আপনি কি হাই ব্লাড প্রেসার হঠাৎ বেড়ে গেলে কী করবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন?
উচ্চ রক্তচাপ বা দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর প্রাকৃতিক উপায় সর্ম্পকে জানতে
চাচ্ছেন? তাহলে জেনে নিন ওষুধ ছাড়া দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর কার্যকরী উপায়
সর্ম্পকে বিস্তারিত।
প্রাকৃতিক উপায়ে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের সহজ পদ্ধতি সর্ম্পকে চলুন জেনে নেই
এবং কিভাবে খাবার, ব্যায়াম, রিলাক্সেশন টেকনিক ও লাইফস্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে
দ্রুত সমাধান পান তা জানব বিস্তারিত।
উচ্চ রক্তচাপ কী এবং কেন হয়
আমরা সাধারণত হাই প্রেসার হলে কি করব এইসব চিন্তা করি অথচ অনেকে আছেন যে হাই
প্রেসার বা উচ্চ রক্তচাপ কি তা সঠিকভাবে জানেন না, চলুন জেনে নেই বিস্তারিত।
রক্তচাপ হলো আমাদের হৃদপিণ্ড যখন সারা শরীরে রক্ত পাম্প করে পাঠায়, তখন
রক্তনালীর দেয়ালে যে চাপ পড়ে তাকে বোঝায়। এই চাপ যখন স্বাভাবিক মাত্রার
চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন তাকে বলা হয় উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার।
সাধারণত ১২০/৮০ কে স্বাভাবিক রক্তচাপ ধরা হয়, আর এর বেশি হলেই সতর্ক হওয়া
দরকার। উচ্চ রক্তচাপের পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। বেশি লবণ খাওয়া,
অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা, নিয়মিত ব্যায়াম না করা, এসব কারণে
রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে। এছাড়া ঘুমের অভাব এবং অতিরিক্ত ওজনও রক্তচাপ
বাড়ানোর বড় কারণ।
কিছু ক্ষেত্রে বংশগত কারণেও উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। পরিবারে কারো হাই
প্রেসারের সমস্যা থাকলে তার সন্তানদেরও এই সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বয়স
বাড়ার সাথে সাথেও রক্তনালী শক্ত হয়ে যায়, যার ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তচাপ
কিছুটা বাড়ে। ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপানও উচ্চ রক্তচাপের কারণ। এছাড়া চা,
কফি বেশি খাওয়া এবং ভেজাল খাবার বেশি খাওয়ার অভ্যাসও এক্ষেত্রে হতে পারে।
তাই এই অভ্যাসগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার।
উচ্চ রক্তচাপকে অনেক সময় নীরব ঘাতক বলা হয়, কারণ এটি শুরুতে তেমন কোনো
লক্ষণ দেখায় না। কিন্তু দীর্ঘদিন এটি নিয়ন্ত্রণে না রাখলে হার্ট অ্যাটাক,
স্ট্রোক এবং কিডনির সমস্যার মতো বড় বিপদ হতে পারে। তাই একে অবহেলা না করে
সময়মতো সতর্ক হওয়া উচিত।
দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর প্রাকৃতিক উপায়
হাই প্রেসার হলে আমরা স্বাভাবিত ভাবে চিন্তিত হয়ে পরি তাই চলুন জেনে নেই কিভাবে
প্রাকৃতিক উপায়ে হাই প্রেসার কমানো যায়।উচ্চ রক্তচাপ হঠাৎ বেড়ে গেলে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর উপায় হলো গভীর
শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করা। নিরব জায়গায় বসে নাক দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস
নিন, কয়েক সেকেন্ড ধরে রাখুন, তারপর মুখ দিয়ে আস্তে আস্তে ছেড়ে দিন। এভাবে
৫-১০ মিনিট করলে মন শান্ত হয় এবং রক্তচাপ কিছুটা কমে আসে।
নিয়মিত হাঁটাচলা বা হালকা ব্যায়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে দারুণ সাহায্য
করে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটলে হৃদপিণ্ড ভালোভাবে কাজ করে এবং
রক্তনালীর ওপর চাপ কমে। ব্যস্ততার কারণে নিয়মিত হাঁটাচলা বা ব্যায়ামের সময়
না পেলেও অফিসের বিরতিতে একটু হাঁটাহাঁটি করলেও উপকার পাওয়া যায়।
মানসিক চাপ বা স্ট্রেস উচ্চ রক্তচাপের বড় একটি কারণ, তাই স্ট্রেস কমানোর
দিকে বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। পছন্দের গান শোনা, বই পড়া বা প্রিয়জনের সাথে
সময় কাটানো, এসব ছোট ছোট কাজ মনকে হালকা করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে
সাহায্য করে।
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, তাই প্রতিদিন অন্তত
৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো দরকার। এছাড়া শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখাও একটি
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ অতিরিক্ত ওজন হৃদপিণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ ফেলে। তাই
অতিরিক্ত ওজন কমানোর চেষ্টা করা উচিত।
ধূমপান ও মদ্যপান থেকে দূরে থাকলে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা অনেক সহজ হয়ে
যায়। এই অভ্যাসগুলো রক্তনালীকে সরু করে দেয়, ফলে রক্তচাপ বেড়ে যায়। তাই
প্রাকৃতিকভাবে সুস্থ থাকতে চাইলে এসব অভ্যাস ত্যাগ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়।
হাই প্রেসার হলে যেসব লক্ষণ দেখা দেয়
চলুন জেনে নেই কি কি লক্ষণ দেখা দিলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার উচ্চ রক্তচাপ
বা দ্রুত হাই প্রেসার হয়েছে কিনা। উচ্চ রক্তচাপকে ডাক্তাররা নীরব ঘাতক বলে
থাকেন। এর কারণ হলো, প্রথম দিকে এই রোগ শরীরে তেমন কোনো টের পাওয়ার মতো
লক্ষণ দেখা যায় না।
অনেকের বছরের পর বছর উচ্চ রক্তচাপ নিয়ে চলাফেরা করেন, কাজকর্ম করেন, কিন্তু
বুঝতেই পারেন না যে তাদের শরীরের ভেতরে বিপদ জমা হচ্ছে। তাই বয়স ৩৫ থেকে ৪০
পার হলে নিয়মিত রক্তচাপ মেপে দেখাটা সবচেয়ে ভালো অভ্যাস। তবে রক্তচাপ যখন
অনেকটা বেড়ে যায়, তখন শরীর কিছু সংকেত দিতে শুরু করে। চলুন সেই লক্ষণগুলো
সহজভাবে বিস্তারিতভাবে জেনে নেই।
১. মাথাব্যথাঃ হাই প্রেসারের সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো মাথাব্যথা। এই ব্যথা
সাধারণত মাথার পেছনের অংশে বেশি অনুভব হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠার পরপরই যদি
মাথায় ভারী ভাব বা চিনচিনে ব্যথা শুরু হয়, তাহলে সেটা রক্তচাপ বেড়ে
যাওয়ার একটা বড় ইঙ্গিত হতে পারে।
২. মাথা ঘোরানোঃ হঠাৎ দাড়ালে বা হাঁটার সময় মাথা ঘুরে উঠা, শরীর ভারসাম্য
হারানোর মতো অনুভূতি হওয়াও উচ্চ রক্তচাপের একটি সাধারণ লক্ষণ। কারো কারো
ক্ষেত্রে এমনটা মনে হয় যেন চারপাশ ঘুরছে বা পড়ে যাচ্ছেন।
৩. চোখে ঝাপসা দেখাঃ রক্তচাপ বেশি বেড়ে গেলে চোখের ভেতরের সূক্ষ্ম রক্তনালীর
ওপর চাপ পড়ে। এর ফলে হঠাৎ চোখে ঝাপসা দেখা বা দৃষ্টি অস্পষ্ট হয়ে যাওয়ার
মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এই লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে রক্তচাপ মেপে
দেখে নিবেন।
৪. বুকে চাপ বা ব্যথাঃ বুকের মধ্যে চাপ চাপ ভাব বা হালকা ব্যথা অনুভব করা
উচ্চ রক্তচাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কিছুটা বিপজ্জনক লক্ষণ। এটি হৃদপিণ্ডের
ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার ইঙ্গিত দেয়, তাই এই লক্ষণকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক
না।
৫. শ্বাসকষ্টঃ সিঁড়ি বেয়ে ওঠা বা একটু হাঁটাহাঁটি করার পরই যদি অতিরিক্ত
হাপিয়ে যান বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তাহলে এটাও উচ্চ রক্তচাপের একটি লক্ষণ
হতে পারে। হৃদপিণ্ডকে বাড়তি চাপে কাজ করতে হলে এমন সমস্যা দেখা দেয়।
৬. বুক ধড়ফড় করাঃ হৃদস্পন্দন হঠাৎ বেড়ে যাওয়া বা বুকের মধ্যে ধড়ফড়ানি
অনুভব করাও একটি সাধারণ লক্ষণ। কোনো কারণ ছাড়াই যদি এমন অনুভূতি বারবার হতে
থাকে, তাহলে সেটা অবহেলা করা উচিত নয়।
৭. অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতাঃ কোনো কারণ ছাড়াই শরীরে ক্লান্তি লাগা,
কাজে মন না বসা, সবসময় দুর্বল অনুভব করা, এসবও উচ্চ রক্তচাপের একটি লক্ষণ
হতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রামের পরও যদি ক্লান্তি না কাটে, তাহলে সতর্ক হওয়া
উচিত।
৮. নাক দিয়ে রক্ত পড়াঃ রক্তচাপ অনেক বেশি বেড়ে গেলে হঠাৎ নাক দিয়ে রক্ত
পড়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে। এটি সাধারণত তখনই হয় যখন রক্তচাপ খুব বেশি
মাত্রায় চলে যায়, তাই এই লক্ষণকে গুরুত্বের সাথে নেওয়া উচিত।
৯. মুখ লাল হয়ে যাওয়াঃ রক্তচাপ বেড়ে গেলে মুখের রক্তনালীগুলো প্রসারিত
হয়ে যায়, যার ফলে মুখ হঠাৎ লাল হয়ে ওঠে। বিশেষ করে মানসিক চাপের সময় বা
গরমের মধ্যে এই লক্ষণ বেশি লক্ষ্য করা যায়।
