আপনি কি বারোমাসি ফুল গাছ ও সারাবছর ফুটে এমন ফুলের নাম জানতে চাচ্ছেন? আমাদের
চারপাশে অনেক ধরনের ফুল গাছ আছে, যার মধ্যে কিছু ফুল শুধু নির্দিষ্ট ঋতুতেই ফোটে।
কিন্তু কিছু ফুল গাছ আছে যেগুলো সারাবছর ধরেই ফুল দিতে থাকে, এদের বারোমাসি ফুল
গাছ বলা হয়।
জবা, গোলাপ, বেলি, রঙ্গন, নয়নতারার মতো ফুল গাছগুলো বাড়ির বাগান বা বারান্দায়
লাগালে সবসময় সৌন্দর্য বজায় থাকে। চলুন আজকে আমরা জানব এমন কিছু বারোমাসি ফুল
গাছের নাম, পরিচর্যা ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিস্তারিতভাবে।
সারা বছর ফুটে এমন ফুলের নাম
আপনি যদি সারা বছর ফুটে এমন ফুলের নাম জানতে চান তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক।
আমাদের দেশের আবহাওয়া এমন যে কিছু ফুল গাছ প্রায় সব মাসেই ফুল দিতে থাকে,
শীত বা গরম কোনো কিছুতেই তেমন প্রভাব পড়ে না। এই ধরনের ফুল গাছগুলো একবার
লাগালে বছরের পর বছর বাগান বা বারান্দা রঙিন হয়ে থাকে। দেশি ও বিদেশি
মিলিয়ে এমন বেশ কিছু ফুল আছে যা প্রায় ১২ মাসই ফোটে। এমন কিছু জনপ্রিয়
ফুলের নাম ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা জানা যাকঃ
১. জবা ফুলঃ জবা এমন একটি ফুল যা প্রায় ১২ মাসই ফোটে, বিশেষ করে গ্রীষ্ম ও
বর্ষায় ফুলের পরিমাণ বেশি থাকে। লাল, হলুদ, গোলাপি রঙের জবা সবচেয়ে বেশি
দেখা যায়। রোদযুক্ত জায়গায় এই গাছ ভালো ফুল দেয় এবং শহরের বারান্দা থেকে
গ্রামের উঠান সব জায়গাতেই এটি সহজে টিকে থাকে।
২. গোলাপ ফুলঃ গোলাপ গাছও প্রায় সারা বছর ফুল দেয়, তবে শীতকালে ফুলের
সংখ্যা কিছুটা বেড়ে যায়। লাল, সাদা, হলুদ, গোলাপি নানা রঙের গোলাপ পাওয়া
যায়। খোলা রোদ ও ভালো মাটিতে গোলাপ গাছ সবচেয়ে ভালো ফুল দেয়।
৩. রঙ্গন ফুলঃ রঙ্গন ফুল গাছ থেকে প্রায় সারা বছরই ছোট ছোট গুচ্ছ ফুল পাওয়া
যায়। লাল ও কমলা রঙের রঙ্গন বেশি জনপ্রিয়। রাস্তার পাশে, বাগানে বা টবে সব
জায়গাতেই এই গাছ ভালোভাবে বেড়ে ওঠে এবং তেমন যত্নের প্রয়োজন হয় না।
৪. নয়নতারা ফুলঃ নয়নতারা বা সদাবাহার ফুল নামেই বোঝা যায় এটি প্রায় সব
ঋতুতেই ফোটে। সাদা ও গোলাপি রঙের এই ফুল রোদযুক্ত জায়গায় দ্রুত বেড়ে ওঠে।
ছোট টব বা বাগানের কোণায় লাগালেও এটি নিয়মিত ফুল দিতে থাকে।
৫. করবী ফুলঃ করবী ফুল সাদা, গোলাপি ও লাল রঙে ফোটে এবং এটিও প্রায় সারা
বছরই বাগানে দেখা যায়। এই গাছ তুলনামূলক বড় হয় এবং একটু জায়গা পেলে খুব
সুন্দরভাবে ফুলে ভরে ওঠে।
৬. কাঞ্চন ফুলঃ কাঞ্চন ফুল গাছ সহজে বেড়ে ওঠে এবং বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে
বেশ কার্যকর। গোলাপি ও বেগুনি রঙের এই ফুল প্রায় সারা বছরই ফুটতে দেখা যায়।
৭. হাজার পুটিয়া ফুলঃ হলুদ রঙের এই ছোট ছোট ফুল প্রায় সারা বছরই ফোটে।
গাছটি ঝোপালো ধরনের হওয়ায় বাগানের বেড়া বা কোণায় লাগালে ভালো মানায়।
৮. সন্ধ্যামণি ফুলঃ সন্ধ্যামণি বা সন্ধ্যা মালতি ফুল সন্ধ্যাবেলায় ফোটে এবং
রঙিন হওয়ায় বাগানে আলাদা সৌন্দর্য যোগ করে। এই ফুলও প্রায় বারো মাসই
