বাংলাদেশের টপ ১০ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (২০২৬) | কোনটা সেরা?

ইন্স্যুরেন্স করার কথা ভাবলেই আমাদের মাথায় প্রথম ভয় আসে বিপদের সময় টাকাটা সত্যি হাতে পাব তো? বাজারে এত সব কোম্পানির মাঝে কোনটা আসল আর কোনটা শুধু মুখের কথা বলে, তা বোঝা সত্যিই কঠিন। 

বাংলাদেশের-টপ-১০-ইন্স্যুরেন্স-কোম্পানি

আপনার কষ্টের টাকা যেন ভুল জায়গায় না আটকে যায়, সেই চিন্তা সহজ করতেই চলুন জেনে নেই, আমাদের দেশের বিমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের টপ ১০ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি কোনগুলো?

পেজ সূচিপত্রঃ বাংলাদেশের টপ ১০ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (২০২৬) | কোনটা সেরা?

ইন্স্যুরেন্স কি ও কেন করবেন?

ইন্সুরেন্স বা বিমা জিনিসটা আসলে আর কিছুই না, বিপদের দিনে আপনার পরিবারের জন্য একটা শক্ত ঢাল। সহজ কথায় বললে, আমরা যেমন বৃষ্টির দিনে ভিজে যাওয়া থেকে বাঁচতে ছাতা মাথায় দিই, বিমা হলো ঠিক তেমনি জীবনের হঠাৎ কোনো বিপদে টাকার অভাব থেকে রক্ষা পাওয়ার একটা সহজ উপায়। আমরা তো আর কেউ জানি না কালকে আমাদের সাথে কি হবে, তাই আগে থেকেই একটু সাবধান থাকা বুদ্ধিমানের কাজ।

অনেকেই ভাবেন বিমা করা মানে প্রতি মাসে বা বছরে শুধু শুধু টাকা নষ্ট করা, কিন্তু সত্যিটা একদম উল্টা। নিজের জীবনের কিংবা কষ্টের গাড়ি-বাড়ির সুরক্ষার কথা চিন্তা করলে বিমার কোনো বিকল্প নাই। হঠাৎ বড় কোনো বিপদ বা অসুখ হলে যাতে হাত পাততে না হয়, তার জন্য বিমা করা খুব দরকার। তাই নিজের ও পরিবারের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য একটা ভালো বিমা থাকা খুব জরুরী।

টপ ১০ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির তালিকা

বাংলাদেশে এখন অনেক বিমা কোম্পানি আছে, তবে সবগুলোর সেবা সাপোর্ট এক নয়। কাস্টমারদের অভিজ্ঞতা, কোম্পানির আর্থিক শক্তি এবং তাড়াতাড়ি টাকা ফেরত দেওয়ার রেকর্ড যাচাই করে বাংলাদেশ বিমা খাতের সেরা ১০টি কোম্পানি তালিকা দেওয়া হলো:
কোম্পানির নাম বিমার ধরণ সুবিধা কার জন্য সবচেয়ে ভালো?
১. মেটলাইফ বাংলাদেশ লাইফ ৯৭%+ দ্রুত ক্লেইম সেটেলমেন্ট ও সেরা সার্ভিস যারা ১০০% নিশ্চিন্তে জীবন বিমা করতে চান
২. সাধারণ বীমা কর্পোরেশন জেনারেল সরকারি প্রতিষ্ঠান, ১০০% টাকার নিরাপত্তা মেগা প্রজেক্ট, ব্যবসা ও বড় সম্পদের সুরক্ষায়
৩. গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স জেনারেল দ্রুত দাবি মেটায় ও সেরা কাস্টমার কেয়ার গাড়ি, স্বাস্থ্য ও ডিজিটাল বিমার জন্য
৪. ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স লাইফ দেশের বিশাল নেটওয়ার্ক ও দ্রুত বোনাস সুবিধা দীর্ঘমেয়াদী পারিবারিক নিরাপত্তার জন্য
৫. গার্ডিয়ান লাইফ লাইফ ও ডিজিটাল অনলাইন প্রসেস, অ্যাপ সুবিধা ও সহজ হেলথ বিমা তরুণ প্রজন্ম ও চাকরিজীবীদের জন্য
৬. ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স লাইফ দেশের অন্যতম পুরোনো ও বিশাল ফান্ড সমৃদ্ধ সঞ্চয় ও পেনশন প্ল্যানের জন্য
৭. ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইসলামী লাইফ সম্পূর্ণ সুদমুক্ত ও শরিয়াহভিত্তিক বিমা যারা ধর্মীয় নিয়ম মেনে বিমা করতে চান
৮. প্রগতি ইন্স্যুরেন্স জেনারেল বিশ্বস্ত সার্ভিস ও বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিমা কর্পোরেট অফিস ও বাণিজ্যিক ব্যবসার জন্য
৯. পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স লাইফ গ্রাম-শহরে সাধারণ মানুষের জন্য সহজ স্কিম ক্ষুদ্র সঞ্চয় ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য
১০. মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স লাইফ বিশ্বস্ত সেবা ও সহজ কিস্তির সুবিধা দীর্ঘমেয়াদী লাইফ প্ল্যান ও ডিপিএস-এর জন্য