১০ ঘুমে সমস্যাঃ রাতে ঘুম না আসা, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা অস্থির লাগার
মতো সমস্যাও উচ্চ রক্তচাপের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। ঘুমের এই সমস্যা আবার
রক্তচাপকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে, ফলে এটি একটি চক্রের মতো কাজ করে।
এই লক্ষণগুলোর যেকোনো একটি বা একাধিক নিয়মিত দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত
রক্তচাপ মেপে দেখা এবং ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে ভালো কাজ। সময়মতো
ধরা পড়লে উচ্চ রক্তচাপ সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়, কিন্তু অবহেলা করলে তা
হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
দ্রুত রক্তচাপ কমাতে যেসব খাবার খাবেন
আপনি কোন কোন ধরণের খাবার খেতে আপনার হাই প্রেসার কমাতে পারবেন চলুন সেই
সর্ম্পকে জেনে নেই। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপনাকে ওষুধের পাশাপাশি
খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব দিতে হবে। কিছু খাবার আছে যেগুলো নিয়মিত খেলে
রক্তনালী শিথিল থাকে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রায় থাকতে সাহায্য করে।
এসব খাবারে সাধারণত পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
এর মাত্রা বেশি থাকে, যা হৃদপিণ্ড ও রক্তনালীর জন্য উপকারী। চলুন জেনে নেই
এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাবারের তালিকা ও তাদের পুষ্টিগুণ সর্ম্পকে। রক্তচাপ
কমাতে সহায়ক খাবারের তালিকাঃ
| খাবার |
পরিমাণ |
ক্যালোরি |
মূল উপাদান |
কীভাবে সাহায্য করে |
| কলা |
১টি মাঝারি |
৯০ থেকে ১০৫ |
পটাশিয়াম |
সোডিয়ামের প্রভাব কমায়, রক্তনালী শিথিল রাখে |
| পালং শাক |
১ কাপ (রান্না) |
৪০ থেকে ৫০ |
পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম |
রক্তনালী প্রসারিত রাখে |
| রসুন |
১-২ কোয়া |
৪ থেকে ৮ |
অ্যালিসিন |
রক্তনালী শিথিল করে, রক্ত সঞ্চালন সহজ করে |
| বিটরুট |
১ কাপ |
৫৮ থেকে ৭০ |
নাইট্রেট |
রক্তনালী প্রসারিত করে, দ্রুত চাপ কমায় |
| ডালিম |
১টি মাঝারি |
৮০ থেকে ১০০ |
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট |
রক্তনালীর প্রদাহ কমায় |
| তরমুজ |
১ কাপ বা কিউব |
৪৫ থেকে ৫০ |
সিট্রুলিন |
রক্তনালী শিথিল করে |
| ওটস |
১ কাপ (রান্না) |
১৫০ থেকে ১৬০ |
ফাইবার |
কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে |
| বাদাম বা আমন্ড |
২৮ গ্রাম বা ১মুঠো |
১৬০ থেকে ১৭০ |
ম্যাগনেসিয়াম |
রক্তনালী শিথিল করতে সাহায্য করে |
| টক দই |
১ কাপ |
১৫০ থেকে ২০০ |
পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম |
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক |
| কমলালেবু |
১টি মাঝারি |
৬০ থেকে ৭০ |
পটাশিয়াম, ভিটামিন সি |
রক্তনালীর কার্যক্ষমতা বাড়ায় |
চলুন কিছু খাবারের বিস্তারিত গুনাগুন সর্ম্পকে জানা যাক যা উচ্চ রক্তচাপ বা
দ্রুত হাই প্রেসার কমাতে অনেক সাহায্য করে।
কলাঃ কলা পটাশিয়ামের অন্যতম ভালো উৎস। শরীরে পটাশিয়ামের পরিমাণ ঠিক থাকলে
সোডিয়ামের ক্ষতিকর প্রভাব কমে যায়, ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। প্রতিদিন
সকালের নাস্তায় একটি কলা রাখা যেতে পারে।
পালং শাকঃ পালং শাকে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম দুটোই ভালো পরিমাণে থাকে, যা
রক্তনালী শিথিল রাখতে সাহায্য করে। এটি সালাদ, ভাজি বা স্যুপ করে খাওয়া
যায়।
রসুনঃ রসুনে থাকা অ্যালিসিন নামক উপাদান রক্তনালী প্রসারিত করে রক্ত চলাচল
সহজ করে দেয়। কাঁচা রসুন খেলে এর কার্যকারিতা আরও বেশি পাওয়া যায়।
বিটরুটঃ বিটরুটে থাকা নাইট্রেট শরীরে গিয়ে নাইট্রিক অক্সাইডে পরিণত হয়, যা
রক্তনালী প্রসারিত করে দ্রুত রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। বিটরুটের জুসও
এক্ষেত্রে বেশ কার্যকর।
তরমুজঃ তরমুজে থাকা সিট্রুলিন উপাদান রক্তনালীকে শিথিল করে, যা রক্ত চলাচল
সহজ করে এবং রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
ওটস ও বাদামঃ ওটসের ফাইবার এবং বাদামের ম্যাগনেসিয়াম দুটোই দীর্ঘমেয়াদে