পাওয়া যায়।
৯. বোগেনভিলিয়া বা বাগানবিলাসঃ বাগানবিলাস একটি লতা জাতীয় গাছ যা
কীটপতঙ্গের বিরুদ্ধে বেশ প্রতিরোধী এবং কম রক্ষণাবেক্ষণেই ভালো ফুল দেয়।
গোলাপি, বেগুনি বা লাল রঙের গুচ্ছ ফুল দিয়ে এটি সারা বছর ধরে বাগানে রঙের
ছোঁয়া যোগ করে।
১০. অরেঞ্জ ট্রাম্পেটঃ উজ্জ্বল কমলা রঙের ট্রাম্পেট আকৃতির এই ফুল সারা বছর
ফোটে এবং বাগানে এক ধরনের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সৌন্দর্য নিয়ে আসে।
১১. পিটুনিয়া ফুলঃ পিটুনিয়া বিভিন্ন রঙে সারা বছর ফোটে এবং এটি ঝুলন্ত
ঝুড়িতে খুব ভালো মানায়, ফলে বারান্দা সাজাতে অনেকেই এই ফুল বেছে নেন।
১২. কসমস ফুলঃ কসমস ফুল খুব সহজেই বেড়ে ওঠে এবং সারা বছর ধরে বাগান রঙিন করে
রাখে। যত্ন কম লাগে বলে নতুন বাগানপ্রেমীদের জন্যও এটি একটি ভালো পছন্দ।
এই ফুলগুলোর একটি বড় সুবিধা হলো, নির্দিষ্ট কোনো ঋতুর জন্য অপেক্ষা না করেই
সারা বছর বাগান বা বারান্দা ফুলে ফুলে ভরে রাখা যায়। এগুলোর মধ্যে কিছু ফুল
দেশি জাতের, আবার কিছু বিদেশি জাতের তবে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় প্রায়
সবগুলোই ভালোভাবে বেড়ে ওঠে।
বারোমাসি ফুল গাছের নাম
ফুল মানেই সুন্দর আর যদি হয় বারোমাসি ফুল তাহলো তো কথায় নেই। বারোমাসি ফুল
গাছ বলতে বোঝানো হয় সেই সব ফুল গাছকে, যেগুলো নির্দিষ্ট কোনো ঋতুর অপেক্ষা
না করেই প্রায় প্রতি মাসেই কমবেশি ফুল দিতে থাকে। বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে,
শহরের বারান্দায় বা বাগানে এমন অনেক দেশি ও বিদেশি ফুল গাছ দেখা যায়,
যেগুলো সারা বছর ধরেই থাকে। বারোমাসি ফুল গাছের একটি তালিকা দেওয়া হলো,
তারপর জানানো হবে কোন মাসে কোন ফুল বেশি ফোটে।
- জবা
- গোলাপ
- রঙ্গন
- নয়নতারা
- করবী
- কাঞ্চন
- বকুল
- চাঁপা
- কুন্দ
- গন্ধরাজ
- কামিনী
- হাজার পুটিয়া
- সন্ধ্যামালতি
- জুঁই
- চামেলী
- মধুমালতী লতা
- বাগানবিলাস
- অলকানন্দা
- জয়তী
- টগর
- পিটুনিয়া
- কসমস
- অরেঞ্জ ট্রাম্পেট
এই ফুল গাছগুলোর বেশিরভাগই গ্রামের বাড়ির উঠান, পুকুরপাড় বা রাস্তার ধারে
সহজেই দেখা যায়, কারণ এদের বিশেষ পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না এবং বাংলাদেশের
আবহাওয়ায় সহজেই টিকে থাকে।যদিও উপরের ফুলগুলো সারা বছরই কমবেশি ফোটে, তবে
ঋতুভেদে কিছু ফুলের প্রাচুর্য বেড়ে যায়। এই বিষয়টা জানা থাকলে বাগান
পরিকল্পনা করা সহজ হয়।
গ্রীষ্মকালে (বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ): জবা, করবী, বেলি, মধুমালতী ও কৃষ্ণচূড়ার মতো
ফুল এই সময় সবচেয়ে বেশি ফোটে। গরমের তীব্রতা সহ্য করেও এই ফুলগুলো
প্রাণবন্ত থাকে, তাই গ্রীষ্মকালীন বাগানের জন্য এগুলো আদর্শ পছন্দ।
বর্ষাকালে (আষাঢ়-শ্রাবণ): এই সময় রঙ্গন, বকুল, শাপলা, দোপাটি ও জুঁইয়ের
মতো ফুল বেশি দেখা যায়। বৃষ্টির আর্দ্র আবহাওয়ায় এই ফুলগুলো দ্রুত বেড়ে
ওঠে এবং প্রচুর ফুল দেয়।