সরকারি বনাম বেসরকারি বিমা

সরকারি আর বেসরকারি বিমার মধ্যে মূল তফাতটা হলো আপনার টাকার নিরাপত্তা আর সার্ভিসের গতি। সরকারি বিমা কোম্পানিতে টাকা রাখা একদম ১০০% নিরাপদ, কারণ সরকারের সরাসরি গ্যারান্টি থাকে। কিন্তু ঝামেলা হলো, সরকারি বিমায় কাজের গতি একটু দেরিতে হয়, ক্লেইমের টাকা পেতে বা কোনো কাগজপত্রের ঝামেলা মেটাতে অনেক দিন ঘুরতে হতে পারে।

আরেকদিকে বেসরকারি কোম্পানিগুলো লোকেদের সার্ভিস দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি এগিয়ে থাকে। তাদের অ্যাপ বা অনলাইন সুবিধা থাকায় খুব সহজেই প্রিমিয়ামের টাকা জমা দেওয়া যায় এবং বিপদের দিনে তাড়াতাড়ি টাকা হাতে পাওয়া যায়। তবে বেসরকারি কোম্পানিতে টাকা বিনিয়োগের আগে তারা আইডিআরএ নিবন্ধিত কি না এবং তাদের অতীত রেকর্ড কেমন, সেটা ভালোভাবে দেখে নেওয়া ভালো।

দ্রুত দাবি মেটানোর উপায়

বিমার টাকা বিপদের সময় তাড়াতাড়ি হাতে পাওয়াটাই আসল কথা, কিন্তু অনেকেই নিয়ম না জেনে ভুল করে বসেন। বিমা করার প্রথম দিন থেকেই আপনার পলিসির আসল কাগজপত্র, সবকটি প্রিমিয়াম জমার রসিদ এবং প্রয়োজনীয় মূল এনআইডি কার্ড বা প্রমাণের ফাইলগুলো এক জায়গায় যত্নে গুছিয়ে রাখুন। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে দেরি না করে দ্রুত কোম্পানিকে লিখিতভাবে বা ফোন করে জানাতে হবে, কারণ বেশি দেরি করলে ক্লেইম পাওয়ার প্রক্রিয়া আটকে যেতে পারে।

ক্লেম বা টাকা দাবি করার ফর্মটি জমার সময় সব তথ্য একদম সত্য ও সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। ডাক্তার বা হাসপাতালের কাগজপত্র, মৃত্যুর সনদপত্র বা দুর্ঘটনার প্রমাণ সবকিছুর স্পষ্ট কপি একসাথে জমা দিলে ফাইল বেশিদিন আটকে থাকে না। নিজের একজন পরিচিত ভালো বিমা এজেন্টের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা এবং তার সাহায্য নেওয়াটাও এই টাকা দ্রুত পাওয়ার অন্যতম সহজ উপায়।

লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সুবিধা

জীবন তো আর নিয়মে চলে না, কাল কী হবে তা আমরা কেউ জানি না। লাইফ ইন্স্যুরেন্স বা জীবন বিমা হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যা আপনার অনুপস্থিতিতেও আপনার পরিবারকে বিপদে পড়তে দেয় না।
এর মূল সুবিধাগুলো সহজভাবে বোঝানো হলো:
  • পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা: পরিবারের মূল উপার্জনের মানুষটি না থাকলেও যাতে স্ত্রী বা সন্তানেরা টাকার অভাবে কষ্টে না পড়ে, বিমার পুরো টাকা তাদের সেই সময়টা সামলে নেয়।
  • ভবিষ্যতের বড় খরচের টাকা: সন্তানের পড়াশোনা, তাদের বিয়ে কিংবা নিজের অবসর জীবনের জন্য জমানো টাকা নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে বড় অঙ্কের বোনাসসহ একসাথে পাওয়া যায়।
  • ট্যাক্স বা কর ছাড়: প্রতি বছর বিমার প্রিমিয়ামের টাকা জমা দিলে সরকারি নিয়মে ইনকাম ট্যাক্সে ভালো পরিমাণের ছাড় পাওয়া যায়।
  • বিপদের দিনে লোন সুবিধা: দুই-তিন বছর নিয়মিত প্রিমিয়াম দেওয়ার পর হঠাৎ জরুরি টাকার দরকার পড়লে, বিমা পলিসি জামানত রেখে কোম্পানি থেকেই কম সুদে লোন নেওয়া যায়।
এটি শুধু মৃত্যুর পর টাকা পাওয়ার বিষয় না, বেঁচে থাকা অবস্থায় আপনার কষ্টের টাকাকে দ্বিগুণ করা এবং সঞ্চয় বাড়ানোরও দারুণ একটা মাধ্যম।

জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের সুবিধা

লাইফ ইন্স্যুরেন্স যেখানে জীবনের নিরাপত্তা দেয়, জেনারেল ইন্স্যুরেন্স (নন-লাইফ) সেখানে রক্ষা করে আপনার কষ্টের ধন-সম্পদ, ব্যবসা ও গাড়ি-বাড়ি। সহজ কথায়, নিজের জীবনের বাইরে অন্য যেকোনো জিনিসের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি থেকে বাঁচতে এই বিমা করা হয়। এর প্রধান সুবিধাগুলো হলো:
  • গাড়ির বড় খরচ থেকে রক্ষা: বাইক বা গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট করলে মেরামতের পুরো খরচ বা অন্য কারও ক্ষতির ক্ষতিপূরণ বিমা কোম্পানিই দিয়ে থাকে।
  • ব্যবসা ও মালের নিরাপত্তা: দোকানে বা গুদামে হঠাৎ আগুন লাগলে, চুরি হলে বা মালামাল নষ্ট হয়ে গেলে অপূরণীয় ক্ষতির হাত থেকে ব্যবসা বেঁচে যায়।
  • বিদেশে চিকিৎসার চিন্তা নাই: ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স করা থাকলে বিদেশে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হলে বা পাসপোর্ট অথবা ল্যাগেজ হারালে তার পুরো দায়ভার কোম্পানি নেয়।
  • বাড়ি ও সম্পদের সুরক্ষা: প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা আগুনে ঘরের সাজসজ্জা বা পুরো বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায়।
হঠাৎ আসা যেকোনো বড় দুর্ঘটনা বা অগ্নিকাণ্ডের খরচে যাতে আপনাকে জমানো টাকা শেষ বা পথে বসতে না হয়, জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ঠিক সেখানেই ব্যাকআপ হিসেবে কাজ করে।

বাংলাদেশের-টপ-১০-ইন্স্যুরেন্স-কোম্পানি

হেলথ ইন্স্যুরেন্সের নিয়মাবলি

আজকাল হাসপাতালের যে খরচ, একটা বড় অসুস্থতাই পুরো পরিবারের জমানো সব টাকা শেষ করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তবে হেলথ ইন্স্যুরেন্সের সুবিধা সঠিকভাবে পেতে হলে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চলতে হয়:

১. আগের কোনো রোগ থাকলে তা শুরুতেই জানাতে হবেঃ বিমা করার আগে থেকে আপনার যদি ডায়াবেটিস, প্রেসার বা হার্টের সমস্যা থাকে, তবে ফর্মে তা পরিষ্কারভাবে লিখতে হবে। লুকালে পরে ক্লেইমের সময় টাকা আটকে যেতে পারে।

২. ওয়েটিং পিরিয়ড বা নির্দিষ্ট সময় পার হতে হয়ঃ সাধারণত বিমা করার সাথে সাথেই সব রোগের কভার পাওয়া যায় না। সাধারণ অসুস্থতার জন্য অন্তত ৩০ দিন এবং বড় অপারেশন বা জটিল রোগের জন্য ১ থেকে ২ বছর অপেক্ষা করতে হয় (একে ওয়েটিং পিরিয়ড বলে)।

৩. নেটওয়ার্ক হাসপাতাল থেকে ক্যাশলেস সুবিধাঃ বিমা কোম্পানির তালিকায় থাকা নির্দিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিলে আপনাকে পকেট থেকে টাকা দিতে হবে না, বিমা কোম্পানি সরাসরি হাসপাতালের বিল পরিশোধ করে দেবে।