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সকালের নাস্তায় ওটস আর
বিকেলের নাস্তায় কিছু বাদাম রাখা যেতে পারে।
এই খাবারগুলো প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় নিয়মিত রাখলে ধীরে ধীরে রক্তচাপ
নিয়ন্ত্রণে থাকে। তবে হঠাৎ রক্তচাপ অনেক বেড়ে গেলে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর
না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া সবচেয়ে ভালো।
হাই প্রেসার হলে যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
আপনার যদি হাই প্রেসার হয় তাহলে আপনার জানা দরকার কোন খাবার গুলো খাওয়া যাবে
না। উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে শুধু ভালো খাবার খেলেই হবে না, কিছু
খাবার থেকে দূরে থাকাও আপনার জন্য দরকার। কিছু খাবার আছে যেগুলো শরীরে
সোডিয়াম বাড়িয়ে দেয়, রক্তনালী সরু করে দেয় বা হৃদপিণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ
ফেলে। ফলে এসব খাবার বেশি খেলে রক্তচাপ দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। চলুন এমন কিছু
খাবারের কথা বিস্তারিত জানা যাকঃ
-
বেশি লবণযুক্ত খাবারঃ লবণে থাকা সোডিয়াম শরীরে পানি ধরে রাখে, যার ফলে
রক্তের পরিমাণ বেড়ে যায় এবং রক্তনালীর ওপর চাপ বেড়ে যায়। আচার, চিপস,
পাঁপড় বা অতিরিক্ত লবণ দেওয়া রান্না খাবার নিয়মিত খেলে রক্তচাপ দ্রুত
বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
-
প্রক্রিয়াজাত ও ফাস্টফুডঃ বার্গার, পিৎজা, নুডলস বা প্যাকেটজাত খাবারে
সাধারণত প্রচুর পরিমাণে সোডিয়াম ও অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট থাকে। এই ধরনের
খাবার শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে রক্তচাপও
দ্রুত বেড়ে যায়।
-
লাল মাংসঃ গরু বা খাসির মাংসে স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে। এই ফ্যাট
রক্তনালীর ভেতরে জমে গিয়ে রক্তনালীকে সরু করে দেয়, যার ফলে রক্ত চলাচলে
বাধা তৈরি হয় এবং রক্তচাপ বেড়ে যায়।
-
তেলে ভাজা খাবারঃ পুরি, সিঙ্গারা বা অতিরিক্ত তেলে ভাজা যেকোনো খাবার
শরীরে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে রক্তনালীতে চর্বি
জমে গিয়ে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়।
-
চা-কফি বেশি খাওয়াঃ চা ও কফিতে থাকা ক্যাফেইন সাময়িকভাবে হৃদস্পন্দন
বাড়িয়ে দেয় এবং রক্তনালী সংকুচিত করে। দিনে অনেকবার চা-কফি খেলে এই
প্রভাব বারবার শরীরে পড়ে, যা রক্তচাপকে অস্থির করে তোলে।
-
ধুমপান বা অ্যালকোহলঃ অতিরিক্ত ধুমপান বা মদ্যপান সরাসরি হৃদপিণ্ড ও
রক্তনালীর ওপর চাপ ফেলে। নিয়মিত অ্যালকোহল গ্রহণ রক্তচাপকে দীর্ঘমেয়াদে
অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে।
-
চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয়ঃ কোল্ড ড্রিংকস, মিষ্টি বা অতিরিক্ত চিনি
দেওয়া খাবার শরীরের ওজন বাড়িয়ে দেয় এবং ইনসুলিন প্রতিরোধ ক্ষমতা
কমিয়ে দেয়। এর ফলে পরোক্ষভাবে রক্তচাপও বেড়ে যায়।
-
ক্যানড বা টিনজাত খাবারঃ টিনজাত সবজি, মাছ বা মাংসে দীর্ঘদিন সংরক্ষণের
জন্য প্রচুর সোডিয়াম মেশানো থাকে। নিয়মিত এই ধরনের খাবার খেলে শরীরে
সোডিয়ামের মাত্রা অজান্তেই অনেক বেড়ে যায়।
আপনরি জন্য এই খাবারগুলো সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া সব সময় সম্ভব নাও হতে
পারে, তবে যতটা সম্ভব কম খাওয়ার চেষ্টা করলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক
সহজ হয়ে যায়। খাদ্যাভ্যাসে ছোট ছোট পরিবর্তন এনেই দীর্ঘমেয়াদে বড়
পার্থক্য তৈরি করা সম্ভব।
প্রতিদিন রসুনের সঠিক ব্যবহারে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ
রসুন কে আমরা রান্নার ক্ষেত্রে ব্যবহার করি বেশি তবে এর গুনাগুন সর্ম্পকে
জানি না চলুন জেনে নেই, হাই প্রেসারে রসুন এর ব্যবহার। রসুন প্রাচীনকাল থেকেই
ঘরোয়া চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে, আর রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও এটি বেশ
কার্যকর একটি উপাদান হিসেবে পরিচিত। তবে রসুন থেকে সর্বোচ্চ উপকার পেতে হলে