শরৎকালে (ভাদ্র-আশ্বিন): শিউলি ও কাশফুল এই ঋতুর প্রতীক হলেও, এর পাশাপাশি
জবা, রঙ্গন ও নয়নতারার মতো বারোমাসি ফুলও এই সময় নিয়মিত ফুটতে থাকে।
হেমন্তকালে (কার্তিক-অগ্রহায়ণ): এই সময়টা অনেকটা রূপান্তরের ঋতু, যেখানে
গাঁদা ও ডালিয়ার মতো শীতকালীন ফুল ফুটতে শুরু করে, সঙ্গে বারোমাসি
জবা-গোলাপও ফুল দিতে থাকে।
শীতকালে (পৌষ-মাঘ): গাঁদা, ডালিয়া ও অ্যাস্টার ফুল এই সময় সবচেয়ে বেশি
ফোটে। এর পাশাপাশি গোলাপ গাছও শীতকালে সবচেয়ে বেশি ফুল দেয়, ফলে অনেকেই এই
সময়টাকে গোলাপ চাষের সেরা সময় মনে করেন।
বসন্তকালে (ফাল্গুন-চৈত্র): পলাশ, শিমুল ও কাঞ্চনের মতো ফুল বসন্তে বিশেষভাবে
চোখে পড়ে। বারোমাসি ফুলগুলোর মধ্যে জবা ও করবীও এই সময় বেশ সতেজভাবে ফোটে।
এভাবে ঋতু বুঝে যদি বারোমাসি ফুল গাছের পাশাপাশি কিছু ঋতুভিত্তিক ফুলও লাগানো
যায়, তাহলে সারা বছরই বাগান বা বারান্দা রঙিন ও সতেজ থাকবে।
সব ঋতুতে কোন কোন ফুল ফোটে
আমাদের বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ, আর প্রতিটি ঋতুর সাথেই জড়িয়ে আছে আলাদা
আলাদা ফুলের গল্প। বারোমাসি ফুলের পাশাপাশি এমন অনেক ফুল আছে, যেগুলো
নির্দিষ্ট ঋতুতেই তাদের আসল সৌন্দর্য মেলে ধরে। প্রতিটি ঋতুতে ঠিক কোন
ফুলগুলো বেশি ফোটে, তা জানা থাকলে বাগান বা ছাদকে ঋতু অনুযায়ী সাজানো অনেক
সহজ হয়ে যায়।
১. গ্রীষ্মকাল মানেই কৃষ্ণচূড়ার আগুনরাঙা সৌন্দর্য, যা গ্রামের রাস্তা ও
স্কুলপথকে অন্যরকম রূপ দেয়। এছাড়া হিমচাঁপা, জারুল, জিনিয়া ও মধুমঞ্জুরীর
মতো ফুলও এই সময় বাগানে দেখা যায়। রোদের তীব্রতার মধ্যেও এই ফুলগুলো
প্রাণবন্ত থেকে বাগানকে রঙিন করে রাখে।
২. বর্ষা এলেই পুকুর, বিল আর হাওরে ফুটে ওঠে বাংলাদেশের জাতীয় ফুল শাপলা। এর
পাশাপাশি কদম, বকুল, লিলি, সন্ধ্যামালতি ও মালতির মতো ফুলও এই ঋতুতে বেশি
চোখে পড়ে। বৃষ্টির আর্দ্র পরিবেশ এই ফুলগুলোর বেড়ে ওঠার জন্য বেশ উপযোগী।
৩. শরৎ মানেই সাদা কাশফুলের দোলা আর শিউলির মিষ্টি গন্ধে ভোর হওয়া। এই ঋতুতে
পদ্ম, শেফালি, ছাতিম ও হিমঝুরির মতো ফুলও ফুটতে দেখা যায়। শরতের স্নিগ্ধ
আবহাওয়ায় এই ফুলগুলো এক অন্যরকম প্রশান্তি এনে দেয়।
৪. হেমন্ত অনেকটা ঋতু পরিবর্তনের সময়, যখন গন্ধরাজ, মল্লিকা ও রাজ অশোকের
মতো ফুল ফুটতে শুরু করে। এর পাশাপাশি বকফুল ও দেব কাঞ্চনও এই সময় বাগানে
দেখা যায়, যা শীতের আগমনের ইঙ্গিত দেয়।
৫. শীতকাল বাংলার ফুলবাগানের জন্য সবচেয়ে বর্ণিল সময়। গাঁদা এই ঋতুর
সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুল, যা উৎসব-পূজায়ও ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া
ডালিয়া ও অ্যাস্টারও শীতকালে বাগানের সৌন্দর্য বাড়িয়ে তোলে।
৬. বসন্তের প্রতীক হলো পলাশ, যার আগুনরাঙা রঙ ফাল্গুনের উৎসবে আলাদা মাত্রা
যোগ করে। এই সময় শিমুল ফুলও গাছে গাছে লাল হয়ে ফোটে, যা প্রকৃতিকে এক নতুন
রূপ দেয়।
এভাবে ঋতু অনুযায়ী ফুলের পরিবর্তন বাংলার প্রকৃতিকে সারা বছর ধরে নতুন নতুন