৪. বিল ও ফাইল জমার নিয়মঃ তালিকাবহির্ভূত হাসপাতালে চিকিৎসা করালে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন, টেস্টের রিপোর্ট, হাসপাতালের মূল ক্যাশ মেমো ও ছাড়পত্র সব যত্নে রেখে নির্দিষ্ট দিনের (যেমন ১৫ বা ৩০ দিন) মধ্যে জমা দিতে হবে।

সঠিক কোম্পানি বাছবেন যেভাবে

বাংলাদেশে শত শত বিমা কোম্পানির মধ্যে কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ তা বুঝবেন কীভাবে? সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো কোম্পানির 'ক্লেইম সেটেলমেন্ট রেট' যাচাই করা। কোম্পানিটি তাদের কাছে আসা আবেদনের মধ্যে শতকরা কতটি টাকা সময়মতো কাস্টমারকে ফেরত দিয়েছে, সেটি দেখা। যে কোম্পানির ক্লেইম সেটেলমেন্ট রেট ৯০% বা তার বেশি, সেটিকে নিরাপদ ধরা যায়।

এছাড়া কোম্পানিটি সরকারের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা IDRA (বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ) দ্বারা অনুমোদিত কি না, তা নিশ্চিতক করতে হবে। পাশাপাশি, তাদের গ্রাহক সেবা কেমন, অনলাইন অ্যাপ সার্ভিস আছে কি না এবং আপনার চেনা-পরিচিত কেউ সেখান থেকে কোনো ঝামেলা ছাড়া টাকা পেয়েছে কি না এই বিষয়গুলো একটু খোঁজ নিলেই আসল সত্য বেরিয়ে আসবে।

বিমা পলিসি নেওয়ার ধাপসমূহ

বিমা করা একদম সহজ কাজ, তবে সঠিক উপায়ে না করলে ভবিষ্যতে ঝামেলার মুখে পড়তে হতে পারে। নিজে নিজে বিমা করার পুরো প্রক্রিয়াটি নিচে ধাপে ধাপে দেওয়া হলো:
  • নিজের চাহিদা ঠিক করা: শুরুতেই ঠিক করুন আপনার জীবন বিমা দরকার, নাকি গাড়ি বা স্বাস্থ্যের বিমা। সেই অনুযায়ী বাজেট নির্ধারণ করুন।
  • উপযুক্ত প্ল্যান বাছাই: পছন্দমতো কোম্পানির ওয়েবসাইট বা প্রতিনিধির সাহায্যে আপনার বাজেটের সাথে মেলে এমন পলিসি বা স্কিম নির্বাচন করুন।
  • (Proposal Form) পূরণ: কোম্পানির দেওয়া ফর্মে আপনার নাম, বয়স, পেশা, নমিনির নাম এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত সত্য তথ্য দিন।
  • মেডিকেল টেস্ট (প্রযোজ্য হলে): বিমার অঙ্ক বা বয়স বেশি হলে কোম্পানি নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিনামূল্যে কিছু শারীরিক পরীক্ষা করাতে বলতে পারে।
  • প্রথম প্রিমিয়াম প্রদান ও রসিদ গ্রহণ: ফর্ম যাচাইয়ের পর অনুমোদন মিললে প্রথম কিস্তির টাকা জমা দিয়ে অফিশিয়াল রসিদ ও পলিসি দলিল বুঝে নিবেন।

 প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ফাইল

বিমা খোলার সময় এবং পরে টাকা তোলার ঝামেলা এড়াতে কিছু কাগজপত্র আগে থেকেই রেডি রাখতে হয়। কাগজপত্র ভুল বা অসম্পূর্ণ থাকলে পুরো প্রসেস আটকে যেতে পারে। যা যা সাথে প্রস্তুত রাখতে হবে:
১. গ্রাহকের ছবি ও এনআইডি: আপনার ২-৩ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা পাসপোর্টের ফটোকপি।

২. নমিনির কাগজপত্র: আপনি যাকে নমিনি রাখছেন (স্ত্রী, সন্তান বা মা-বাবা), তার ২ কপি ছবি এবং এনআইডি অথবা জন্মনিবন্ধনের কপি।

৩. আয়ের প্রমাণপত্র: বড় অঙ্কের বিমা হলে আপনার আয়ের উৎস প্রমাণের জন্য ব্যাংকের স্টেটমেন্ট বা টিন (TIN) সার্টিফিকেট লাগতে পারে।