এটি সঠিক নিয়মে ও পরিমাণে খাওয়া জরুরি। ভুল নিয়মে খেলে ফল পাওয়া যায় না।
রসুন খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১. কাঁচা রসুন কেন বেশি কার্যকরঃ রসুন কাটা বা থেঁতো করার পর তার ভেতরে থাকা
অ্যালিসিন নামক উপাদান সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা রক্তনালী শিথিল রাখতে সাহায্য
করে। রান্না করলে তাপে এই উপাদানের কার্যকারিতা অনেকটাই কমে যায়। তাই
সবচেয়ে বেশি উপকার পেতে হলে কাঁচা রসুন খাওয়াই ভালো।
২. সকালে খালি পেটে ১-২ কোয়া রসুন থেঁতো করে বা ছোট ছোট টুকরো করে কেটে
সরাসরি খাওয়া যেতে পারে। কেটে বা থেঁতো করার পর ৫-১০ মিনিট রেখে দিলে
অ্যালিসিন আরও ভালোভাবে সক্রিয় হয়, তারপর খেলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।
যাদের কাঁচা রসুনের ঝাঁঝ সহ্য হয় না, তারা এক গ্লাস পানির সাথে গিলে খেতে
পারেন।
৩. মধুর সাথে রসুনঃ কাঁচা রসুনের কড়া স্বাদ অনেকে নিতে পারে না তাই কাঁচা
রসুনের কড়া স্বাদ কমাতে অনেকে মধুর সাথে মিশিয়ে খান। এক কোয়া রসুন থেঁতো
করে তার সাথে এক চামচ মধু মিশিয়ে সকালে খেলে স্বাদও ভালো লাগে এবং উপকারও
পাওয়া যায়।
৪. দিনে ১-২ কোয়া রসুন খাওয়াই যথেষ্ট। এর বেশি খাওয়ার প্রয়োজন নেই, বরং
বেশি খেলে পেটে জ্বালাপোড়া বা গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। ফলাফল পেতে হলে
একদিন-দুইদিন নয়, বরং কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত খাওয়া জরুরি। শরীরে ধীরে
ধীরে এর প্রভাব দেখা দেয়।
৫. যাদের পেটের সমস্যা আছে, যেমন গ্যাস্ট্রিক বা আলসারের সমস্যা, তাদের খালি
পেটে কাঁচা রসুন খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়া যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ
খাচ্ছেন, তাদের রসুন খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, কারণ রসুন
রক্ত পাতলা করতেও সাহায্য করে।
রসুন কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি ঘরোয়া অভ্যাস
হিসেবে কাজ করে। প্রতিদিন সঠিক নিয়মে অল্প পরিমাণে খেলে ধীরে ধীরে রক্তনালী
স্বাস্থ্যকর থাকে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
তেঁতুলের পানি দিয়ে দ্রুত প্রেসার কমানোর পদ্ধতি
আমরা তেঁতুলকে টক হিসেবে, আচাঁর, চটপাট, ফুসকা ইত্যাদিরে সাথে খেতে পছন্দ করি
তবে তেঁতুল এর আরো গুনাগুর আছে এটি হাই প্রেসার কমাতে সাহায্য করে। তেঁতুল
শুধু স্বাদের জন্যই নয়, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও এটি একটি কার্যকর ঘরোয়া
উপাদান হিসেবে পরিচিত। তেঁতুলে থাকা পটাশিয়াম রক্তনালীর ওপর সোডিয়ামের
ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে দেয়, ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
এছাড়া তেঁতুলে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তনালীর প্রদাহ কমিয়ে রক্ত চলাচল
সহজ করে তোলে। ঘরে বসে সহজেই তেঁতুলের পানি তৈরি করে এই উপকার পাওয়া যায়।
চলুন বিস্তারিতভাবে জেনে নেই কিভাবে খেলে ও কত বার খেলে ভালো ফল পাওয়া যায়।
১. তেঁতুলের পানি তৈরির নিয়মঃ এক টুকরো তেঁতুল বা আঙুলের সমান নিয়ে এক
গ্লাস পানিতে রাতভর ভিজিয়ে রাখতে হবে। সকালে হাত দিয়ে ভালোভাবে চটকে
তেঁতুলের রস পানির সাথে মিশিয়ে ছেঁকে নিতে হবে। চাইলে সামান্য মধু মিশিয়ে
স্বাদ ভালো করা যায়। এই পানি খালি পেটে খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া
যায়।
২. কীভাবে খেলে দ্রুত ফল পাওয়া যায়ঃ সকালে খালি পেটে এই তেঁতুলের পানি খেলে
শরীর দ্রুত পটাশিয়াম শোষণ করতে পারে, যা রক্তনালী শিথিল রাখতে সাহায্য করে।
যাদের হঠাৎ রক্তচাপ কিছুটা বেড়ে যায়, তারা দিনের যেকোনো সময় এক গ্লাস
তেঁতুলের পানি খেলে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করতে পারেন।
৩. সপ্তাহে কতবার খাওয়া উচিতঃ প্রতিদিন খাওয়ার প্রয়োজন নেই, সপ্তাহে ৩-৪
দিন খেলেই যথেষ্ট উপকার পাওয়া যায়। বেশি পরিমাণে বা প্রতিদিন খেলে পেটে
অ্যাসিডিটি বা টক ঢেকুরের সমস্যা হতে পারে, তাই পরিমানমত খাওয় উচিত।
৪. যাদের গ্যাস্ট্রিক বা আলসারের সমস্যা আছে, তাদের খালি পেটে তেঁতুলের পানি
খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়া যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ বা রক্ত পাতলা করার
ওষুধ খাচ্ছেন, তাদেরও এটি নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
ভালো, কারণ তেঁতুল কিছু ওষুধের কার্যকারিতার সাথে প্রতিক্রিয়া করতে পারে।
তেঁতুলের পানি রক্তচাপ কমাতে সাহায্যকারী একটি ঘরোয়া উপায় হলেও এটি কোনো
চিকিৎসার বিকল্প না। রক্তচাপ যদি বারবার বেড়ে যায় বা অনেক বেশি থাকে, তাহলে
শুধু ঘরোয়া উপায়ের ওপর নির্ভর না করে ডাক্তারের কাছে যাবেন এটাই নিরাপদ ।
সুস্থ থাকতে দৈনিক কতটুকু লবণ খাওয়া উচিত
আমাদের অনেক খাবার খাওয়ার সময় অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার অভাস্ব আছে। অতিরিক্ত লবণ
খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যর জন্য ভালো না। শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখতে
লবণ প্রয়োজন, তবে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া রক্তচাপ বাড়িয়ে দেওয়ার অন্যতম
প্রধান কারণ। তাই দিনে কতটুকু লবণ খাওয়া নিরাপদ, সেটা জানা প্রত্যেকের জন্যই
জরুরি। চলুন জেনে নেওয়া যাক, দিনে কতটুকু খাওয়া নিরাপদ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক ৫
গ্রামের বেশি লবণ প্রায় এক চা চামচ খাওয়া উচিত নয়। যাদের আগে থেকেই উচ্চ
রক্তচাপের সমস্যা আছে, তাদের জন্য এই মাত্রা আরও কম, দিনে ৩-৪ গ্রামের মধ্যে
রাখা ভালো। এই হিসাবের মধ্যে শুধু রান্নায় দেওয়া লবণ নয়, বরং প্যাকেটজাত ও
প্রক্রিয়াজাত খাবারে থাকা লবণও ধরতে হয়।
আমরা যতটা মনে করি, তার চেয়ে অনেক বেশি লবণ প্রতিদিন শরীরে ঢুকে যায়,
কারণ অনেক খাবারে চোখে না দেখা লবণ লুকিয়ে থাকে। আচার, পাঁপড়, চিপস, সস,
বিস্কুট এবং রেস্তোরাঁর খাবারে সাধারণত অনেক বেশি লবণ মেশানো থাকে। তাই শুধু
রান্নাঘরের লবণদানি কম ব্যবহার করলেই হবে না, এই ধরনের খাবারও কম খাওয়া
দরকার।
লবণে থাকা সোডিয়াম শরীরে পানি ধরে রাখে, যার ফলে রক্তের পরিমাণ বেড়ে
যায় এবং রক্তনালীর দেয়ালে চাপ বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে বেশি লবণ খেলে এই
চাপ ক্রমাগত বাড়তে থাকে, যা একসময় স্থায়ী উচ্চ রক্তচাপের রূপ নিতে পারে।
রান্নার সময় লবণ একটু কম দিয়ে অভ্যাস তৈরি করা যায়, ধীরে ধীরে জিভও
এই পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেয়। খাবারে বাড়তি লবণ বা লবণাক্ত সস যোগ না
করে লেবু, আদা, রসুন বা বিভিন্ন মসলা দিয়ে স্বাদ বাড়ানো যেতে পারে। এছাড়া
প্যাকেটজাত খাবার কেনার আগে গায়ে লেখা সোডিয়ামের পরিমাণ দেখে নেওয়াও একটি
ভালো অভ্যাস।
লবণ পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, কারণ শরীরের জন্য অল্প পরিমাণ
সোডিয়ামও দরকার। তবে নির্দিষ্ট মাত্রার মধ্যে থেকে লবণ খাওয়ার অভ্যাস গড়ে
তুললে দীর্ঘমেয়াদে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়।
গর্ভাবস্থায় হাই প্রেসার কমানোর উপায়
গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া এটি মা ও গর্ভের সন্তান দুজনের
স্বাস্থ্যের সাথেই সরাসরি জড়িত। এই সময় শরীরে অনেক হরমোনাল পরিবর্তন হয়,
যার কারণে রক্তচাপ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে যেতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায়
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ প্রয়োজন। চলুন জানা যাক গর্ভাবস্থায় হাই
প্রেসার কামানোর কিছু উপায়।
নিয়মিত চেকআপ করানোঃ গর্ভাবস্থায় রক্তচাপ ওঠানামা করলে তা প্রথমেই বোঝা
কঠিন হতে পারে, তাই নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে রক্তচাপ পরীক্ষা করানো
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ওষুধ বা ঘরোয়া উপায় নেওয়ার আগেও চিকিৎসকের
পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক, কারণ গর্ভাবস্থায় সবকিছু সবার জন্য নিরাপদ নাও হতে
পারে।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়াঃ গর্ভাবস্থায় শরীরের ওপর এমনিতেই বাড়তি চাপ থাকে,
তাই পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। দিনের মধ্যে কিছুটা সময় বাম কাত হয়ে