রঙে সাজিয়ে রাখে, আর বারোমাসি ফুলের সাথে এই ঋতুভিত্তিক ফুলগুলো মিলিয়ে
লাগালে বাগান কখনোই একঘেয়ে মনে হয় না।
বারোমাসি সুগন্ধি ফুল গাছ
চলুন এবার বারোমাসি সুগন্ধি ফুল গাছগুলো নাম সর্ম্পকে জেনে নেওয়া যাক।
বারোমাসি সুগন্ধি ফুল গাছগুলো শুধু চোখের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বাড়ির
চারপাশে সুবাসও ছড়িয়ে রাখে। এই ফুলগুলোর মধ্যে কিছু ফুল দিনে ফোটে, আবার
কিছু ফুল রাতের অন্ধকারে ফুটে সবচেয়ে বেশি গন্ধ ছড়ায়। জনপ্রিয় কিছু
বারোমাসি সুগন্ধি ফুলের নাম, রং, গন্ধের ধরন ও ফোটার সময় নিয়ে বিস্তারিত
তালিকা দেওয়া হলোঃ
| ফুলের নাম |
রং |
গন্ধের ধরন |
কখন ফোটে |
| রজনীগন্ধা |
সাদা |
মিষ্টি ও তীব্র সুবাস |
রাতে ফোটে, সন্ধ্যার পর গন্ধ বেশি ছড়ায় |
| রাতের রাণী |
হালকা হলুদাভ সাদা |
তীব্র মিষ্টি সুবাস |
রাতে ফোটে, রাতেই গন্ধ সবচেয়ে বেশি |
| জুঁই |
সাদা |
হালকা মিষ্টি সুবাস |
সন্ধ্যা থেকে সারা রাত গন্ধ ছড়ায় |
| বেলি বা মল্লিকা |
সাদা |
মিষ্টি ও স্নিগ্ধ সুবাস |
সকালে ফোটে, সারাদিন গন্ধ থাকে |
| চামেলী |
সাদা |
হালকা মিষ্টি ঘ্রাণ |
সন্ধ্যায় ফোটে, রাতে গন্ধ বাড়ে |
| কামিনী |
সাদা |
তীব্র মিষ্টি সুবাস |
সন্ধ্যায় ফোটে, বৃষ্টির পর গন্ধ বেশি ছড়ায় |
| গন্ধরাজ |
সাদা |
গভীর মিষ্টি সুবাস |
সন্ধ্যায় ফোটে, রাতে গন্ধ তীব্র হয় |
| বকুল |
সাদা-ক্রিম |
মিষ্টি স্নিগ্ধ ঘ্রাণ |
সকালে ফোটে, সারাদিন হালকা গন্ধ থাকে |
| কুন্দ |
সাদা |
হালকা মিষ্টি সুবাস |
সন্ধ্যায় ফোটে |
| চাঁপা |
হলুদ-সাদা |
গভীর ও মিষ্টি সুবাস |
সকাল-সন্ধ্যা উভয় সময়ে গন্ধ ছড়ায় |
| স্টার জেসমিন |
সাদা |
তীব্র মিষ্টি সুবাস |
রাতে গন্ধ বেশি ছড়ায় |
রজনীগন্ধাঃ রাতের ফুল হিসেবে সবচেয়ে বেশি পরিচিত। সাদা রঙের লম্বাটে এই ফুল
সন্ধ্যার পর ফুটতে শুরু করে এবং রাত গভীর হলে এর মিষ্টি সুবাস চারদিকে
ছড়িয়ে পড়ে। বাগানে বা টবে লাগালে এটি প্রায় সারা বছরই ফুল দিতে থাকে।
রাতের রাণীঃ নামের সঙ্গেই বোঝা যায় এটি রাতের ফুল। ছোট আকারের এই ফুল দেখতে
খুব একটা আকর্ষণীয় না হলেও এর গন্ধ এতটাই তীব্র যে পুরো বাড়ি সুবাসিত হয়ে
ওঠে। এই গাছ একবার লাগালে বছরের পর বছর ফুল দিতে থাকে।
জুঁই ও চামেলীঃ দেখতে প্রায় একইরকম হলেও দুটোই সাদা রঙের ছোট ফুল, যা
সন্ধ্যার পর থেকে গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। লতানো স্বভাবের হওয়ায় এগুলো
বাগানের বেড়া বা গেটে জড়িয়ে দিলে বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করে।
বেলিঃ ফুল সাদা রঙের ছোট ছোট পাপড়িবিশিষ্ট, যা সকালে ফুটে সারাদিন ধরে হালকা
মিষ্টি গন্ধ ছড়ায়। এই ফুল দিয়ে মালা গাঁথার প্রচলনও বাংলাদেশে বেশ
জনপ্রিয়।
গন্ধরাজঃ ফুলের গন্ধ এতটাই গভীর যে একটি মাত্র ফুলই পুরো ঘর সুবাসিত করে দিতে
পারে। সাদা রঙের এই ফুল সন্ধ্যার পর ফোটে এবং রাতভর তার সুবাস ধরে রাখে।
কামিনীঃ ফুল ছোট ছোট সাদা পাপড়ির গুচ্ছ নিয়ে ফোটে, বিশেষ করে বৃষ্টির পর এই