৪. মেডিকেল রিপোর্ট (প্রয়োজন সাপেক্ষে): বয়স বেশি হলে বা বড় বিমার ক্ষেত্রে কোম্পানির অনুমোদিত ডাক্তার বা ল্যাবের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ফাইল।

৫. ব্যাংক একাউন্ট ডিটেইলস: আপনার নাম লেখা ব্যাংক চেকবইয়ের পাতা বা একাউন্টের বিবরণী, যাতে পলিসি মেয়াদ শেষে টাকা সরাসরি একাউন্টে চলে আসে।

প্রিমিয়াম হিসাব করার উপায়

বিমার প্রিমিয়াম বা কিস্তির টাকা আসলে নির্দিষ্ট কোনো ফিক্সড জিনিস না, এটা নির্ভর করে আপনার বয়স, কত বছরের জন্য বিমা করছেন এবং কত টাকার সুরক্ষার বিমা নিচ্ছেন তার ওপর। সাধারণ নিয়ম হলো কম বয়সে বিমা খুললে প্রিমিয়ামের খরচ অনেক কম হয়, আর বয়স যত বাড়ে প্রিমিয়ামের খরচও তত বাড়ে।

ধরুন, আপনার বয়স ২৫ বছর এবং আপনি আগামী ১০ বছরের জন্য ৫ লাখ টাকার বিমা করতে চান। এর জন্য প্রতি মাসে হয়তো আপনার ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকার মতো কিস্তি আসবে। কিন্তু একই বিমা যদি আপনি ৪৫ বছর বয়সে করতে যান, তবে হয়তো মাসে ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকাও লেগে যেতে পারে। আজকাল প্রায় সব বিমা কোম্পানির ওয়েবসাইটেই "Premium Calculator" থাকে, যেখানে বয়স আর টাকার পরিমাণ বসালেই এক ক্লিকে কিস্তির হিসাব বের হয়ে আসে।

বাংলাদেশের-টপ-১০-ইন্স্যুরেন্স-কোম্পানি

বিমা করার আগে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলবেন

বিমা করার সময় মানুষের ছোটখাটো কিছু ভুলেই পরে ক্লেইমের টাকা পাওয়ার সময় বড় ঝামেলা বাঁধে। বিমা করার আগে এই ভুলগুলো একদমই করা যাবে না:
  • রোগের কথা লুকিয়ে রাখা: ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা বা বড় কোনো পুরানো অসুস্থতা থাকলে তা ফর্মে গোপন করবেন না। সত্য না বললে বিপদের সময় কোম্পানি টাকা দিতে অস্বীকার করতে পারে।
  • ফর্ম না পড়ে সই করা: এজেন্টের ওপর অন্ধ বিশ্বাস রেখে ব্ল্যাঙ্ক ফর্মে সই করবেন না বা না বুঝে সই দেবেন না। ফর্মে কী লেখা হচ্ছে তা নিজে পড়ে বা কারও সাহায্য নিয়ে বুঝে নিন।
  • ভুল বা অপূর্ণ নমিনি দেওয়া: নমিনির নাম, এনআইডি নম্বর বা সম্পর্কের তথ্য ভুল দেবেন না। আপনি না থাকলে আপনার পরিবার যাতে সহজে টাকা পায়, সে জন্য যাকে ট্রাস্ট করেন তাকেই নমিনি করুন।
  • জমার রসিদ না রাখা: প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার পর অফিসিয়াল রসিদ (Receipt) যত্নে নিজের কাছে রেখে দিন। রসিদ ছাড়া টাকা জমার কোনো প্রমাণ থাকে না। 
  • বাজেটের বাইরে বড় প্ল্যান নেওয়া: আবেগপ্রবণ হয়ে একবারে বড় কিস্তির বিমা নিবেন না। আপনার মাসে বা বছরে যতটুকু জমানোর সামর্থ্য আছে, ঠিক ততটুকু কিস্তির প্ল্যানই বেছে নিন, যাতে মাঝপথে বন্ধ না হয়ে যায়।

বাংলাদেশের টপ ১০ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি সর্ম্পকে ‍কিছু প্রশ্ন FAQ

প্রশ্রঃ বিমার কিস্তির তারিখ পার হয়ে গেলে কী হবে?
উত্তরঃ নিয়ম অনুযায়ী ৩০ দিনের বাড়তি সময় (Grace Period) পাওয়া যায়। এই সময়ে কোনো জরিমানা ছাড়াই টাকা জমা দেওয়া যায়।