শুয়ে বিশ্রাম নিলে রক্ত চলাচল ভালো থাকে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য
হয়।
হালকা হাঁটাচলাঃ ডাক্তারের অনুমতি অনুযায়ী প্রতিদিন হালকা হাঁটাহাঁটি করা
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। খুব বেশি পরিশ্রম না করে হালকা ও নিয়মিত
শারীরিক নড়াচড়া রক্ত সঞ্চালন সহজ রাখে।
মানসিক চাপমুক্ত থাকাঃ গর্ভাবস্থায় মানসিক চাপ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেওয়ার
একটি বড় কারণ হতে পারে। তাই মন শান্ত রাখতে হালকা গান শোনা, প্রিয়জনের সাথে
কথা বলা বা পছন্দের কাজ করা সহায়ক হতে পারে।
যেসব খাবারে রক্তচাপ বাড়তে পারেঃ গর্ভাবস্থায় বেশি লবণযুক্ত খাবার, আচার,
প্যাকেটজাত স্ন্যাকস ও ফাস্টফুড এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ এসব খাবার শরীরে পানি
ধরে রেখে রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত চা-কফি খাওয়াও এই
সময় সীমিত রাখা ভালো, কারণ ক্যাফেইন হৃদস্পন্দন বাড়িয়ে রক্তচাপে প্রভাব
ফেলতে পারে।
পর্যাপ্ত পানি পান করাঃ প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করলে শরীরে তরলের
ভারসাম্য ঠিক থাকে, যা রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক। তবে দিনে কতটুকু পানি
পান করা উচিত, সেটাও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করে নেওয়া ভালো।
গর্ভাবস্থায় হাই প্রেসার হঠাৎ অনেক বেড়ে গেলে, সাথে মাথাব্যথা, চোখে ঝাপসা
দেখা বা হাত-পা ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তারের কাছে
যাওয়া উচিত। কারণ গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ প্রি-এক্লাম্পসিয়ার মতো জটিল
অবস্থার দিকে যেতে পারে, যা মা ও সন্তান দুজনের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ।
হাই প্রেসার কমানোর কার্যকর ওষুধের নাম
অনেকেই আছেন ডাক্তারের অনুমতি ছাড়া দোকান থেকে হাই প্রেসার এর ওষুধ কিনে
থাকেন। তবে এটা জানা দরকার উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ডাক্তাররা রোগীর অবস্থা
বুঝে বিভিন্ন শ্রেণির ওষুধ দিয়ে থাকেন। প্রত্যেকটি শ্রেণি ভিন্ন ভিন্নভাবে
কাজ করে, এবং রোগীর বয়স, কিডনির অবস্থা, ডায়াবেটিস বা অন্যান্য শারীরিক
অবস্থা বিবেচনা করে ডাক্তার সঠিক ওষধ বেছে নেন। নিচে সহজভাবে এই শ্রেণিগুলো
এবং প্রচলিত কিছু ওষুধের নাম ধাপে ধাপে বলা হলোঃ
-
এসিই ইনহিবিটর জাতীয় ওষুধঃ এই শ্রেণির ওষুধ রক্তনালী শিথিল করে রক্ত
চলাচল সহজ করে দেয়। এই শ্রেণিতে সাধারণত রামিপ্রিল, এনালাপ্রিল ও
লিসিনোপ্রিল নামের ওষুধ পাওয়া যায়।
-
এআরবি জাতীয় ওষুধঃ এই শ্রেণির ওষুধও রক্তনালী প্রসারিত রাখতে সাহায্য
করে, তবে এটি একটু ভিন্নভাবে কাজ করে। এই শ্রেণিতে লোসারটান, টেলমিসারটান
ও ভালসারটান নামের ওষুধ বেশি প্রচলিত।
-
ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকারঃ এই ওষুধগুলো রক্তনালীর পেশি শিথিল করে দেয়,
যার ফলে রক্ত সহজে চলাচল করতে পারে। এই শ্রেণিতে আমলোডিপিন ও নিফেডিপিন
নামের ওষুধ সাধারণত ব্যবহৃত হয়।
-
বিটা ব্লকারঃ এই ওষুধগুলো হৃদস্পন্দনের গতি কমিয়ে হৃদপিণ্ডের ওপর চাপ
কমায়। এই শ্রেণিতে অ্যাটেনোলল, বিসোপ্রোলল ও মেটোপ্রোলল নামের ওষুধ
পাওয়া যায়।
-
ডাইইউরেটিক বা মূত্রবর্ধকঃ এই ওষুধগুলো শরীর থেকে বাড়তি লবণ ও পানি বের
করে দিয়ে রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। এই শ্রেণিতে
হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইড ও ফুরোসেমাইড নামের ওষুধ প্রচলিত।
এখানে যে উল্লেখিত নামগুলো আছে তা শুধু ওষুধের শ্রেণি সম্পর্কে ধারণা দেওয়ার
জন্য দেওয়া হয়েছে। তবে মনে রাখবেন, কোন রোগীর জন্য কোন ওষুধ, কী মাত্রায়
এবং কতদিন প্রয়োজন তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে সেই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার
ওপর। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ও প্রেসক্রিপশন ছাড়া নিজে থেকে কোনো ওষুধ শুরু
করা বা বন্ধ করা কখনোই নিরাপদ না।
দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর উপায় সর্ম্পকে প্রশ্ন FAQ
প্রশ্নঃ কী খেলে তাড়াতাড়ি হাই প্রেসার কমে?