ফুলের গন্ধ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়। এই গাছ ঝোপালো হওয়ায় বাগানের সীমানায়
লাগানো যায়।
আপনার বারান্দায় বা বাগানে যদি এই সুগন্ধি ফুলগুলো লাগান তাহলে দিনের
পাশাপাশি রাতেও এক মনোরম সুবাসিত পরিবেশ তৈরি করবে, যা মানসিক প্রশান্তির
জন্যও বেশ উপকারী।
বারোমাসি গাঁদা ফুল
গাঁদা ফুলকে বারোমাসি ফুলের রাজা বলা যায়, কারণ বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি
বাড়ির আঙিনা, ছাদ বা টবে এই ফুল গাছ দেখা যায়। গাঁদা ফুল বাংলাদেশের অন্যতম
জনপ্রিয় এবং সুদৃশ্য ফুল, যা শুধু বাগানের শোভা বাড়ায় না বরং বিভিন্ন
কাজেও ব্যবহৃত হয়। এটি খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং এর পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ
, তাই নতুন বাগানপ্রেমীদের জন্যও এটি আদর্শ একটি পছন্দ।
চলুন জেনে নেই গাঁদা ফুলের রং ও প্রকারভেদ, গাঁদা ফুল মূলত হলুদ ও কমলা রঙে
বেশি দেখা যায়, তবে বর্তমানে সাদা ও লালচে-বাদামি রঙের গাঁদাও পাওয়া যায়।
আকারের দিক থেকে এটি প্রধানত দুই ধরনের হয়, বড় ইনকা গাঁদা, যার ফুল আকারে
বড় ও গোলাকার, এবং ছোট দেশি গাঁদা, যা আকারে ছোট হলেও গাছে প্রচুর ফুল ধরে।
ফুলের পাপড়িগুলো ঘন সাজানো থাকে বলে দেখতে বেশ ভরাট ও আকর্ষণীয় লাগে।
গাঁদা ফুল সারা বছরই কমবেশি ফোটে, তবে শীতকালে এই ফুলের প্রাচুর্য সবচেয়ে
বেশি থাকে। পূজা, উৎসব ও মালা তৈরিতে গাঁদা ফুলের ব্যাপক ব্যবহার হওয়ায়
শীতকালীন চাষেই এর চাহিদা তুঙ্গে ওঠে। এছাড়া গ্রীষ্ম ও বর্ষাতেও গাছে
নিয়মিত ফুল দেখা যায়, শুধু ফুলের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকে।
চলুন জেনে নেই বারোমাসি গাঁধা ফুল গাছের মাটি ও পরিচর্যা, গাঁদা ফুলের জন্য
উর্বর, দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযুক্ত এবং মাটির পিএইচ মান ৬.৫ থেকে ৭.৫ এর
মধ্যে থাকলে ফুলের উৎপাদন ভালো হয়। চারা রোপণের আগে মাটিতে জৈব সার বা
কম্পোস্ট মিশিয়ে নিলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়। গাছ একটু বড় হলে ডগা কেটে
দিলে একাধিক ডাল বের হয় এবং প্রতিটি ডালে ফুল ফোটে, ফলে একটি গাছ থেকেই অনেক
বেশি ফুল পাওয়া যায়।
গাঁদা গাছ অনেক পোকামাকড়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হওয়ায় সাধারণত পোকার আক্রমণ
কম হয় , তবে গোড়া পচা রোগের ঝুঁকি থাকে, বিশেষ করে গাছের গোড়ায় পানি জমে
থাকলে। তাই টবে বা মাটিতে গাঁদা লাগানোর সময় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা
ভালোভাবে রাখা দরকার। গাঁদা ফুল গাছ যত্ন কম চায় অথচ ফলাফল দেয় দারুণ তাই
বারান্দা, ছাদ বা বাগান, যেখানেই লাগানো হোক না কেন, এটি সহজেই জায়গা
রাঙিয়ে তোলে।
বারান্দায় বারোমাসি ফুল গাছ
আমরা শহরে জায়গার অভাবে অনেকেই বড় বাগান করতে পারি না, কিন্তু বারান্দাতেও
কিছু বারোমাসি ফুল গাছ লাগিয়ে সহজেই ছোট্ট একটি ফুলবাগানের অনুভূতি পাওয়া