প্রশ্রঃ মাঝপথে বিমা বন্ধ করে দিলে কি জমানো টাকা ফেরত পাব?
উত্তরঃ কমপক্ষে ২-৩ বছর নিয়মিত কিস্তি দিলে 'সারেন্ডার ভ্যালু' হিসেবে জমানো টাকার একটি অংশ ফেরত পাওয়া যায়। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে তুললে কিছু লোকসান হয়।

প্রশ্রঃ কোম্পানি দেউলিয়া বা বন্ধ হয়ে গেলে কাস্টমারের টাকা কি মার যাবে?
উত্তরঃ না, সরকারের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা (IDRA)-এর কড়া নজরদারি থাকে। কোনো কোম্পানি সমস্যায় পড়লে সরকারি নিয়মে অন্য শক্তিশালী কোম্পানি তার দায়িত্ব নেয়।

প্রশ্রঃ একজন মানুষ কি একাধিক বিমা করতে পারে?
উত্তরঃ হ্যাঁ, অবশ্যই। আপনার সামর্থ্য থাকলে আপনি একাধিক কোম্পানি থেকে ভিন্ন ভিন্ন বিমা পলিসি নিতে পারবেন।

প্রশ্রঃ  নমিনি কি বিমার পুরো টাকা পায়?
উত্তরঃ হ্যাঁ, বিমাগ্রহীতার অকালমৃত্যু হলে তার মনোনীত নমিনিই সমস্ত দাবি ও বোনাসের টাকার একমাত্র আইনগত দাবিদার হয়।

প্রশ্রঃ মেয়াদের আগে বিমাগ্রহীতা মারা গেলে কি পুরো টাকা পাওয়া যাবে?
উত্তরঃ হ্যাঁ, মাত্র ১-২টি কিস্তি দেওয়ার পর বিমাগ্রহীতা মারা গেলেও নমিনি পুরো বিমার টাকা এবং প্রযোজ্য বোনাস পেয়ে থাকে।

প্রশ্রঃ বিমার টাকায় কি ইনকাম ট্যাক্স বা কর ছাড় পাওয়া যায়?
উত্তরঃ হ্যাঁ, জীবন বিমার প্রিমিয়াম বাবদ জমা দেওয়া টাকার ওপর সরকারি নিয়মে আয়করে ভালো পরিমাণের ছাড় বা রিবেট পাওয়া যায়।

প্রশ্রঃ বিমা পলিসির আসল কাগজ (Policy Document) হারিয়ে গেলে করণীয় কী?
উত্তরঃ নিকটস্থ থানায় একটি জিডি (GD) করে সেই কপি বিমা অফিসে জমা দিলে তারা কিছু প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে 'ডুপ্লিকেট' পলিসি তুলে দেয়।

প্রশ্রঃ বিমা করার জন্য কি মেডিকেল টেস্ট করানো বাধ্যতামূলক?
উত্তরঃ না, সবার জন্য নয়। তবে বয়স বেশি হলে কিংবা বিমার অঙ্কের পরিমাণ অনেক বড় হলে কোম্পানি ফ্রিতে কিছু শারীরিক পরীক্ষা করাতে বলতে পারে।

প্রশ্রঃ বিমা পলিসি জামানত রেখে কি লোন নেওয়া যায়?
উত্তরঃ হ্যাঁ, সাধারণত অন্তত ২ থেকে ৩ বছর নিয়মিত প্রিমিয়াম জমা দেওয়ার পর বিমা কোম্পানি থেকেই খুব সহজে ও কম সুদে লোন নেওয়া যায়।

বাংলাদেশের টপ ১০ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি সর্ম্পকে লেখকের শেষকথা

বিমা কোনো বাড়তি খরচ বা অপ্রয়োজনীয় বস্তু নয়, এটি হলো বিপদ-আপদে নিজের ও পরিবারের শেষ সম্বল। সঠিক সময়ে সঠিক বিমা নির্বাচন করা থাকলে জীবনের কঠিন সময়গুলোতে অন্তত টাকার চিন্তায় রাতে ঘুম হারাম হতে হয় না। তবে হুটহাট কোনো প্রলোভনে না পড়ে, নিজের প্রয়োজন ও সামর্থ্য বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

এতক্ষণ বাংলাদেশের টপ ১০ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি সর্ম্পকে যা যা আলোচনা করা হয়েছে আশা করছি আপনাদের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি সর্ম্পকে সঠিক ধারণা হয়েছে ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

টিপস পয়েন্ট আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url