয়, যা চিকিৎসাকালীন সময়ে সংরক্ষণ করে রাখতে হবে।
বেড বরাদ্দ হওয়ার পর রোগীকে নির্দিষ্ট ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে
দায়িত্বরত নার্স ও চিকিৎসকরা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা প্রদান করেন। ভর্তি
থাকাকালীন প্রয়োজনীয় ওষুধ, টেস্ট ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সব সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট
ডাক্তার ও মেডিকেল টিম নিয়ে থাকেন।
রোগীর স্বজনদের জন্য কিছু বিষয় মনে রাখা জরুরি, ভর্তি থাকাকালীন হাসপাতালের
নির্ধারিত ভিজিটিং সময় মেনে চলা উচিত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও রিপোর্ট সবসময়
হাতের কাছে রাখা ভালো, এবং কোনো সমস্যা হলে সরাসরি দায়িত্বরত নার্স বা ওয়ার্ড
ইনচার্জের সাথে যোগাযোগ করা উচিত।
চিকিৎসা শেষে ডাক্তার যখন রোগীকে ছাড়পত্র বা ডিসচার্জ দেবেন, তখন একটি
ডিসচার্জ সামারি দেওয়া হয়, যেখানে রোগীর চিকিৎসার বিস্তারিত বিবরণ ও
পরবর্তীতে করণীয় নির্দেশনা লেখা থাকে। এই কাগজটি ভবিষ্যতে যেকোনো চিকিৎসার
প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকে, তাই যত্ন সহকারে সংরক্ষণ করে রাখবেন।
প্রশ্নঃ পিজি হাসপাতালে অনলাইনে টিকেট বুকিং করতে কোনো ফি লাগে কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ, অনলাইনে টিকেট বুকিং করলেও নির্ধারিত টিকেট ফি পরিশোধ করতে
হয়। ফি'র পরিমাণ নির্ভর করে আপনি সকাল নাকি বিকেলের শিফটে ডাক্তার দেখাচ্ছেন
তার উপর।
প্রশ্নঃ অনলাইনে টিকেট বুক করলে কি সরাসরি ডাক্তার দেখানো যায়?
উত্তরঃ হ্যাঁ, অনলাইন টিকেটের এসএমএস বা প্রিন্ট কপি দেখিয়ে হাসপাতালের
নির্দিষ্ট কাউন্টার থেকে স্লিপ সংগ্রহ করে সরাসরি ডাক্তার দেখানো যায়।
প্রশ্নঃ এক মোবাইল নম্বর দিয়ে একাধিক রোগীর জন্য টিকেট বুক করা যায় কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ, একই মোবাইল নম্বর দিয়ে একাধিক রোগীর জন্য টিকেট বুক করা
সম্ভব, তবে প্রতিটি রোগীর তথ্য আলাদাভাবে দিতে হবে।
প্রশ্নঃ পিজি হাসপাতালে শুক্রবার ডাক্তার দেখানো যায় কি?
উত্তরঃ না, শুক্রবার সাধারণত আউটডোর সেবা বন্ধ থাকে। তবে জরুরি বিভাগ
সপ্তাহের সাত দিনই ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে।
প্রশ্নঃ পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে সবচেয়ে ভালো সময় কোনটি?
উত্তরঃ সকাল ৭.৩০টার মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছানো সবচেয়ে ভালো, কারণ এই সময়ে
ভিড় কম থাকে এবং সহজে টোকেন পেয়ে দ্রুত ডাক্তার দেখানো যায়।
এতক্ষণ আমরা আলোচনা করেছি পিজি হাসপাতালে ডাক্তার দেখানোর সম্পূর্ণ নিয়ম-কানুন
নিয়ে কীভাবে হাসপাতালে গিয়ে সরাসরি টোকেন সংগ্রহ করবেন, অনলাইনে কীভাবে সহজে
টিকেট বুক করবেন, টিকেটের মূল্য কত, বিকেলে ডাক্তার দেখানোর নিয়ম কী, টেস্ট
করানোর প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনে রোগী ভর্তির নিয়ম কেমন। আশা করছি আপনি
এতক্ষণে পুরো বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পেরেছেন।
পিজি হাসপাতাল বাংলাদেশের অন্যতম সেরা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হওয়ায় প্রতিদিন
হাজারো রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাই সঠিক নিয়ম জেনে গেলে অযথা ভোগান্তি
এড়িয়ে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে চিকিৎসা সেবা নেওয়া সম্ভব। বিশেষ করে অনলাইনে
টিকেট বুকিং করার সুবিধাটি এখন অনেক সহজ করে দিয়েছে পুরো প্রক্রিয়াকে, তাই এই
সুযোগটি কাজে লাগানোই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। আপনার কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে
নিচে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। সুস্থ থাকুন, ভালো থাকুন ধন্যবাদ।
টিপস পয়েন্ট আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url