যায়। সঠিক গাছ বেছে নিলে বারান্দায় সীমিত জায়গাতেই সারা বছর ফুলের
সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। চলু জেনে নেই বারান্দায় উপযোগী বারোমাসি ফুল গাছ
সর্ম্পকে।
বারান্দায় লাগানোর জন্য এমন গাছ বেছে নেওয়া ভালো, যেগুলো আকারে ছোট বা টবেই
ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। জবা, গোলাপ, রঙ্গন, নয়নতারা ও গাঁদা এই ফুলগুলো টবেই
দারুণভাবে ফুল দেয় এবং বেশি জায়গার প্রয়োজন হয় না। এছাড়া পিটুনিয়া
ঝুলন্ত ঝুড়িতে চমৎকার মানায়, যা বারান্দার রেলিং বা দেয়ালে ঝুলিয়ে রাখা
যায়।
সুগন্ধি ফুলের জন্য আলাদা কর্নারঃ বারান্দায় যদি সন্ধ্যার পর বসার অভ্যাস
থাকে, তাহলে বেলি, জুঁই বা রজনীগন্ধা রাখা যেতে পারে। এই ফুলগুলো
সন্ধ্যা-রাতে গন্ধ ছড়ায়, ফলে বারান্দায় বসেই মনোরম সুবাস উপভোগ করা যায়।
বারান্দায় ফুল গাছ ভালো রাখতে হলে পর্যাপ্ত রোদ পাওয়া দরকার, কারণ বেশিরভাগ
ফুল গাছ সরাসরি সূর্যের আলোতে ভালো ফুল দেয়। টবের নিচে ছিদ্র থাকা আবশ্যক,
যাতে অতিরিক্ত পানি জমে গাছের গোড়া পচে না যায়। ছোট টবের বদলে মাঝারি
আকারের টব বেছে নিলে গাছের শিকড় বাড়ার জায়গা পায় এবং ফুলও বেশি হয়।
বারান্দার গাছে নিয়মিত পানি দেওয়া, শুকনো পাতা-ফুল ছেঁটে ফেলা এবং মাসে
একবার জৈব সার প্রয়োগ করলে গাছ সতেজ থাকে ও নিয়মিত ফুল দেয়। একাধিক গাছ
কাছাকাছি না রেখে মাঝে একটু ফাঁকা জায়গা রাখলে বাতাস চলাচল ভালো হয়, যা
রোগবালাই কমাতে সাহায্য করে। এভাবে অল্প জায়গাতেও পরিকল্পনা করে ফুল গাছ
লাগালে বারান্দাটাই হয়ে উঠতে পারে বাড়ির সবচেয়ে সুন্দর ও প্রশান্তির কোণা।
বারোমাসি ফুল গাছ লাগানোর উপকারিতা
আপনি বারোমাসি ফুল গাছ লাগানোর উপকারিতা জানলে অবাক হবেন? বারান্দায় ফুল গাছ
লাগানো শুধু সৌন্দর্যের জন্যই নয়, এটি বাড়ির পরিবেশ ও বাসিন্দাদের সুস্থতার
জন্যও অনেক উপকারী। কয়েকটা টবেই যখন ফুল ফুটতে শুরু করে, তখন পুরো বারান্দার
চেহারাই পাল্টে যায়। চলুন জেনে নেই, বারান্দায় ফুল গাছ লাগানোর কিছু
গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা নিয়ে বিস্তারিতভাবে।
-
ঘরে মিষ্টি সুবাস ছড়ায়ঃ বেলি, জুঁই, রজনীগন্ধা বা গন্ধরাজের মতো
সুগন্ধি ফুল বারান্দায় লাগালে সন্ধ্যা নামলেই সেই মিষ্টি সুবাস বাতাসে
ভেসে ঘরের ভেতরেও ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে জানালা খোলা থাকলে এই সুবাস
পুরো ঘরকে সতেজ করে তোলে, যা কৃত্রিম এয়ার ফ্রেশনারের চেয়ে অনেক বেশি
স্বাস্থ্যকর ও প্রাকৃতিক।
-
বাতাস বিশুদ্ধ থাকেঃ ফুল গাছ দিনের বেলা সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে
কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে অক্সিজেন ছাড়ে, ফলে বারান্দা ও আশপাশের
বাতাস অনেকটাই বিশুদ্ধ থাকে। ধুলাবালি ও ধোঁয়ার প্রভাব কিছুটা হলেও
কমিয়ে দেয় এই গাছগুলো, বিশেষ করে শহরের রাস্তার পাশের বাসাগুলোতে এর
প্রভাব বেশ লক্ষণীয়।
-
আবহাওয়া ঠান্ডা ও আরামদায়ক থাকেঃ গাছের পাতা থেকে জলীয়বাষ্প নির্গত