উত্তরঃ হাই প্রেসার হঠাৎ বেড়ে গেলে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, এক
গ্লাস পানি খাওয়া, শান্ত জায়গায় বসে বিশ্রাম নেওয়া এবং বিটরুট বা
তেঁতুলের পানি খেলে কিছুটা দ্রুত স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে। তবে রক্তচাপ
যদি অনেক বেশি বেড়ে যায় বা বারবার এমন হতে থাকে, তাহলে ঘরোয়া উপায়ের
ওপর নির্ভর না করে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
প্রশ্নঃ প্রেসার বেশি হলে কি করণীয়?
উত্তরঃ প্রেসার বেড়ে গেলে প্রথমে শান্ত থাকা জরুরি, কারণ উত্তেজিত হলে চাপ
আরও বেড়ে যেতে পারে। শুয়ে বা বসে বিশ্রাম নিন, গভীর শ্বাস নিন এবং
লবণযুক্ত বা তেলে ভাজা খাবার এড়িয়ে চলুন। যদি রক্তচাপ অস্বাভাবিকভাবে
বেশি থাকে বা সাথে মাথাব্যথা, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্টের মতো লক্ষণ দেখা
দেয়, তাহলে দেরি না করে ডাক্তারের পরার্মশ নেওয়া উচিত।
প্রশ্নঃ লেবু খেলে কি হাই প্রেসার কমে?
উত্তরঃ না, লেবু খেলে রক্তচাপ বাড়ে না, বরং এতে থাকা পটাশিয়াম ও ভিটামিন
সি রক্তনালী স্বাস্থ্যকর রাখতে সাহায্য করে। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে বরং
সহায়ক ভূমিকা রাখে। তবে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকলে খালি পেটে বেশি লেবু
পানি না খাওয়াই ভালো।
প্রশ্নঃ ডাব খেলে কি প্রেসার বাড়ে না কমে?
উত্তরঃ ডাব খেলে রক্তচাপ কমতে সাহায্য করে, বাড়ে না। ডাবের পানিতে থাকা
পটাশিয়াম রক্তনালী শিথিল রাখে এবং সোডিয়ামের ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে দেয়।
তবে কিডনির সমস্যা থাকলে ডাবের পানি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া
ভালো।
প্রশ্নঃ উচ্চ রক্তচাপ কমাতে তেঁতুল কি সাহায্য করে?
উত্তরঃ হ্যাঁ, তেঁতুলে থাকা পটাশিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তনালী শিথিল রাখতে ও সোডিয়ামের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সাহায্য করে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তবে এটি কোনো তাৎক্ষণিক ওষুধের বিকল্প নয়, বরং একটি সহায়ক ঘরোয়া উপায় হিসেবে নিয়মিত ও পরিমিতভাবে খাওয়া উচিত।
দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর উপায় সর্ম্পকে শেষকথা
উচ্চ রক্তচাপ বা দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর প্রাকৃতিক উপায় সর্ম্পকে আমরা
এতক্ষণ আলোচনা করেছি যেখানে হাই প্রেসার এর লক্ষণ থেকে শুরু করে কিভাবে হাই
প্রেসার কমানো যায়, কি কি খাবার খেলে কমানো যায় এবং দ্রুত হাই প্রেসার কমানোর
প্রাকৃতিক সকল উপায় নিয়ে তুলে ধরেছি যাতে আপনাদের বুঝতে সুবিধা হয়।
আশা করছি উক্ত আলোচনার পর আপনাদের সকল প্রশ্নের উত্তর পেয়েছেন এবং হঠাৎ হাই
প্রেসার বেড়ে গেলে প্রাকৃতিক ও ঘরোয়া উপায়গুলো ব্যবহার করবেন যাতে তাৎক্ষণিক
কাজে আসে যদি লক্ষল বেশি হয় তা হলে অব্যশই ডাক্তারের কাছে গিয়ে পরার্মশ নিবেন।
আপনার যদি কোনো মতামত থেকে থাকে অবশ্যই কমেন্টে জানাবেন ধন্যবাদ।
টিপস পয়েন্ট আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url