হওয়ার প্রক্রিয়ায় আশপাশের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যায়, ফলে গরমের দিনে
বারান্দা তুলনামূলক ঠান্ডা অনুভূত হয়। রোদের তীব্রতাও কিছুটা কম লাগে
যদি গাছের পাতা ছায়া তৈরি করে, যা গ্রীষ্মকালে বেশ স্বস্তিদায়ক।
-
বাড়ির সৌন্দর্য অনেকগুণ বেড়ে যায়ঃ রঙিন ফুলে ভরা একটি বারান্দা দেখতে
যেমন চোখজুড়ানো লাগে, তেমনি বাড়ির সামগ্রিক সৌন্দর্যও অনেকখানি বেড়ে
যায়। প্রতিদিন নতুন কুঁড়ি বা ফুটন্ত ফুল দেখলে মনটাও সতেজ থাকে, যা
সকালে ঘুম থেকে উঠে বারান্দায় দাঁড়ালে বিশেষভাবে অনুভব করা যায়।
-
মানসিক প্রশান্তি দেয়ঃ সবুজ পাতা আর রঙিন ফুলের সমারোহ মানসিক চাপ কমাতে
সাহায্য করে বলে অনেক গবেষণায় দেখা গেছে। সকালে চা খেতে খেতে বা
সন্ধ্যায় কাজের ফাঁকে কিছুক্ষণ ফুল গাছের যত্ন নিলে মন হালকা হয়ে যায়,
যা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী।
-
পোকামাকড় ও মৌমাছির স্বাভাবিক আনাগোনা বাড়ায়ঃ ফুল ফোটার সময় প্রজাপতি
বা মৌমাছি এসে ভিড় করে, যা প্রকৃতির সঙ্গে এক ধরনের সংযোগ তৈরি করে।
বিশেষ করে বাচ্চাদের জন্য এটি একটি ছোট প্রকৃতি শিক্ষার সুযোগও হয়ে ওঠে।
এভাবে দেখা যায়, বারান্দায় ফুল গাছ লাগানো শুধু শখের বিষয় নয় এটি সরাসরি
প্রভাব ফেলে বাড়ির পরিবেশ, বাতাসের মান ও পরিবারের সবার মানসিক প্রশান্তির
উপর।
ফুল গাছ পরিচর্যার সহজ ও কার্যকরী উপায়
ফুল গাছ থেকে সারা বছর সুন্দর ও প্রচুর ফুল পেতে হলে নিয়মিত ও সঠিক পরিচর্যা
করা জরুরি। অনেকেই গাছ লাগান কিন্তু সঠিক যত্নের অভাবে ফুল কম হয় বা গাছ মরে
যায়। পানি দেওয়া, মাটি তৈরি ও সার প্রয়োগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো,
যাতে সহজেই বাড়িতে বসে ফুল গাছের সঠিক যত্ন নেওয়া যায়।
ফুল গাছে পানি দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু বিষয় হলো মাটি বেশি ভেজা বা বেশি শুকনো
যেন না হয়। গরমকালে সাধারণত প্রতিদিন সকালে বা বিকেলে একবার পানি দেওয়া
ভালো, তবে মাটির উপরের অংশ শুকিয়ে গেলে তবেই পানি দেওয়া উচিত। শীতকালে
গাছের পানির চাহিদা কমে যায়, তাই তখন দুই থেকে তিন দিন পরপর পানি দিলেই
যথেষ্ট।
বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি টবে জমে থাকলে অতিরিক্ত পানি দেওয়ার দরকার নেই, বরং
টবের নিচে ছিদ্র আছে কিনা তা নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে পানি জমে গাছের শিকড়
পচে না যায়। ফুল গাছের জন্য উর্বর ও ঝুরঝুরে দোআঁশ মাটি সবচেয়ে ভালো, যা
সহজে পানি নিষ্কাশন করতে পারে। মাটি তৈরির সময় সাধারণ বাগানের মাটির সঙ্গে
বালি ও জৈব সার মিশিয়ে নিলে মাটি হালকা ও উর্বর হয়।
টবে গাছ লাগানোর ক্ষেত্রে মাটির অনুপাত এমন রাখা ভালো ৫০ শতাংশ সাধারণ মাটি,
৩০ শতাংশ জৈব সার বা কম্পোস্ট এবং ২০ শতাংশ বালি বা কোকোপিট, যাতে মাটি ঝরঝরে
থাকে ও পানি জমে না থাকে। মাটির পিএইচ মান সাধারণত ৬ থেকে ৭ এর মধ্যে থাকলে
বেশিরভাগ ফুল গাছের জন্য উপযোগী হয়। ফুল গাছে নিয়মিত জৈব সার দেওয়া
প্রয়োজন, কারণ এটি মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং রাসায়নিক সারের তুলনায় গাছের
জন্য নিরাপদ।
চারা লাগানোর ১০-১৫ দিন আগে মাটিতে গোবর সার বা কম্পোস্ট মিশিয়ে নেওয়া
ভালো, যাতে মাটি পুষ্টিসমৃদ্ধ হয়। গাছ বড় হওয়ার পর প্রতি ১৫-২০ দিন পরপর
অল্প পরিমাণে জৈব সার বা কম্পোস্ট মাটির উপরে ছড়িয়ে হালকা করে মিশিয়ে দিলে
গাছ পুষ্টি পায় এবং ফুল বেশি হয়। এছাড়া ভার্মিকম্পোস্ট ব্যবহার করলে মাটির
গুণাগুণ আরও ভালো হয় এবং গাছের শিকড় মজবুত হয়।
বেশিরভাগ ফুল গাছ দিনে অন্তত ৪-৬ ঘণ্টা সরাসরি রোদ পেলে ভালো ফুল দেয়, তাই
বারান্দা বা বাগানে এমন জায়গা বেছে নেওয়া উচিত। শুকনো পাতা ও শেষ হয়ে
যাওয়া ফুল নিয়মিত ছেঁটে ফেললে গাছে নতুন ডালপালা গজায় এবং ফুল ফোটার হারও
বেড়ে যায়। মাঝে মাঝে গাছের পাতা পরীক্ষা করে দেখা উচিত পোকা বা ছত্রাকের
আক্রমণ হচ্ছে কিনা।
প্রয়োজনে নিমতেল পানির সঙ্গে মিশিয়ে স্প্রে করলে প্রাকৃতিকভাবেই পোকামাকড়
দূরে রাখা যায়, যা রাসায়নিক কীটনাশকের চেয়ে অনেক নিরাপদ। এভাবে সঠিক
নিয়মে পানি, মাটি ও জৈব সার ব্যবহার করলে ফুল গাছ সহজেই সতেজ থাকে এবং সারা
বছর প্রচুর ফুল দিতে থাকে।
সারাবছর ফুটে এমন ফুলের নাম সর্ম্পকে প্রশ্ন FAQ
প্রশ্নঃ সারা বছর কি কি ফুল ফোটে?
উত্তরঃ জবা, গোলাপ, রঙ্গন, নয়নতারা, করবী, কাঞ্চন, বকুল, চাঁপা, গন্ধরাজ,
জুঁই ও গাঁদার মতো ফুল প্রায় সারা বছরই কমবেশি ফোটে। এই ফুলগুলোকে সাধারণত
বারোমাসি ফুল বলা হয়।
প্রশ্নঃ সব ঋতুতে কি ফুল ফোটে?
উত্তরঃ প্রতিটি ঋতুতেই আলাদা আলাদা ফুল ফোটে—গ্রীষ্মে কৃষ্ণচূড়া ও করবী,
বর্ষায় শাপলা ও কদম, শরতে শিউলি ও কাশফুল, শীতে গাঁদা ও ডালিয়া, বসন্তে
পলাশ ও শিমুল। এছাড়া বারোমাসি ফুলগুলো ঋতু নির্বিশেষে সব সময়ই দেখা যায়।
প্রশ্নঃ কোনটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ফুল?
উত্তরঃ বাংলাদেশে গাঁদা ফুল সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়, কারণ এটি প্রায়
প্রতিটি বাড়িতেই দেখা যায় এবং পূজা, উৎসব ও মালা তৈরিতে ব্যাপকভাবে
ব্যবহৃত হয়। এছাড়া জবা ও গোলাপও সৌন্দর্য ও ব্যবহারের দিক থেকে বেশ
জনপ্রিয়।
প্রশ্নঃ টবে বারোমাসি ফুল গাছ লাগানো যাবে কি?
উত্তরঃ হ্যাঁ, জবা, গোলাপ, রঙ্গন, নয়নতারা ও গাঁদার মতো বেশিরভাগ বারোমাসি
ফুল গাছ টবেই ভালোভাবে বেড়ে ওঠে এবং নিয়মিত ফুল দেয়। শুধু টবের আকার
মাঝারি রাখতে হয় ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতে হয়।
প্রশ্নঃ ফুল গাছে কোন সার সবচেয়ে ভালো?
উত্তরঃ জৈব সার যেমন গোবর সার, কম্পোস্ট বা ভার্মিকম্পোস্ট ফুল গাছের জন্য
সবচেয়ে ভালো ও নিরাপদ। এগুলো মাটির উর্বরতা বাড়ায় এবং রাসায়নিক সারের
ক্ষতিকর প্রভাব ছাড়াই গাছকে পুষ্টি জোগায়।
সারাবছর ফুটে এমন ফুলের নাম সর্ম্পকে শেষকথা
টিপস পয়েন্ট আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url